1 Answers
উদ্দীপকের শেষোক্ত বাক্যটি হলো, ঈশ্বরচিন্তা আদিম মানুষের অনুমানের ফসল। উক্ত বক্তব্যটি যথেষ্ট যুক্তিপ্রসূত। কারণ, আদিম যুগে মানুষের মাঝে কোনো প্রকার ঈশ্বরের ধারণা ছিল না। তারা প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকতো। প্রতিকূল পরিবেশের সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকাই ছিল তাদের লক্ষ্য। এই প্রকৃতি মানুষের সাথে বিরুদ্ধাচরণ করতো বলে মানুষের মাঝে প্রথমে ধারণা আসে এই প্রকৃতি কোনোভাবে বশে আনা যায় কিনা। এর প্রেক্ষিতে মানুষ একসময় প্রকৃতিপূজা শুরু করে। কিন্তু প্রকৃতির প্রতি এই আনুগত্যের ধারণা ধীরে ধীরে মানুষের মাঝে উন্নত হতে থাকে। আনুগত্য পালনের ধারণা উন্নত হয়ে একসময় মানুষের মাঝে ঈশ্বরচিন্তার আবির্ভাব হয়। বিভিন্ন ধর্মের প্রাচীন ইতিহাসে দেখা যায়, মানুষ প্রথমে বহু ঈশ্বরে বিশ্বাস করতো। এই বহু ঈশ্বরের ধারণা উন্নত হয়ে একসময় এক ঈশ্বরের ধারণা প্রতিষ্ঠা করে। এটা একদিনে সম্ভব হয়নি। ধীরে ধীরে হয়েছে। সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে যে, ঈশ্বরচিন্তা ছিল আদিম মানুষের অনুমান। তাদের সেই অনুমান ধীরে ধীরে উন্নত হয়ে বর্তমানের অবস্থায় এসেছে। এজন্য ঈশ্বরচিন্তা | আদিম মানুষের অনুমানের ফসল এ কথার যথেষ্ট যৌক্তিকতা আছে।