1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত গ্রামীণ সমাজের বৈশিষ্ট্যসমূহের সাথে নগর সমাজের বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
গ্রামীণ সমাজের অধিক সংখ্যক লোকের পেশা হচ্ছে কৃষি। সেখানকার জনগণ ঐতিহ্যগত প্রথা, বিশ্বাস, দৃষ্টিভঙ্গি, রীতি- নীতি এবং মূল্যবোধে বিশ্বাসী। এ সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সমষ্টিগত চেতনা, ঐক্য এবং এখানে বসবাসরত জনগণের মধ্যে সৌহার্দ্যমূলক সামাজিক সম্পর্ক বিদ্যমান। গ্রামীণ সমাজে সংখ্যাগত দিক থেকে যৌথ পরিবারের সংখ্যাগরিষ্ঠতাই লক্ষণীয়। গ্রামীণ এলাকায় ভূমির তুলনায় জনসংখ্যার ঘনত্ব কম। এ ছাড়া সেখানে স্তরবিন্যাসের আধিক্য, সামাজিক গতিশীলতার হার এবং সামাজিক পরিবর্তনের গতি কম থাকে।
অন্যদিকে শহরে জনসংখ্যার ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। সেখানকার জনগণ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। তবে অধিকাংশ জনগণের পেশাই অকৃষিজ। শহর এলাকায় একক পরিবারের প্রাধান্য বেশি পরিলক্ষিত হয়। এখানকার জনগণ জ্ঞান, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মর্যাদা লাভ করে থাকে। শহুরে সমাজে শিক্ষা, চাকরি সব ক্ষেত্রেই নারী পুরুষের সহাবস্থান লক্ষণীয়। শহরে প্রযুক্তির পর্যাপ্ত ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায় যে, গ্রামীণ ও নগর সমাজের মধ্যে উক্ত পার্থক্য পরিলক্ষিত হলেও দ্রুত নগরায়ণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পার্থক্য দ্রুতই কমে আসছে।