1 Answers

উদ্দীপকের শেষোক্ত বাক্যটি হলো- 'যুক্তিবিদ্যাকে কেউ বলেছেন কলা কেউ বলেছেন বিজ্ঞান।' কিন্তু তাতে যুক্তিবিদ্যার পরিধি সংকীর্ণ হয়নি বরং বিস্তৃত হয়েছে। মূলত যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ বর্ণনা করতে গিয়ে বিভিন্ন যুক্তিবিদ উপর্যুক্ত অভিব্যক্তিটি প্রকাশ করেছেন। প্রকৃত বিবেচনায় যুক্তিবিদ্যাকে কলাবিদ্যা বলা যায় কিনা তা নির্ধারণ করতে হলে আমাদের কলাবিদ্যার প্রকৃতি জানতে হবে। কলা কথাটি একাধিক অর্থে প্রয়োগ করা হয়। এক অর্থে, কলা বলতে বোঝায় দক্ষতা ও কর্মনৈপুণ্য। দ্বিতীয় অর্থে, কলা হলো বস্তুজ্ঞানের সুষ্ঠু ব্যবহার বা প্রয়োগ সম্পর্কিত ধারাবাহিক জ্ঞান। যেমন- সংগীতের ছাত্র না হয়েও অনেকে ভালো গান গাইতে পারেন, সৃষ্টি করতে পারেন স্বরলিপি। এ অর্থেই যুক্তিবিদ্যাকে কলাবিদ্যা বলা হয়। কারণ যথার্থ চিন্তা করার কলাকৌশলই যুক্তিবিদ্যা। আবার বিজ্ঞান হিসাবে যদি যুক্তিবিদ্যাকে দেখি, তবে আগে বিজ্ঞান সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে। বিজ্ঞান হচ্ছে প্রকৃতির একটি বিশেষ বিভাগ সম্পর্কে সুনিশ্চিত ও সুশৃঙ্খল জ্ঞান। বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে বিজ্ঞানের দুটি রূপ হচ্ছে আকারগত ও বস্তুগত। যে বিজ্ঞান বস্তুর আকার নিয়ে আলোচনা করে তাকে আকারগত বিজ্ঞান বলে। আবার যে বিজ্ঞান বস্তুর প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করে তাকে বলা হয় বস্তুগত বিজ্ঞান। আবার বিষয়বস্তুর আলোচনার পদ্ধতির ভিত্তিতে বিজ্ঞানের দুটি রূপ হলো বিষয়নিষ্ঠ ও আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান। যেখানে কোনো আদর্শের আলোকে একটি বিষয়ের রূপ কেমন হওয়া উচিত তা আলোচনা করে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান। এভাবে দেখা যায়, যুক্তিবিদ্যাকে কলা ও বিজ্ঞান দুটিই বলা যায়, এতে যুক্তিবিদ্যার পরিধি সংকীর্ণ হয় না বরং বিস্তৃত হয়ে থাকে।

4 views

Related Questions