1 Answers
প্রাতিষ্ঠানিক সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে উদ্দীপকের পদোন্নতির বিদ্যমান নীতি বা ভিত্তিতে কিছুটা পরিবর্তনের যে অনুরোধ তা অনেকটাই যৌক্তিক।
পদোন্নতি পাওয়ার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে অধিকতর যোগ্যতা ও মেধাসম্পন্ন ব্যক্তিকে নির্বাচন করাকেই যোগ্যতা বা মেধাভিত্তিক পদোন্নতি বলা হয়। এ পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে জটিল হলেও যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মীরা এতে উৎসাহিত হয় এবং কম যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মীরা নিজ যোগ্যতা অর্জনে সচেষ্ট হয়। এক্ষেত্রে যোগ্যতা যাচাইয়ে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা, ব্যবহারিক শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণের ধরন ও সমকাল, স্থায়ী পদে থাকাকালীন কার্যকাল ও অবদান এবং চাকরি অবস্থায় সংগৃহীত ও সংরক্ষিত ব্যক্তিগত রিপোর্ট বিবেচনা করা হয়।
পদোন্নতির জন্য যোগ্য ব্যক্তি বাছাইকালে প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে চাকরিকাল এবং যোগ্যতা উভয় বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে পদোন্নতি প্রদানকেই জ্যেষ্ঠত্ব ও যোগ্যতাভিত্তিক পদোন্নতি বলে। জ্যেষ্ঠত্বভিত্তিক ও যোগ্যতাভিত্তিক এ দুটি পদোন্নতি পদ্ধতির অসুবিধা দূরপূর্বক সার্বিক সুবিধা অর্জনের জন্য উভয় পদ্ধতির সংমিশ্রণে বর্তমানকালে অনেক প্রতিষ্ঠানেই এ ধরনের পদোন্নতি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠত্ব এবং যোগ্যতা উভয়কে আলাদা আলাদ গুরুত্ব প্রদান করে তার ফলাফলের ভিত্তিতে কর্মীকে নির্বাচন করা হয়ে থাকে। এতে পুরাতন কর্মীদের যেমনি ধরে রাখা যায় তেমনি যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মীরাও সন্তুষ্ট থাকে।
উদ্দীপকে রায়হান লিমিটেড একটি বৃহৎ পাটকল। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি তিনজন সহকারী ব্যবস্থাপকের মধ্য হতে মি. সাকিবকে ব্যবস্থাপক হিসেবে পদোন্নতি দেয়। মি. সাকিব গত ৫-৫-২০১০ তারিখে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে অত্র প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। যেখানে একই পদমর্যাদায় অন্য দুইজন সহকারী ব্যবস্থাপক তার এক বছর পূর্ব হতে অত্র প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনেকেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পদোন্নতির বিদ্যমান নীতি বা ভিত্তিতে কিছুটা পরিবর্তন করে জ্যেষ্ঠত্ব ও যোগ্যতাভিত্তিক পদোন্নতির অনুরোধ জানাচ্ছেন। তাই তাদের অনুরোধটি যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।