1 Answers

উদ্দীপকে বর্ণিত সামিয়ার বাবা গ্রামীণ সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী। পেশাগত দিক থেকে তিনি প্রান্তিক চাষি হলেও যৌথ পরিবারে তাদের বাস যা গ্রামীণ সমাজের ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলে। মূলত তাদের জীবনাচরণ থেকে গ্রাম ও শহর সমাজের ভিন্ন রূপকে চিহ্নিত করা যায়। নিচে শহর ও গ্রাম সমাজের তুলনামূলক পার্থক্য। আলোচনা করা হলো

১. অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে: গ্রাম সমাজে অর্থনীতির ভিত্তি হলো তুমি এবং অধিকাংশ মানুষই কৃষিভিত্তিক পেশানির্ভর। অল্প কিছু ব্যবসায়ী বা চাকরিজীবী লক্ষণীয় হলেও পেশার বৈচিত্র্য দেখা যায় কম। অন্যদিকে শহরে অকৃষিভিত্তি এবং শিল্পমুখী পেশা গ্রহণের প্রবণতা বেশি। শহরে শ্রমবিভাজন ও দৃশ্যমান।

২. সামাজিক ক্ষেত্রেঃ গ্রামীণ সমাজের ভিত্তি গড়ে ওঠে অধিবাসীদের রক্তের সম্পর্কের ওপর, অন্যদিকে শহরে সামাজিক সম্পর্কের পরিধি বিস্তৃত, জটিল ও বৈচিত্র্যময়।

৩. রাজনৈতিক ক্ষেত্রে: গ্রামীণ সমাজের রাজনীতি পরিবার প্রভাবিত হলেও স্থানীয় পঞ্চায়েত এবং ইউনিয়ন কাউন্সিলের প্রাধান্যও লক্ষণীয়। অন্যদিকে শহুরে সমাজে রাজনীতির চর্চা বেশি হয়ে থাকে এবং তা জাতীয় রাজনীতির সাথেই বেশি যুক্ত থাকে।

৪. সামাজিক স্তরবিন্যাস ও গতিশীলতার ক্ষেত্রে: এক্ষেত্রে শহরে উলম্ব গতিশীলতা চোখে পড়ে যা প্রভাবিত ও গতিশীল সম্পর্ক, ক্ষমতা ও সৃজনশীলতার কারণে, পক্ষান্তরে গ্রামীণ জীবন গতিশীলতায় স্থবির। এখানে সামাজিক মর্যাদা নির্ধারিত হয় জন্মসূত্রে।

৫. সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা ক্ষেত্রে: গ্রামীণ সমাজে সাংস্কৃতিক জীবনে বস্তুগত ও অবস্তুগত উভয় দিক থেকে পার্থক্য দেখা যায় এবং শিক্ষার হারও তুলনামূলকভাবে কম। গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থা সরকারনির্ভর। অন্যদিকে, শহর সমাজে শিক্ষার হার তুলনামূলকভাবে বেশি এবং সাংস্কৃতিক জীবনে শহরবাসীর মানসিকতা ও বুচির ছাপ দেখা যায়।

তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত সামিয়া ও তার পরিবারের প্রতিনিধিত্বকারী সমাজের সাথে শহুরে সমাজের তুলনামূলক মৌলিক পার্থক্য দৃশ্যমান।

5 views

Related Questions