1 Answers

মানুষ জম্মগত ভাবেই আগামীর জন্য সংশয়ে থাকে। যে যেই অবস্থাই থাকুক, ভবিষ্যৎ নিয়ে সবাই শঙ্কিত থাকে। আদি যুগে, যখন মুদ্রার প্রচলন শুরু হয় নাই, তখনো মানুষের মাঝে জমানোর প্রবৃত্তি ছিল। যখন পন্য বিনিময়ের যুগ ছিল, তখন মানুষ যার যতটুকু ক্ষমতা, ততটুকুই পন্য মজুদ করত, খাদ্য মজুদ রাখত ভবিষ্যতের চিন্তায়। বলা যেতে পারে মানবের সুচনা লগ্ন থেকেই জমানোর প্রবৃত্তি প্রত্যেক মানুষের মাঝে বিদ্যমান। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে জমানোর ধরন পাল্টিয়েছে কিন্তু প্রবৃত্তি পাল্টায়নি। যখন স্বর্ন মুদ্রার প্রচলন শুরু হয়েছে, তখন মানুষ পিতল বা তামার হাড়িতে স্বর্ন মুদ্রা জমাত। ইতিহাসের অনেক তথ্য থেকেই তার প্রমান মিলে। যখন থেকে রৌপ ও ধাতব মুদ্রার প্রচলন শুরু হয়। সেই যুগের মানুষেরা এই রৌপ্য ও ধাতব মুদ্রা পিতল, কাসা, তামা ও মাটির পাত্রে জমাত এবং জমানো মুদ্রার পাত্র নিরাপদে রাখার জন্যে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখত। এসব ঘটনার প্রমান পাওয়া যায় বিভিন্ন সময়ে প্রত্ন আবিস্কার থেকে। বাংলাদেশেও পূর্বকালের স্বর্ন, রৌপ্য বা তামা মুদ্রা জমানো পাত্র মাটির নিচে পাওয়া গিয়াছে এমন ঘটনা অনেক আছে। মহাস্থানগড় ও ময়নামতি প্রত্নস্থল থকে স্বর্ন, রৌপ্য ও তামার মুদ্রার পাত্র পাওয়া গিয়াছে। যাহা বর্তমানে যাদুঘরে রক্ষিত আছে। শায়েস্তা খানের আমলে ব্যাপক ভাবে তামার মুদ্রার প্রচলন শুরু হয়। তখন সাধারন মানুষেরা তামার মুদ্রায় লেনদেন করত। ধরাযেতে পারে, সেই সময় থেকে মাটির পাত্রে মুদ্রা জমানোর প্রচলন ব্যাপক ভাবে শুরু হয়। পাকিস্তান আমলে মাটির ব্যাংকে মুদ্রা জমানোর ব্যাপক প্রচলন ছিল। তখনকার মানুষ ঘরের বাশের খুটি কেটে তার মধ্যে মুদ্রা জমাত। বর্তমান সময়ে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের মাঝে মাটির ব্যাংকে ধাতব মুদ্রা কিছুটা অভ্যাস থাকলেও বড়দের মাঝে আর সে অভ্যাস খুজে পাওয়া যায়না। বর্তমান সময়ে লোকেরা ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সঞ্চয়পত্র বা বিভিন্ন আমানতি হিসাবের মাধ্যমে সঞ্চয় গড়ে তুলে।

2525 views

Related Questions