1 Answers
স্বকীয় নামবাচক পদগুলো জাত্যর্থক নয়। জাত্যর্থ কথাটার অর্থে কিছুটা অস্পষ্টতা থাকার কারণেই এ বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কোনো স্বকীয় নামবাচক পদ আমাদের মনে যেসব বৈশিষ্ট্য জাগায়, যুক্তিসম্মত জাত্যর্থ তা থেকে ভিন্ন। অর্থাৎ স্বকীয় নামগুলো যে গুণগুলোর ইঙ্গিত দেয় তা পদগুলোর যুক্তিসম্মত জাত্যর্থ নয়। জেভন্সের মতে, স্বকীয় নাম বিশেষ ব্যক্তির সথে গুণেরও ইঙ্গিত দেয়। যেমন- 'ইংল্যান্ড' নামটি একটি বিশেষ দেশের অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে, যা ইংল্যান্ডের জাত্যর্থ। তাঁর মতে, স্বকীয় নাম কেবল অর্থহীন চিহ্ন নয়। স্বকীয় নামের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থ দুই-ই আছে। আর এজন্য তা অবশ্যই জাত্যর্থক। মিলের মতে, স্বকীয় নাম অর্থহীন চিহ্নমাত্র। এর দ্বারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পরিমাণ অর্থাৎ ব্যক্ত্যর্থ নির্ধারিত হলেও কোনো গুণ অর্থাৎ জাত্যর্থ প্রকাশ পায় না। যেমন- 'রহিম' নামটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রতীক, যা তাকে অন্যান্য ব্যক্তি থেকে পৃথক করে। এক্ষেত্রে নামটির কোনো তাৎপর্যপূর্ণ অর্থ নেই। তাঁর মতে, জাত্যর্থ বস্তুর প্রকৃতির সাথে জড়িত। কিন্তু নামের সাথে ব্যক্তি বা বস্তুর স্বভাবের কোনো অনিবার্য সম্পর্ক থাকে না। যেমন- বোবা মেয়ের নাম হতে পারে 'সুভাষিণী'। আবার কোনো বিশেষ কারণে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর কোনো বিশিষ্ট নাম দিলেও নামকরণের পর ঐ কারণের সঙ্গে নামের সম্পর্ক নাও থাকতে পারে; যেমন- কাঞ্চন নদীর তীরবর্তী কোনো স্থানের নাম রাখা হলো 'কাঞ্চনপুর'। পরবর্তীতে নদীটি ঐ স্থান থেকে সরে অন্যদিকে প্রবাহিত হলেও ঐ স্থানের নাম একই থাকবে। কাজেই স্বকীয় নামের একটা উদ্দেশ্য থাকলেও তা কেবল অর্থহীন শব্দ। এটি গুণের সাথে সম্পর্কযুক্ত নয় বলে এর শুধু ব্যক্ত্যর্থ আছে, জাত্যর্থ নেই। তাই মিলের মতে, স্বকীয় নামবাচক পদ সম্পূর্ণরূপে অজাত্যর্থক।