1 Answers
উদ্দীপকে মধু মিয়া তার বাড়ির পুকুরে অন্যান্য মাছের সাথে গলদা চিংড়ির চাষ করেন। অর্থাৎ তিনি কার্প জাতীয় মাছের সাথে গলদা চিংড়ির মিশ্র চাষ করেন।
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন তথা রপ্তানি বাণিজ্যে মৎস্য খাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে চিংড়ি। বিশ্বব্যাপী গলদা চিংড়ির ক্রমবর্ধমান - চাহিদা, স্বাদ এবং মূল্যের কারণে বাংলাদেশে এর চাষ দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাগদা চিংড়ি দেশের উপকূলীয় এলাকা ছাড়া অন্যত্র চাষ করা যায় না। কিন্তু গলদা চিংড়ি দেশের সব জায়গায় চাষ করা সম্ভব, এমনকি অল্প লবণাক্ত পানিতেও চাষ করা যায়। আমাদের দেশে আবহাওয়া ও পানির গুণগতমান গলদা চিংড়ি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। গলদা চিংড়ির চাষ বৃদ্ধি পেলে যেমন কর্মসংস্থান ও আমিষের যোগান বাড়বে তেমনি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ও অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।
চিংড়ি ও কার্পজাতীয় মাছের মিশ্র চাষ করলে অল্প খরচ ও সময় ব্যয় করে একাধিক ফসল লাভ করা যায়। কারণ পুকুরে কিছু প্রাকৃতিক খাদ্য হিসেবে উদ্ভিদ কণা জন্মায় যা চিংড়ি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে না। বরং এসব উদ্ভিদ কণিকা রাতে পানি থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে ফলে পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয় যা চিংড়ির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে চিংড়ি মারা যায়। তাই চিংড়ির সাথে কিছু সিলভার কার্প, কাতলা বা বিগহেড জাতীয় মাছ ছাড়লে এরা এই প্রাকৃতিক খাদ্য খেয়ে অক্সিজেন নিয়ন্ত্রণে রাখে। এসব মাছ চিংড়ির সম্পূরক খাদ্যে ভাগ বসায় না। তাছাড়া চিংড়ি পানির নিচের অংশে থাকে এবং সিলভার কার্প, বিগহেড ও কাতলা মাছ পানির উপরের অংশে থাকে। তাই চিংড়ির সাথে এদের খাদ্য, আশ্রয় ইত্যাদির জন্য কোনো প্রতিযোগিতা হয় না। ফলে চিংড়ির মিশ্রচাষে ফলন ভালো হয়। উপরের আলোচনার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, নিজের আর্থ- সামজিক উন্নয়ন এবং দেশের মৎস্য সম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে মধু মিয়ার উদ্যোগটি যথার্থ ছিল।