1 Answers

উদ্দীপকে উল্লিখিত ফারদিনের পঠিত প্রথম সংজ্ঞাটি হলো "মানুষ হচ্ছে বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব।” ঐ সংজ্ঞাটি চিরাচরিত ও প্রচলিত পদ্ধতিতে দেওয়া হয়েছে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-

সংজ্ঞা হলো কোনো পদের জাত্যর্থের সুস্পষ্ট বিবৃতি। কাজেই যেকোনো জাতিবাচক পদকে তার পরিপূর্ণ জাত্যর্থের সুস্পষ্ট উল্লেখের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা হয়। সাধারণত একটি পদের জাত্যর্থ গঠিত হয় তার আসন্নতম জাতি (Proximate genus) ও বিভেদক লক্ষণ (Differentia) দ্বারা। আসন্নতম জাতির মাধ্যমে পদটি কোনো জাতি বা শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, তা উল্লেখ করা হয় এবং বিভেদক লক্ষণের মাধ্যমে পদটির সাথে অন্যান্য উপজাতির (Species) স্বাতন্ত্র্য নির্দেশ করা হয়। কাজেই এভাবে আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণের উল্লেখের মাধ্যমে যেকোনো পদকেই সংজ্ঞায়িত করা যায়। যেমন: "মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব"- এ দৃষ্টান্তে মানুষ পদটির আসন্নতম জাতি হচ্ছে 'জীব' এবং বিভেদক লক্ষণ হচ্ছে 'বুদ্ধিবৃত্তি'। এখানে 'জীব' শব্দটির মাধ্যমে মানুষকে জীবের অন্তর্গত অন্যান্য উপজাতি থেকে পৃথক করা হয়েছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, সংজ্ঞাদানের একটি অত্যন্ত সহজ কৌশল হচ্ছে কোনো পদের সংজ্ঞায় তার আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করা। বস্তুত জাত্যর্থ দ্বারা সংজ্ঞা প্রদানের এ প্রক্রিয়াটি মূলত মধ্যযুগীয় স্কলাস্টিক যুক্তিবিদরাই প্রবর্তন করেন, যা কালক্রমে সংজ্ঞায়নের চিরাচরিত ও প্রচলিত পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।

 

6 views

Related Questions