ভাই আমার করণিয় কি?
ভাই আমার এক বন্ধু আমার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে গোপনে ঘাটাঘাটি করে। আমি জানতে পেরে ভীষণ কষ্ট পেয়েছি। কারন সে যে বিষয় নিয়ে আমার ঘাটাঘাটি করে তা আমার জন্য ক্ষতিকর।। আমি তাকে জিজ্ঞাস করলে সে একেবারে অস্বীকার যায় যে, সে কিছুই করছে না। কিন্তু আমি তার প্রমাণ পেয়ে যখন তাকে আমি সাবধান করি, সে বলেছে আর এইরকম করবে না, কিন্তু সে আবারও তা গোপনে করতে থাকে পরে আবার আমি জানতে পারি এর পর আমি তার সাথে বন্ধুত্ত্বের সম্পর্ক নষ্ট করে ফেলেছি।। কারন সে আমাকে বলে আর করবে না কিন্তু আবার সে টা ভুলে গিয়ে আবারও আমার ব্যক্তি বিষয় নিয়ে ঘাটাঘাটি করে। এখন ইসলাম এইখানে কি বলে, আমি কি তার সাথে বন্ধুত্ত্বের সম্পর্ক রাখা উচিত? নাকি তার সাথে যে আমি সম্পর্ক নষ্ট করে ফেলেছি অর্থ্যাৎ আমি তার সাথে এখন আর কোনো কথা বলি না ও যোগাযোগও রাখি না এতে কি আমার গুনাহ হবে? বা আমার কি করণীয়?
3 Answers
সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ ইরানের বিখ্যাত মনীষী শেখ সাদী (রহঃ) এর এ প্রবাদ বাক্যটির মূল বক্তব্য হচ্ছে, একজন উত্তম বন্ধু যেমন জীবনের গতি পাল্টে দিতে পারে, তেমনি একজন অসৎ বন্ধু জীবনকে ধ্বংসের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে দিতে পারে।
ইরানী অপর এক কবি বলেছেন, অসৎ বন্ধু থেকে দূরে থাকো, কেননা সে বিষাক্ত সাপ থেকেও ভয়ংকর।
বিষাক্ত সাপ কেবল তোমার জীবনের ক্ষতি করবে কিন্তু অসৎ বন্ধু তোমার জীবনের সাথে সাথে তোমার ঈমানও শেষ করে দিবে। তাই ইসলাম ধর্মে অসৎ ব্যক্তিদের কাছ থেকে দূরে থাকার জন্য ব্যাপক তাগিদ দেয়া হয়েছে।
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, সৎ সঙ্গী এবং অসৎ সঙ্গীর দৃষ্টান্ত হচ্ছে, মিশকে আম্বরওয়ালা ও হাপরওয়ালার ন্যায়। মিশকে আম্বরওয়ালা তোমাকে কিছু দান করবে কিংবা।তুমি তার কাছ থেকে কিছু সুগন্ধি ক্রয় করবে অথবা তার নিকট থেকে তুমি সুগন্ধি লাভ করবে। আর হাপরওয়ালা তোমার জামা-কাপড় জ্বালিয়ে দেবে কিংবা তার নিকট থেকে তুমি দুর্গন্ধ পাবে। (বুখারী হা/৫৫৩৪; মিশকাত হা/৫০১০)।
এ হাদীস থেকে আমাদের জন্য শিক্ষা হল, চরিত্রবান, সৎ ও ভদ্র দেখে বন্ধু নির্বাচন করতে হবে। খারাপ বন্ধুদের সঙ্গ পরিহার করে চলতে হবে।
পবিত্র কোরআনের সূরা আন নিসার ১৪০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন, যারা আল্লাহর আয়াতের বিপরীতে কথা বলে তাদের সাথে চল না। যদি তাদের সাথে চলাফেরা কর তাহলে তোমরাও তাদের মত হয়ে যাবে। মুনাফিক এবং কাফের সবাইকে আল্লাহ তো জাহান্নামে একত্র করবেন।
শুধু তাই নয়, পবিত্র কোরআনের সুরা ফুসসিলাতের ২৫ নম্বর আয়াতে অসৎ বন্ধুকে আল্লাহর শত্রু হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে সূরা মুদ্দাসসিরের ৪২ ও ৪৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, বেহেশতবাসীরা দোজখবাসীদের জিজ্ঞাসা করবে, তোমরা কেন দোজখের অধিবাসী হলে? জবাবে দোজখবাসীরা কয়েকটি কারণ বলবে। তারমধ্যে একটি হিসেবে তারা বলবে, আমরা এমন লোকদের সাথে চলাফেরা করতাম যারা ছিল অসৎ।
# তার সাথে বন্ধুত্ত্বের সম্পর্ক রাখা না রাখা আপনার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে তার সাথে এখন আর কোনো কথা বা যোগাযোগ না রাখলে এতে গুনাহ হবে না। করণীয় হচ্ছে,
মানুষ তার বন্ধুর আদর্শে গড়ে ওঠে। সুতরাং বন্ধু নির্বাচনের সময় খেয়াল করা উচিত সে কাকে বন্ধু বানাচ্ছে।
আলী (রাঃ) বলেছেন, যদি ভাল লোক খারাপ লোকের সাথে উঠাবসা করে তাহলে তার মাথায়ও খারাপ চিন্তা চলে আসে।
হযরত জাফর সাদিক বলেছেন, একজন মুসলমানের জন্য এটা কখনই ঠিক নয় যে, সে একজন গুনাহগারের সাথে বন্ধুত্ব করবে। কারো মধ্যে ভালো গুণ দেখে বন্ধুত্ব করার পরও যদি তার মধ্যে খারাপ গুণ দেখা যায় তাহলে কি করতে হবে?
এক্ষেত্রে প্রথমে তাকে সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু সে যদি নিজেকে সংশোধন করতে রাজি না হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সে বন্ধুর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।
শিক্ষা: সৎ ও উত্তম চরিত্রের অধিকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে হবে। অসৎসঙ্গ সর্বদা পরিহার করতে হবে।
প্রথমতঃ, আপনার ব্যক্তিগত বিষয় বলতে যদি উত্তম/ভালো কাজ হয়, তাহলে অক্কে। অন্যথায়, যদি মন্দ বা পাপ রিলেটেড হয়, তাহলে আপনার বন্ধু ঘাটাঘাটি করুক বা না করুক, আপনাকে তা ত্যাগ করতে হবে; এক্ষেত্রে বন্ধুত্ব রক্ষা বা ত্যাগ থেকে বড় বিষয় হলো পাপ/মন্দ থেকে বের হওয়া।
আর যদি ব্যক্তিগত বিষয়টা যদি পাপ/মন্দ না হয়, তাহলে আপনার ক্ষেত্রে দুটা পদক্ষেপের যেকোনোটা নিতে পারেন-
১। যদি বন্ধুত্ব রক্ষার কারণে আপনি ক্ষতিগ্রস্থ হন, তাহলে বন্ধুত্ব রক্ষা না করলেও সমস্যা নাই। মন্দ আচরণ করার দরকার নাই, আবার বন্ধুত্ব রক্ষারও দরকার নাই। মনে রাখবেন, ইসলামে রক্ত-সম্পর্কের আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা ফরজ। কিন্তু, অন্য কারো সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ফরজ না, তবে চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু, যদি সেই অন্য কারো সাথে যৌক্তিক কারণে সম্পর্ক ভালো রাখা সম্ভব না হয়, তাহলে গুণাহ হবে না। কারণ, সেই সম্পর্ক বজায় রাখা ফরজ বা ওয়াজিব না।
২। যদি তাকে বুঝিয়ে ভালো করা যায়, তবে সম্পর্ক ভালো রাখতে পারেন। তবে আপনার বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, আপনার সাথে সে মোনাফেকি করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) মোনাফেক-কে বন্ধু হিসেবে রাখেননি। আল্লাহ বলেন, “মোনাফেকের স্থান জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে।” উপরন্তু, মোনাফেক ব্যক্তিকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করলে আপনি নিজে মোনাফেক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এমন ব্যক্তিকে বন্ধু না রাখাই ভালো। এক্ষেত্রে ইসলামে বন্ধুত্বের ফতোয়া খোঁজা বোকামি। কারণ মোনাফেকির কারণে আপনার বন্ধু বন্ধুত্বের যোগ্যতা হারালো।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy