1 Answers

"নগর সংস্কৃতি গ্রামীণ সংস্কৃতি থেকে ভিন্ন"- উক্তিটি বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে যথার্থ।

বাংলাদেশের সংস্কৃতি বলতে প্রধানত গ্রামীণ ও নগর সংস্কৃতিকে বোঝায়, যা পরস্পর থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেমন- নগরে বাড়ি-ঘর নির্মাণে আধুনিক প্রযুক্তি ও উপকরণ ব্যবহার করা হয়। পক্ষান্তরে, গ্রামের বাড়ি-ঘরগুলো মূলত টিন, বাঁশ, ছন, কাঠ ইত্যাদি দিয়ে নির্মিত হয়। বাংলাদেশের নগর সংস্কৃতির পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজসজ্জা বিচিত্র ও বৈচিত্র্যময়। শার্ট, প্যান্ট, কোট, টাই, পাঞ্জাবি, কটি, সালোয়ার কামিজ, শাড়ি ইত্যাদি বৈচিত্র্যময় পোশাক নগরবাসীদের গ্রামবাসীদের থেকে আলাদা করে। নগরের বাসিন্দারা শিল্প ও সাহিত্যে গ্রামের মানুষের চেয়ে অনেকটা পারদর্শী।

নগর সংস্কৃতির একটি স্বতন্ত্র ধরন হলো, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তার নিয়মিত চর্চা, যা কিনা গ্রামীণ সংস্কৃতিতে অনুপস্থিত। আবার গ্রামের মানুষের চেয়ে নগরের মানুষের মধ্যে আন্তরিকতা খুব কম থাকে। নাগরিক জীবনের অর্থনীতি পুরোটাই শিল্প, বাণিজ্য ও চাকরির ওপর নির্ভর করে। পক্ষান্তরে, গ্রামীণ অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। এছাড়া বাংলাদেশের গ্রাম্য রাজনীতি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থ কেন্দ্রিক। অন্যদিকে নগরের রাজনীতি মূলত রাজনৈতিক দলকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। এর পাশাপাশি নগরের মানুষের মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষতা এবং গ্রামের মানুষের মধ্যে ধর্মভীরুতা লক্ষণীয়। তাছাড়া নগরে মর্যাদা অর্জিত, আর গ্রামে মর্যাদা আরোপিত। অর্থাৎ নগরে বংশানুক্রমে মর্যাদার চেয়ে শিক্ষা, সম্পত্তি কিংবা রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে অর্জিত মর্যাদার গুরুত্ব অনেক বেশি।

উপরের আলোচনা থেকে একথা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, ধারণাগত দিক থেকে নগর ও গ্রামীণ সংস্কৃতি এক হলেও বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে উভয় সংস্কৃতির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।

5 views

Related Questions