1 Answers
উদ্দীপকের মি. সাকিব চৌধুরীর এবং হাজেরা খাতুনের অপরাধের সামাজিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন- উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।
উদ্দীপকের উল্লিখিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মি. সাকিব চৌধুরী এবং বস্তিবাসী হাজেরা খাতুন উভয়েই আইনের চোখে অপরাধী। কিন্তু উভয়ের অপরাধের সামাজিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন।
উদ্দীপকের মি. সাকিব চৌধুরী এর অপরাধে লিপ্ত হওয়ার কোনো প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও তিনি ভদ্রবেশি অপরাধে লিপ্ত। এর পিছনের কারণ হিসেবে তার সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ও উচ্চাভিলাষী জীবনের স্বপ্নকেই দায়ী করা যায়। একটা সময় ছিল যখন একজন ধনীর চেয়ে একজন সৎ ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা বেশি ছিল। কিন্তু এখন সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিদেরকে শ্রদ্ধা করলেও তাদেরকে সবাই বোকা ভাবে। আর নিজেদেরকে বোকা হিসেবে চিহ্নিত না করার জন্যই প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও মি. সাকিব চৌধুরী -এর মতো ব্যক্তিরা অপরাধে লিপ্ত হন। আবার অনেকেই রাতারাতি নিজেকে সমাজের উচ্চ ও মর্যাদাবান শ্রেণিতে উন্নীত করতে চায়। ফলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে বিভিন্ন অসৎ উপায়ে টাকা রোজগারের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। যেমনটা উদ্দীপকের মি. সাকিব চৌধুরী করেছেন।
অন্যদিকে হাজেরা খাতুন-এর অপরাধের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণই ভিন্ন। সে মূলত চরম দারিদ্র্যের কারণেই অপরাধে লিপ্ত হয়েছে। হাজেরা খাতুন তার সন্তানের জন্য খাবার যোগাড় করতে না পেরে খাদ্য চুরি করেছে। যদিও কোনো অপরাধকেই সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়, তারপরও এতটুকু বলা যায় যে, হাজেরা খাতুন- এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা যদি ভালো হতো তাহলে হয়তো সে চুরি করতো না।
উপরের আলোচনার পরিসমাপ্তিতে বলা যায়, মি. সাকিব চৌধুরী এবং হাজেরা খাতুন উভয়েই অপরাধী, কিন্তু উভয়ের অপরাধের সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। অতএব প্রশ্নের উক্তিটি যথার্থ।