1 Answers

রফিক মিয়ার প্রতি আরিফ চৌধুরীর সহানুভূতিশীল আচরণ ইসলাম ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে যথার্থ। ইসলাম মানবতা ও শান্তির ধর্ম। সব মানুষ এক আল্লাহর সৃষ্টি। আর মানুষ হিসেবে সবার অধিকার ও মর্যাদা সমান। তাই একজন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের যেসব সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদা প্রাপ্য, একজন প্রতিবন্ধীর ক্ষেত্রেও সেটি প্রযোজ্য। আমাদের সমাজে বিভিন্ন প্রকার প্রতিবন্ধী রয়েছে। কারো হাত নেই, কারো পা নেই, আবার কারো চোখ নেই। প্রতিবন্ধী বলে তাদেরকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ বা কোনো কিছু থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। তাদের সাথে ভালো আচরণ করা এবং তাদের কাজে সহযোগিতা করা আমাদের ধর্মীয় ও নৈতিক কর্তব্য। মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করলে আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট হন আর মানুষের প্রতি অবজ্ঞা বা নিষ্ঠুর আচরণ করলে তিনি অসন্তুষ্ট হন। এ সম্পর্কে রাসুল (স) বলেন, "সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর পরিজন; সুতরাং আল্লাহর কাছে সে ব্যক্তিই প্রিয়, যে তার পরিজনের প্রতি বেশি অনুগ্রহশীল” (মিশকাত)।রাসুল (স) আরো বলেন, “তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি দয়া কর, তাহলে যিনি আসমানে আছেন তিনি (আল্লাহ) তোমাদের দয়া করবেন” (তিরমিযি)। ইসলামের এ নির্দেশনার বাস্তবায়ন আরিফ চৌধুরীর আচরণে ফুটে ওঠেছে। 

উদ্দীপকের রফিক মিয়া দুর্ঘটনায় একটি পা হারিয়ে তার স্বাভাবিক চলাফেরা ও আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। এতে স্ত্রী-পুত্র নিয়ে বেকায়দায় পড়লে শিল্পপতি আরিফ চৌধুরী তাকে নিজের প্রতিষ্ঠানে চাকরির দেন এবং তার প্রতি সদয় আচরণ করতে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দেন। এমনকি তিনি রফিক মিয়ার সন্তানের পড়ালেখার খরচ বহন করারও ঘোষণা দেন। রফিক মিয়া ও তার পরিবারের প্রতি আরিফ চৌধুরীর এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ড ধর্মীয় ও নৈতিকতার দিক থেকে প্রশংসনীয়। পরিশেষে বলা যায়, একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার জন্য আরিফ চৌধুরীর মতো সমাজের ধনী ব্যক্তিদের মানুষের সেবা ও সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে হবে।

5 views

Related Questions