যখন বই নিয়ে পড়ার চেষ্টা করি তখনি মনেহয় কত কাল ঘুমাইনা। যদিও বইটি পড়তে খুব ইচ্ছে হচ্ছে। কিন্তু তাতক্ষনিক ঘুমানোর চেষ্টা করেলও তা আর সম্ভব হয়না। এর কারন ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কি?
3132 views

3 Answers

পড়ার সময়ে ঘুম আসবে এটাই স্বাভাবিক। কেননা এসময়ে আমাদের অনেক বেশি ক্লান্ত হয়ে আসে এবং মস্তিষ্ক বিশ্রাম চায়। এক্ষেত্রে মিষ্টি জাতীয় কোনো খাবার মস্তিষ্কে অ্যানার্জি প্রদান করে থাকে। তাই যতটা সম্ভব মিষ্টি জাতীয় খাবার খেতে পারেন। এছাড়া যা যা করতে পারেন : ১। দুপুরে ঘুমে ঘুমাবেন না । ২। রাতের ঘুমটা ভালোমত ঘুমানোর চেষ্টা করুন। ৩। সারাদিন অল্প অল্প করে চার থেকে পাঁচবার খাবেন, বেশি খাবার ঘুম বাড়ায়। তাই বেশি খাবার সম্পূর্ণ রুপে বর্জন করুন। ৪। লাল মাংস, মিষ্টি, ভাত, আম -এগুলো ঘুম বাড়ায়-যথাসম্ভব বর্জন করুন। ৫। শুয়ে শুয়ে বই পড়ার অভ্যাস বাদ দিন। ৬। প্রতিদিন আধাঘন্টা ব্যায়াম করুন -ঘুমানোর আগে হাঁটুন

3132 views

বিস্ময়ের এই প্রশ্নের উত্তর গুলো দেখতে পারেনঃ https://www.bissoy.com/qa/412269/

3132 views

সম্মানিত প্রশ্নকর্তা,

আস্ সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। 

আপনার মন্তব্য  দেখেই বুঝা যাচ্ছে যে, ্আপনি প্রথম উত্তরে সন্তোষ্ট নন। তাই আমার উত্তর দেয়ার চেষ্টা। তবে আমি হয়ত পুরোপুরি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে পারব না। আমার কাছে যে ব্যাখ্যাটা আছে তাই দিচ্ছি।

প্রথমে বলব, ঘুম সত্যিই একটি অতি সাধারণ ও স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে অসময়ে ঘুম বিরক্তির কারণ কিংবা লাইফের ক্ষতির কারণও বটে। তবে ঘুম আসার প্রথম কারণ হলো- ক্লান্তি হতে ঘুম আসে। যদি সারাদিন প্রচুর পরিশ্রম হয় তাহলে আপনার ঘুম আসাটা অস্বাভাবিক কিছুই নয়। দ্বিতীয় কারণ হলো- রাতের ঘুমের মধ্যে অভাব থাকা। অর্থাৎ, যদি এমন হয় আপনি বেশ কয়েক দিন টানা রাতের ঘুমে পুরোপুরি সময় দিচ্ছেন না মানে রাত জাগছেন আর কম ঘুমাচ্ছেন তাহলে ঘুম আসবে আপনার। তৃতীয় যে কারণটা হলো- কোনো বিষয়ে একেবারে নিশ্চিন্ত থাকা। অর্থাৎ যদি এমন হয় তিন দিন পর আপনার পরীক্ষা কিন্তু এ বিষয়ে আপনার বিন্দু মাত্র চিন্তা নেই যে আপনাকে পড়তে হবে, এক্সামে ভালো ফলাফল করতে হবে তাহলে আপনার ঘুম আসবে আপনি যদিও বিকালে ঘুমিয়ে থাকেন না কেন। চতুর্থ আরেকটি কারণ হলো- শারীরিক দুর্বলতা ও স্নায়ুবিক দুর্বলতা। শরীর দুর্বল থাকলে স্নায়ু কোষগুলো এমনিতেই দুর্বল হয়ে পড়ে আর সেটাকে বলে স্ট্রেচ।যেটা প্রথমেই বলেছি ক্লান্তি তবে এই ক্লান্তি পরিশ্রমের পর যে ক্লা্ন্তি আসে সে ক্লান্তি নয়। এটা আপনার শারীরিক দুর্বলতা বসত ক্লান্তি। মূলত এসব কারণেই ঘুম আসে। 

এখন আসুন আরেকটা বিষয় বলি, 

আপনি যদি বিকালে খাওয়ার পর মানে বিকাল বেলা ঘুমাতে যান আর তখন বই পড়তে থাকেন তাহলে আপনার কখনও ঘুম না আসলেও বা বিকালে ঘুমানোর অভ্যাস না থাকলেও ঘুম আসবে। তার কারণ হলো তখন আপনার শরীর বিশ্রামের কারণে শ্রান্তি পাবে ও পাশাপাশি আপনার মন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে ফোকাসড হবে আপনি সেটা নিয়ে ভাবতে থাকবেন আস্তে আস্তে সম্মোহন করবে বইয়ের গল্পগুলো আর তাতে ঘুম আসবে। তবে এই ঘুমের সাথে রাতে পড়ার সময় ঘুম আসার কোনো মিল নেই। তার কারণ উপরের বর্ণিত কারণগুলোই।

আপনার সমস্যা কেবল পড়ার বেলায় হয় কিন্তু রাত জেগে যখন ফেবু  চালান বা মুভি বা নাটক দেখেন তখন কিন্তু হয় না। তার মানে তখন আপনি বারবার  আকুলতা নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন তারপর কি আসবে সেটা দেখা কিংবা জানার জন্য।আপনার শারীরিক সক্রিয়তার সাথে সাথে আপনার মনও সক্রিয় হয়ে ওঠে তাই ঘুম হয় না। 

এখন বলি ঘুম আসলে তা কাটানোর উপায় সম্বন্ধে ঃ

১। প্রথমত যেটা করতে পারেন, চোখে পানি দিয়ে আবার বসতে পারেন। এটাতে কিছু কাজ হবে। ফের আবার যদি ঘুম আসে তাহালে হেঁটে হেঁটে পড়বেন। এটা করলে আমি নিশ্চিত যে আপনার ঘুম আসবে না।কিন্তু আপনি সেটা করবেন না। 

২। যখন ঘুম আসবে তখন লেখালেখা করবেন বিশেষ করে গণিত করবেন। কেননা পৃথিবীতে একমাত্র গণিত নামক কাজটাই ১০০ ভাগ মনোযোগের সাথে করতে হয় আর তাতে আপনার মনের উদাসীন ভাব থাকবে না ‍সুতরাং ঘুম উদাও হয়ে যাবে। চলে গেলে ফের আপনার প্রয়োজনীয় পড়া পড়তে পারেন। 

৩। পড়ায় বসার সময় হতেই জোড়ে জোড়ে পড়বেন। তাতে ঘুম আসবে না। বোরিং বা টায়ারট লাগলে চা না খেয়ে কপি নিয়ে বসবেন। পড়বেন আর পান করবেন একসাথে করবেন। কফি আপনার ঘুম আসতে বাঁধা দিবে কারণ কফিতে থাকা ক্যাফেইন আপনার দুর্বলতা কাটাবে সুতরাং ঘুম হবে না। 

৪।তারপরও যদি ঘুম আসা বন্ধ না হয় তাহলে সন্ধ্যা বেলাতেই আপনি একবার ক্লিয়ার সাউয়ার মানে মন খোলে গোসল করে নেবেন এতে ক্লান্তি দূর হবে। দেখবেন উপকার পাবেন। 

এছাড়া আরও অনেক উপায় আছে ঘুম না আসার। প্রয়োজন হলে জানাবেন তবে এগুলো আগে ব্যবহার করে দেখুন কাজে দেয় কিনা। 

আবারও সবশেষে বলছি, ্উপরের প্রথম কয়েকটি কারণই আপনার পড়তে বসলেই ঘুম আসার কারণ।

আশা করি আপনি খুশি হবেন।

3132 views

Related Questions