1 Answers
ঢাকার আড্ডায় - ঢাকার ইফতার:
আরবি রমযান মাস মুসলমানদের জন্য ইবাদত ও সংযমের মাস । এ মাস মুসলমানদের সংযম শিক্ষা দেয় । তবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বাস্তব চিত্র কিছুটা ভিন্ন । মুসলমানেরা এ মাসে রোজা-ইবাদত করে ঠিকই কিন্তু খাওয়া-দাওয়ায় সংযম করে এ কথাটি এই অঞ্চলের মুসলমানদের বেলায় ঠিক খাঁটে না । ঢাকার বাহারি ইফতারের খ্যাতি বেশ প্রাচীন । ঢাকার ইফতারের কেন্দ্র বিন্দু হচ্ছে চকবাজার । ঢাকাতে বহু অভিজাত খাবার দোকান গড়ে উঠলেও ইফতারের রকমারি খাবার প্রস্তুতে আজো চকবাজারকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি কেউ । রোজার মাসকে ঘিরে ঢাকায় যে ইফতার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে সে বিষয়টিই ছিল ১৩ সেপ্টেম্বর ২০০৮ তারিখে অনুষ্ঠিত ঢাকার আড্ডার বিষয়বস্তু । ঢাকার আড্ডায় ঢাকার ইফতার প্রসঙ্গে আনিস আহমেদ বলেন, হেকিম হাবিবুর রহমানের ‘ঢাকা পাচাশ বরস পেহেলে’ বইটি এ বিষয়ে অনেক মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করলেও তিনি অভিজাত পরিবারের হওয়ায় তাদের ইফতারের রেসিপি অনেকটাই ছিল দিল্লি বা পার্শি ঘরানার । মিষ্টি, শরবত ও বিভিন্ন প্রকার ভাজা-পোড়ার খাদ্য তালিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন ইফতারির রেসিপিতে মুড়ি ভর্তা ছিল এবং এখনো আছে । এটা হচ্ছে ঢাকাইয়াদের একান্ত নিজস্ব সৃষ্টি । মুড়ি ভর্তা তৈরির অন্যতম উপাদান ঘুগনি । এই খাদ্য উপাদানটি পশ্চিম ভারতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক প্রচলন দেখা যায় । এটি তারা তরকারি হিসেবে ব্যবহার করলেও ঢাকায় এর সংমিশ্রণ হয়েছে মুড়ির সাথে । এটি পশ্চিম ভারতীয় ও ঢাকার সংস্কৃতির সমন্বয়ের একটি দিক হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন । এছাড়া সুতি কাবাব, ছোলা, গোল ফুলুরি, পেয়াজু, লেবুর খোসার কুচি , পেয়াজ, পুদিনা পাতা , কাঁচা মরিচ, সরিষার তেল ও অন্যান্য জিনিসের সংমিশ্রণে তৈরি করা হয় মুড়ি মাখা । ছড়াকার আসলাম সানি কৈশোর ও যৌবনে রমজান মাসে গভীর রাতে কাসিদা দলের সদস্য হিসেবে সুরে সুরে রোজাদারদের জাগ্রত করার স্মৃতিকথা উল্লেখ করেন এবং কাসিদা গেয়ে শোনান । তিনি আরো বলেন আগের দিনে আমরা যখন কাসিদা গেয়ে বিভিন্ন বাড়িতে যেতাম তখন তারা জরদা ও পেস্তাবাদাম মিশ্রিত দুধ ও মালাই এর শরবত খেতে দিত । শাহাদাৎ হোসেন নিপু ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করে বলেন ইফতারের বহু ধরণের খাদ্য তালিকার মধ্যে শরবতই ছিল বিভিন্ন রকমের । তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- ইসুফগুল, তোকমা, পেস্তাবাদাম, বেল, তরমুজ, চেনাইয়ের শরবত । মানবজমিনের সাংবাদিক কাজল ঘোষ কলেন- ইফতারি এখন শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয় এটা এখন বাঙালীর সার্বজনীন অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে । সকলের আলোচনায় ঢাকার ইফতার যে একটি নিজস্ব ঘরানায় সৃষ্টি হয়েছে সে কথাটি সুস্পষ্ট হয়েছে । বাঙালিরা বিশ্বের যে প্রান্তেই ইফতারি করুক না কেন ইফতারি বলতে তারা পুরান ঢাকার ইফতারিকেই বোঝে । সময়ের বিবর্তনে বহি:বিশ্বের বহু খাবার ইফতারের তালিকায় ঢুকে পড়লেও ইফতারের আদি পর্বগুলো বাদ পড়ছে না । ঢাকাস্থ প্রায় সকল ধর্ম-বর্ণ-গোত্র
তথ্যসূত্র: ত্রৈমাসিক ঢাকা, ঢাকা কেন্দ্রের মুখপাত্র
https://m.facebook.com/dhakakendra97/posts/1515770905154375