Saad Mahmud. (@smsoyob)

মহানবী (সা:) এর জীবনী ।

smsoyob
May 29, 2020-এ লিখেছেন

মহানবী সা: এর জীবনী 

বিশ্বমানবতার ভীষণ বিপর্যয়ের এক চরম মুহূর্তে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পৃথিবীতে শুভাগমন ঘটে। আজ থেকে দীর্ঘদিন আগে ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ আগস্ট, রবিউল আউয়ালের ১২ তারিখে পবিত্র মক্কা নগরের সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশে স্নেহময়ী মা আমিনার গর্ভে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। এমন এক যুগসন্ধিক্ষণে তাঁর আগমন হয়, যখন সমগ্র আরব দেশ তথা সারা বিশ্ব অজ্ঞানতা ও পাপাচারের ঘোর তমসায় আচ্ছন্ন। নীতির নামে দুর্নীতি, শাসনের নামে শোষণ, ধর্মের নামে অধর্ম ইত্যাদি মনগড়া মতবাদের ফলে সামগ্রিকভাবে মানবসমাজ দুঃসহ বেদনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। এহেন কঠিন দুর্বিষহ অবস্থায় বিশ্বমানবতার মুক্তির সনদ নিয়ে কোনো মহামানবের আবির্ভাবের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হতে থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে শান্তি, মুক্তি, প্রগতি ও সামগ্রিক কল্যাণের জন্য বিশ্ববাসীর রহমত হিসেবে আখ্যায়িত করে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমতরূপে প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত-১০৭) 
মানুষ তখন মানবিক গুণাবলি ও চারিত্রিক আদর্শ হারিয়ে পশুত্বের পর্যায়ে উপনীত হয়েছিল। এ চরম দুর্গতি থেকে মানুষকে উদ্ধার করার জন্য ত্রাণকর্তারূপে বিশ্বনবীর আবির্ভাব অত্যাসন্ন ও অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। তাই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বিশ্বশান্তি, ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য, সংহতি ও মানবতার জাগতিক, পারলৌকিক কল্যাণের সুমহান বাণীবাহক ও মুক্তিদাতারূপে তাঁর সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে সব দেশের, সব যুগের ও সব মানুষের নবী হিসেবে পৃথিবীতে পাঠালেন। সারা বিশ্বের জুলুম, নির্যাতন, অত্যাচার, অবিচার, ফেতনা-ফ্যাসাদ, অন্যায়ভাবে মর্মান্তিক হত্যাযজ্ঞের মূলোৎপাটন ঘটিয়ে তিনি সত্য-ন্যায়ের শিক্ষা ও উত্তম আদর্শ স্থাপন করে জাগতিক শান্তি ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের নিশ্চয়তা বিধান করেন এবং বিশ্বমানবতার কল্যাণ, মুক্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। আল্লাহ তাআলা নবী করিম (সা.)-কে মানবজীবনের সব সমস্যার সমাধানদাতা ও জীবনবিধানস্বরূপ আল-কোরআন প্রদান করে ঘোষণা করেন, ‘আমি তোমাকে সমগ্র মানুষের জন্য শুভ সংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি।’ (সূরা সাবা, আয়াত-২৮)
হজরত মুহাম্মদ (সা.) সুন্দর আচরণ, উত্তম চরিত্র-মাধুর্যের দ্বারা মানবিক গুণাবলি ও সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেন এবং আল্লাহর একত্ববাদের স্বীকৃতি ও তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে মানবজীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অর্জনের পথনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি আল-কোরআনের ঐশী আলোকে আইয়্যামে জাহেলিয়াতের শত শত বর্ষের পুঞ্জীভূত অন্ধকার বিদূরিত করে বিভ্রান্ত-আত্মভোলা মানবজাতিকে সত্য, সরল ও সঠিক পথপ্রদর্শন করেন। বিশ্বের অজ্ঞানতা আর মূর্খতার অন্ধকার দূরীভূত করে তিনি মানবজাতিকে শিক্ষা দিয়েছেন জ্ঞান, মানুষ খুঁজে পেয়েছে পথের দিশা। মহানবী (সা.)-এর অনুপম শিক্ষায় মানুষ আল্লাহর দাসত্ব, রাসুলের আনুগত্য ও অপরাপর মানুষের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষের স্থলে আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি, শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থানসহকারে ভ্রাতৃত্বের মন্ত্রে উজ্জীবিত হলো।
বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত মহানবী (সা.)-এর জীবন হচ্ছে পবিত্র কোরআনের বাস্তব রূপ। মানবজাতির মুক্তি, কল্যাণের দিশারী হিসেবে অবতীর্ণ সবশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ ঐশী ধর্মগ্রন্থ আল-কোরআনের যাবতীয় আদেশ-নিষেধের পূর্ণাঙ্গ বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে বিশ্বনবীর জীবনে। সকল কুসংস্কার, অন্ধত্ব, হিংসা-বিদ্বেষ, নিপীড়ন ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে শোষণ ও বৈষম্যহীন এক ন্যায়ভিত্তিক আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর প্রচারিত ইসলাম মানবজাতিকে কল্যাণ, শান্তি ও প্রগতির দিকনির্দেশনা দিয়েছে। তাই নবী করিম (সা.)-এর অনুপম আদর্শ সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণযোগ্য। অন্ধকার বিদূরিত করে তিনি জ্বেলেছিলেন সত্যের অনির্বাণ আলো। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, পরমতসহিষ্ণুতা, সত্য, ন্যায় ও সাম্যের বাণী প্রচার করে তিনি সারা বিশ্বে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালকে ভয় করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ (সূরা আল-আহযাব, আয়াত-২১)
মুসলমানদের অনুসৃত ধর্মগ্রন্থ আল-কোরআন সমস্যা জর্জরিত মানবসমাজের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, জাতীয়, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক জীবন পর্যন্ত সর্বস্তরের সকল সমস্যার নিখুঁত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাধান পেশ করেছে। মহানবী (সা.)-এর প্রতি অবতীর্ণ আল-কোরআনে জীবন সমস্যার সমাধানে বিবৃত মূল নীতিমালা প্রথমে নবীজি নিজের জীবনে অনুসরণ করেন এবং দুনিয়াবাসীর সামনে জীবন্ত ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তব আদর্শরূপে একে তুলে ধরেন। তিনি নিজের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মাধ্যমে মানবতার পরিপূর্ণ বিকাশকে আল-কোরআনের আলোকে রূপায়িত করেছেন। সুন্দরতম চরিত্রের অধিকারী রাসুলুল্লাহ (সা.) সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত।’ (সূরা আল-কালাম, আয়াত-৪) প্রকৃতপক্ষে রাসুলে করিম (সা.) আল-কোরআনের জীবন্ত রূপ। আল-কোরআনকে চর্চা ও অনুশীলন করতে হলে তাঁকে অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা দিকনির্দেশনা প্রদান করে বলেছেন, ‘আর রাসুল তোমাদের কাছে যা কিছু নিয়ে এসেছেন, তা তোমরা গ্রহণ করো এবং তিনি তোমাদের যা নিষেধ করেছেন তা থেকে তোমরা বিরত থাক।’ (সূরা আল-হাশর, আয়াত-৭) রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও এ সম্পর্কে বাণী প্রদান করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমি আদর্শ আখলাক (চরিত্রাবলি) পরিপূর্ণ করার জন্য প্রেরিত হয়েছি।’ (তিরমিজি)
অতএব, বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত মহানবী (সা.)-এর প্রতি প্রগাঢ় শ্রদ্ধা, অশেষ ভক্তি ও হূদয় নিংড়ানো ভালোবাসা সুদৃঢ় করা, তাঁর রেখে যাওয়া ইসলামি বিধি-বিধান তথা আল্লাহর বাণী পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার মতো ঈমানি চেতনা জাগ্রত করা, যাবতীয় কর্মকাণ্ডে নবী করিম (সা.)-এর সুমহান নীতি, জীবনাদর্শ ও শিক্ষা বাস্তবায়ন করা এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রে নবীজিকে অনুসরণ করা প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মুসলমানের জন্য অত্যাবশ্যক।

দুনিয়ায় মানুষের প্রতিটি অবস্থার জন্য রয়েছে করণীয়। বিশেষ করে মুমিন মুসলমানের জন্য সুখ-দুঃখ, বিপদ-আপদে করণীয় কী হবে সে সম্পর্কে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সঠিক দিক নির্দেশনা রয়েছে। মুলিম উম্মাহ কোন অবস্থায় কোন কাজ কববো আর কোন কাজ করবো না তার বর্ণনা রয়েছে সুন্নাহর এসব নির্দেশনায়।

সুতরাং যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ-বিপর্যয় ঘূর্ণিঝড়, তুফান ও বৃষ্টি হবে তখন মানুষের করণীয় কী হবে? কী আমল করতে হবে? সে সম্পর্কে সুন্নাহর নির্দেশনাই বা কী?

 

- প্রবল বৃষ্টিতে উপকারের দোয়া
প্রবল বৃষ্টিতে যেন মানুষের ক্ষতি না সে জন্য প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রবল বষ্টি হতে দেখলে ৩ শব্দের ছোট্ট একটি দোয়া পড়তেন। আর তাহলো-
اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা সাইয়্যেবান নাফিআ।' (বুখারি)
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি যে বৃষ্টি দিচ্ছেন, তা যেন আমাদের জন্য উপকারি হয়।'

- প্রবল ঘূর্ণিঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতি থেকে মুক্তি দোয়া
প্রবল ঘূর্ণিঝড়-বৃষ্টিতে যদি মানুষের জন জীবনের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে কিংবা ফসল নষ্ট হয় কিংবা চলাচলের রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে যায়, তবে সে অবস্থায় প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আরেকটি দোয়া আছে। আর তাহলো-
اَللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا
উচ্চারণ : `আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা।’ (বুখারি)
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদের থেকে (ঘূর্ণিঝড়, বৃষ্টি) ফিরিয়ে নাও, আমাদের ওপর দিয়ো না।’

একবার মদিনায় অনাবৃষ্টি ও খড়ার কবলে পড়লে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বৃষ্টির জন্য দোয়া করলেন। তারপর এত অধিক পরিমাণ বৃষ্টি হলো যে, সাহাবায়েকেরাম প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জানালেন- হে আল্লাহর রাসুল! বৃষ্টিতে রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাচ্ছে, বাড়ি-ঘর ভেঙে যাওয়ার মতো অবস্থা। তখন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দোয়া পড়লেন। আর আল্লাহ তাআলা বৃষ্টির ক্ষতি থেকে রক্ষা করেন।

- প্রচণ্ড বাতাস ও তুফানে আল্লাহকে ভয় করা
ঘূর্ণিঝড় কিংবা ঘূর্ণি বৃষ্টির আগে যদি প্রবল বাতাস বা তুফানের সৃষ্টি হতো তখন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভিত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়তেন। তিনি বলতেন- আমার আশঙ্কা হয়, এ প্রবল বাতাস বা তুফানের ফলে না জানি আল্লাহর আজাব নেমে আসে কিনা। সে কারণে (যেন আজাব নাজিল না হয়) তিনি আল্লাহকে বেশি বেশি ভয় করতেন এবং অন্যদের ভয় করতে বলেছেন। আল্লাহর ভয় লাভে এ দোয়া পড়া যেতে পারে-
اَللَّهُمَّ اِنِّى اَسْئَلُكَ الْهُدَى وَ التُّقَى وَ الْعَفَافَ وَالْغِنَى
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা ওয়াত্তুক্বা ওয়াল আফাফা ওয়াল গিনা।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে হেদায়েত (পরিশুদ্ধ জীবন) কামনা করি এবং আপনার ভয় তথা পরহেজগারি কামনা করি এবং আপনার কাছে সুস্থতা তথা নৈতিক পবিত্রতা কামনা করি এবং সম্পদ-সামর্থ্য (আর্থিক স্বচ্ছলতা) কামনা করি।

 

- ঘূর্ণিঝড়, প্রবল বৃষ্টি ও তুফান চলাকালীন বলা-
যখন প্রবল বৃষ্টি, তুফান কিংবা ঘূর্ণিঝড় শুরু হয়ে যাবে তখন এক শব্দে আল্লাহর তাআলার রহমত কামনা বলা-
رَحْمَةَ
উচ্চারণ : 'রাহমাতান।'
অর্থ : '(হে আল্লাহ! আপনার) অনুগ্রহ (চাই)।'

কুরআনুল কারিমের বিভিন্ন স্থানে যে বৃষ্টি বর্ষণের কথা এসেছে যে, আল্লাহ তাআলা আসমান থেকে পানি নাজিল করেন, তাহলো রহমতের বৃষ্টির বর্ণনা। সতরাং সব সময় বৃষ্টি ও তুফান চলাকালীন সময়ে রহমত বা অনুগ্রহ লাভে এ আমল করা। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও এ আমলটি করেছেন। বৃষ্টি হলে তিনি 'রাহমাতান' বলতেন।

- বৃষ্টির সময় ও বৃষ্টির পর বলা
বৃষ্টি চলাকালীন সময়ে কিংবা বৃষ্টি থেকে যাওয়ার পর এ ছোট্ট একটি দোয়া পড়া সুন্নাত। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও এ দোয়া পড়তেন এবং অন্যদেকেও পড়তে বলেছেন।
আর তাহলো- 'মুত্বিরনা বি-ফাদলিল্লাহি ওয়া রাহমাতিহি।'
অর্থ : 'আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহে আমরা বৃষ্টি পেয়েছি।'
মানুষের এ বিষয়টি জানার কোনো সক্ষমতা নেই যে, কোন বৃষ্টি মানুষের জন্য উপকারি। আর কোন বৃষ্টি ক্ষতিকর। তাই বৃষ্টির সময় রমহত কামনা করা। কিংবা বৃষ্টির পর তার দয়া আসমান থেকে বৃষ্টি এসেছে এমনটি বলা।

- বৃষ্টির পানি শরীরে লাগানো
বৃষ্টির পানি গায়ে লাগানো সুন্নাত। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার বৃষ্টিতে নেমে পড়েন এবং শরীরে বৃষ্টির পানি লাগান। তবে বৃষ্টিতে বেশি পরিমাণ ভেজা কিংবা অসুস্থ হয়ে যান এমনটি যেন না হয়। হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ মুসলিমে এসেছে-
প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বৃষ্টিতে একবার বের হয়েছিলেন এবং শরীরে পানি লাগিয়েছিলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কেন তিনি এমনটি করেছেন? তখন তিনি বলেছিলেন, 'বৃষ্টিকে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বরকত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।'

সুতরাং বৃষ্টির পানি শরীরে লাগানোর জন্য বৃষ্টির মধ্যে নেমে যাওয়ার দরকার নেই। সম্ভব হলে দু'এক ফোটা পানি শরীরে লাগানো। আ তাতেই এ আমলের হক আদায় হয়ে যাবে।

- বৃষ্টির সময় দোয়া কবুলের প্রার্থণা করা
হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, বৃষ্টির সময় দোয়া কবুল হয়। এ জন্য মুমিন মুসলমানের উচিত নিজেদের সব চাওয়াগুলো পূরণে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা। হাদিসের বিখ্যাত সব গ্রন্থের বর্ণনায় এসেছে-

যে সময়গুলোতে দোয়া কবুল হয় তন্মধ্যে বৃষ্টি নাজিল হওয়ার সময়েও আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করেন। সুতরাং বৃষ্টি বর্ষণের সময়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করা।

মুমিন মুসলমানের উচিত, ঘূর্ণিঝড়, প্রবল বৃষ্টি ও তুফানের সময় উল্লেখিত ৬টি আমল কর। আর তাতে আল্লাহ যাবতীয় বিপদ-আপদ থেকে যেমন হেফাজত করবেন। তেমিন তার কল্যাণ দান করবেন এবং বান্দার দোয়া কবুল করবেন।

ঘূর্ণিঝড়, প্রবল বৃষ্টি ও তুফানের সময় এমন কিছু কাজ মানুষ করে থাকে। যা কোনোভাবেই করা উচিত নয়। এগুলো থেকে বিরত থাকা। আর তাহলো-

- বৃষ্টিকে গালাগাল দেয়া
অনেক সময় ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে মানুষ একে গালাগাল দিতে থাকে। অতিরিক্ত ঝড়-বৃষ্টি হলে মানুষ 'অমুক-তমুক' বৃষ্টি-ঝড় বলে গালাগাল দিতে থাকে। মারাত্মক ধরনের বাজে মন্তব্য করে থাকে। হাদিসে এসেছে-
মানুষ যদি এমন কোনো কিছুকে গালি দেয়, যেগুলো গালি পাওয়ার উযুক্ত নয়, সেগুলোকে গালি দিলে, সে গালি নিজের দিকে ফিরে আসে। অতএব যত বৃষ্টি, তুফান বা ঘূর্ণিঝড় হোক- এগুলোকে গালি দেয়া যাবে না। হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী যত বৃষ্টি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগই হোক না কেন, আল্লাহর কাছে তার ক্ষতি থেকে বাঁচার দোয়া করা। এর রহমতের কামনায় দোয়া করা। এগুলোকে গালি দেয়া যাবে না।

- ঝড়-বৃষ্টিতে গজবের কথা না বলা
প্রবল ঝড় বৃষ্টি শুরু হলেই অনেকে বলে থাকে যে, আল্লাহর গজব শুরু হয়েছে। সেব কথা না বলা। কিংবা অমুক ব্যক্তির কারণে দেশে বা অঞ্চলে গজব নাজিল হয়েছে, এসব না বলা। কারণ আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন যে, এর মধ্যে কি রয়েছে। বরং কুরআনের সে দোয়া করা। আল্লাহ বলেন-
رَبَّنَا اكْشِفْ عَنَّا الْعَذَابَ إِنَّا مُؤْمِنُونَ
উচ্চারণ : 'রাব্বানাকশিফ আন্নাল আজাবা ইন্না মুমিনুন।' (সুরা দুখান : আয়াত ১২)
অর্থ : 'হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের উপর থেকে আপনার শাস্তি প্রত্যাহার করুন, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করছি।'

- ঘূর্ণিঝড় তুফানে আজান
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা বেড়ে গেলে ঘরে ঘরে আজান দেয়ার প্রচলন দেখা যায়। ঘরের মুরব্বিরা নিজের আজান দেন অনেক সময় অন্যকে আজান দিতে বলেন। আসলেই কি ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে আজান দেয়া যাবে কি?

ঘূর্ণিঝড় কিংবা প্রবল ঝড়-তুফানে আজান দেয়া সম্পর্কে কুরআন-সুন্নাহর কোনো দিক-নির্দেশনা নেই। তবে কুরআনুল কারিমে মেঘের গর্জনে আল্লাহর তাসবিহ-এর বর্ণনা রয়েছে এবং ফেরেশতার আল্লাহ ভয়ে তাসবিহ পাঠ করতে থাকে। এ কারণে অনেক ওলামায়ে কেরাম ঝড়-বৃষ্টিতে আল্লাহর স্মরণে আজান দেয়ার কথা বলেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘মেঘের গর্জন তাঁর প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করে এবং ফেরেশতারা তাঁর ভয়ে প্রকম্পিত হয়ে তাসবিহ পাঠ করে; তিনি বজ্রপাত করেন এবং (অনেক সময়) তাকে যার ওপর চান, ঠিক সে যখন আল্লাহ সম্পর্কে বিতণ্ডায় লিপ্ত তখনই নিক্ষেপ করেন। অথচ আল্লাহ তাআলার শক্তি কৌশল ও শক্তি বড়ই জবরদস্ত।’ (সুরা রাদ : আয়াত ১৩)

যদিও নামাজের জন্য আজান দেয়া সুন্নাতে মোয়াক্কাদাহ। আর সব ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে আজান দেয়া তথা আল্লাহর তাসবিহ ঘোষণা মোস্তাহাব আমল বলে উল্লেখ করেছেন ওলামায়ে কেরাম। তবে সরাসরি আজান দেয়াকে কুরআন সুন্নাহর নির্দেশনা বা আমল বলা যাবে না।

আল্লাহ তাআলা সব প্রাকৃতিক দুর্যোগে উল্লেখিত আমলগুলো যথাযথভাবে আদায় করে আল্লাহর ক্ষতি থেকে বাঁচার তাওফিক দান করুন। আর যাতে রয়েছে কল্যাণ ও উপকার তা লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

হ্যাঁ, আছে । আপনি যে অফার কিনেছেন তা পুনরায় কিনতে হবে । তবেই আপনি মেয়াদ উত্তীর্ণ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন । তবে আগের অফার এর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কিনতে হবে ।

ভাই। আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর নিচে দেওয়া হলো- ১। আপনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন কি না তা আপনি ভালো বুঝবেন । আপনি কি আগের থেকে স্বস্তি বোধ করছেন। আপনার দীর্ঘদিন প্রচুর ঘাটতি হয়েছে । এতদিন আপনার শরীরের উন্নতি হতে পারেনি । তবে সব খারাপ কাজ ছাড়ার ফলে আপনার শরীরের উন্নতি হওয়াটায় স্বাভাবিক । ২।না সমস্যা নেই । আপনার ৪ মাসে মাত্র একবার ১ বার স্বপ্নদোষ হওয়াটা কোন সমস্যা না । স্বপ্নদোষ হলেও সমস্যা নেই না হলেও সমস্যা নেই । এটা চিন্তার ব্যাপার না ।আপনার যৌন রোগ নাই ।  ৩। আপনার কোন যৌন চিকিৎসার  প্রয়োজন নেই । যেহেতু আপনি সব খারাপ কাজ ছেড়েই দিয়েছেন তাই কোন চিকিৎসার প্রয়োজন নেই । ৪। এটা সুস্থতার লক্ষন । আপনি হস্তমইথুনে অভ্যস্ত ছিলেন । এই গুলো থেকে বেরিয়ে আশার চেষ্টা করছেন তাই যৌন উত্তেজনা বারবার আপনাকে সারা দিচ্ছে । ফলে দীর্ঘ সময় আপনার সেই উত্তেজনা কাজ করছে । এগুলো সাধারনত হয় । কোন অশ্লীল ছবি চলে আসলে বা ভুলে মেয়েদের দিকে একটু নজর চলে গেলেই বা হালকা একটু যৌন চিন্তা চলে আসলেই আপনার অতীতের মানসিকতা কাজ করে । আপনার খারাপ মানসিকতা রোধ এ সমস্যার সমাধান । এটি সকল প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেদের ক্ষেত্রে যৌন উত্তেজনা কাজ করে ।

আপনাকে সকল খারাপ চিন্তা ভাবনা দূর করতে হবে । আপনার সঠিক বয়স হলে বিয়ে করে নিন । সুস্থ জীবনধারন করুন । আল্লাহ আপনাকে সুস্থ রাখুক।  

সাজিদ নামের অর্থ কী ?

smsoyob
May 25, 2020-এ প্রশ্ন করেছেন

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

ভুমিকা:  বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশির বুক চিরে গাঙ্গেয় অববাহিকায় সগর্বে জেগে উঠা পৃথিবীর বৃহত্তম ব দ্বীপ আমাদের এ প্রিয় বাংলাদেশ। এক লক্ষ সালচল্লিশ হাজার পাঁচশত সত্তর বর্গ কিলোমিটারে উর্বর পলল-সমৃদ্ধ ছোট্ট এই দেশটি রূপবৈচিত্র্যের বিচারে পৃথিবীতে এক অনন্য স্থান দখল করে আছে। সাগরের গর্জন, অসংখ্য নদীর বহমানতা স্থলভাগের সবুজ শ্যামলিমা, সংস্কৃতিক স্বাতস্ত্র্য আর অতুলনীয় ঋতুবৈচিত্র্যের পটভুমিতে এদেশে যে অনুপম দৃশ্যের অবতারণা হয় তা মানুষ মাত্রকে মুহুর্তেই ভাবুক করে তোলে । তাই মনের অজান্তেই কবিমন গেয়ে উঠে। –

“এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রানি সে যে আমার জন্মভূমি।”

সমুদ্র সৈকত: বাংলাদেশের কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। এ ছাড়া কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত বিশ্বের আকর্ষনীয় সমুদ্র সৈকতগুলোর একটি । বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের এক অন্যন্য স্বাক্ষর এ দুটি সমুদ্র সৈকত। ফেনিল সাগরের সুনীল বুকে সূর্যোদয় ও সূর্যোস্তের যে মোহনীয় আবেশ এ দুটি সৈকত সৃষ্টি করে তা দেশি -বিদেশি পর্যটকদেরকে দুর্বার বেগে আকর্ষন করে। এ দুটি স্থানের নন্দনিক সৌন্দর্য প্রতিটি মানুষকে আবেশে উন্মনা করে দেয়।
নদ-নদী ও হাওর-বাঁওড়:  বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। পদ্মা, মেঘনা, ঘমুনা, ব্রহ্মপুত্রসহ অসংখ্য নদী সারাদেশে জলের মতো ছড়িয়ে থেকে এর রূপবৈচিত্র্যে সৃষ্টি করেছে এক অসাধারণ আমেজ। নদনদীর ভূমিকাতেই শস্য-শ্যামল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। মাঠের সবুজ , ফসলের হাসি, কিংবা বন- বনানীর শ্যামলতা নদনদীর জলধারার গৌরববেই প্রকাশ করে। নদীল বুকে পানকৌড়ি, গাংচিলসহ অসংখ্য পাখির জলকেলি আর সারি বেধে বয়ে চলা রং বেরঙের পালতোলা নৌকার দৃষ্টি নন্দন রূপ হৃদয় মনে এক অনির্বচনীয় আনন্দের সৃষ্টি করে। তদুপরি পালতোলা নৌকার উদাস মাঝি আনমনে যখন গেয়ে উঠে-

“মন মাঝি তোর বৈঠা নে-রে
আমি আর বাইতে পারলাম না।”

তখন আমাদের হৃদয়ও যেন হারিয়ে যেতে চায় দূর অজানায় । অপরদিকে পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জজুড়ে অবস্থিত চলনবিল এবং সিলেট অঞ্চলের হাকালুকি হাওরসহ অসংখ্য হাওর -বাওড় এদেশের পরিবেশ ওজীববৈচিত্র্যে বিশিষ্টতা দান করেছে। তাই আজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে সংরক্ষণে এ গুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে।
বিস্তীর্ণ সমভূমি অঞ্চল:  বাংলাদেশের বেশিরভাগ স্থান পলিগঠিত বিস্তীর্ণ সমভূমি অঞ্চল। উর্বর এ সমভূমি অঞ্চলে দৃষ্টিগোচর হয় সবুজের সমারোহ। সমুখের বিস্তীর্ণ মাঠের দিকে তাকালে মনে হয় এ যেন সবুজের বিশাল সমুদ্র। শস্যসম্ভবা তৃণরাশি যখন মৃদুমন্দ বাতাসে আলোড়িত হয় তখন মনে হয় সবুজ ঊর্মিমালা ধেয়ে যাচ্ছে দিগন্তের পানে। আর এমনই কোনো অপরূপ মুহুর্তে কবিমন অকস্মাৎ গেয়ে উঠে-

“ধানের ক্ষেতে বাতাস নেচে যায়
দামাল ছেলের মতো
ডাক দে বলে আয়রে তোরা আয়
ডাকব তোদের কত।”

পাহাড়িয়া অঞ্চল: পাহাড়িয়া অঞ্চল বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধতর করেছে। এ অঞ্চলটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ , সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামজুড়ে বিস্তৃত।ময়মংসিংহের মধুপুরের গড়, গাজীপুরের ভাওয়ালের গড় ও কুমিল্লা লালমাই পাহাড় যেন অপার সৌন্দর্যের আধার। এ  ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িয়া অঞ্চল, গারো পাহাড়ের পাদদেশ ও সিলেটের সবুজে ছাওয়া বিস্তীর্ণ চা বাগানসহ সমগ্র পাহাড়িয়া অঞ্চল জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ।
পল্লি প্রকৃতি: বাংলাদেশ গ্রাম প্রধান দেশ। এখানে শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। প্রকৃতির অপরূপ রূপবৈচিত্র্য গ্রামবাংলাকে ঋদ্ধ করেছে। গ্রামের সৌন্দর্য অকৃত্রিম। যতদূর দৃষ্টি যায় সবুজ মাঠ আর সোনালি শস্যের কাকচক্ষু জলে ফুটে থাকা শাপল কিংবা পদ্মের সৌন্দর্য মানুষকে মুদ্ধ করে। ক্লান্ত রাখালের অপূর্ব বাশিঁর সুর দশদিক আলোড়িত করে। চিরন্তর গ্রামবাংলার এই নয়নাভিরাম স্যেন্দর্য মুগ্ধ কবি গেয়ে উঠেছেন-

“অবিরিত মাঠ, গগন ললাট্, চুমে তব পদধুলি
ছায়া সুনিবিড় .শান্তির নীড়, ছোট ছোট গ্রামগুলি
পল্লব ঘন আম্র কানন রাখালের খেলাগেহ
স্তব্ধ অতল দীঘি কালো জল নিশীখ শীতল স্নেহ।”

ঋতুবৈচিত্র্য:  পৃথিবীর অধিকাংশ দেমের চারটি ঋতু পরিলক্ষিত হয়। এগুলো গ্রীষ্ম, হেমন্ত, শীত, বসন্ত। কিন্তু বাংলাদেশে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঋতু হিসেবে বর্ষা ও শরৎসহ মোট ছয়টি ঋতুর আবির্ভাব ঘটে। আর প্রটিটি ঋতু প্রকৃতিতে বিচিত্র রূপমাধুর্যের সৃষ্টি করে। বছরের শুরুতে নতুনের বার্তা নিয়ে আগমন ঘটে গ্রীষ্মের। এর আগমনে বাংলার প্রকৃতি রুক্ষ, বিবর্ণ ও বিশুষ্ক হয়ে উঠে। হারিয়ে যায় সবুজ প্রকৃতির শ্যামর শোভা । ভয়াল রুদ্র রূপ নিয়ে ধুলোর ঝড় তুলে আসে কালবৈশাখী। প্রকৃতিকে নবরূপে সজ্জিত করার জন্যই বুঝি গ্রীষ্মের এই দুর্দান্ত আগমন। অতঃপর বজ্রের কাড়া-নাকাড়া বাড়িয়ে, বিদ্যুতের পতাকা উড়িয়ে বর্ষা আসে দিগি¦জয়ী যোদ্ধার মতো। প্রকৃতির সমগ্র অবয়বে বর্ষা আনে এক সতেজ কোমলতা। বৃষ্টির অঝোর ধারায় গাছে গাছে, পাতায় পাতায় লাগে শিহরণ, জাগে সজীবতা,। আর এই সজীবতা দোলা দেয় মানব মনকেও। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়-

“এমন দিনে তারে বলা যায়,
এমন ঘনঘোর বরিষায়।”

বর্ষা যখন অলস মন্থর, একঘেয়েমি আর বিষন্ন বিধুর নিঃসঙ্গতায় রূপন্তরিত হয় ঠিক সেই মুহুর্তে মেঘ ও রৌদ্রের লুকোচুরি খেলতে হালকা চপল ছন্দে শরৎ আসে। এ যেন একটু মেঘ, এক পশলা বৃষ্টি , এক ঝলক হাওয়া আর পারক্ষনেই সোনালি রোদ্দুর । এ সময় বাতাসে এক খুশির সুর বেজে উঠে। এরপর আসে হেমন্ত । সাঁঝের পর হালকা কুয়াশায় জোনাকির মিটিমিটি জ্বলার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করা যায় এ ঋতুতেই। এই আলো -আঁধারি কুয়াশা গায়ে মেখেই বড় কুন্ঠিত পদক্ষেপে সমৃদ্ধি নিয়ে কৃষকের দুয়ারে আবির্ভূত হয় হেমন্ত। হেমন্তের উৎসবমুখর গ্রমাবাংলার হিমেল পরশ বুলিয়ে একদিন শীত আসে। প্রকৃতি এ সময় যেন সমস্ত সাজ সজ্জা ফেলে দিয়ে রিক্ত রৈাগীল রূপ পরিগ্রহ করে। অপরদিকে বিচিত্র বর্ণ ও গন্ধের ফুলে ফুলে প্রকৃতির আচঁল ভরে উঠে। অবশেষে মাঘের তুহিন শীতল বন্ধন ছিন্ন করে বেরিয়ে আসে সুসজ্জিতা ফাগুন , আসে বসন্ত তার রাজসিক রুপমাধুর্য নিয়ে । সবুজ কিশলায় বিকশিত হয় পত্রহীন শূণ্য বৃক্ষশালা। অশোক পলাশ কৃষ্ণচুড়া আর শিমুলের বনে যেন আগুন লাগে রক্তরঙিন ফুলের । এভাবে ছয়টি ঋতুর পালাবদলে বাংলার প্রকৃতি হয়ে উঠেছে রুপমাধুর্যের এক অপরুপ লীলাকেন্দ্র।
উপসংহার: সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা আমাদের এই বাংলাদেশের অপরুপ সৌন্দর্য পৃথিবীখ্যাতে। এদেশের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সৌন্দর্যপ্রেমীরা যেমন ঘর ছেড়েছে, তেমনি বিদেশি পর্যটকেরাও ছুটে এসেছে। প্রকৃতির বিচিত্র সৌন্দর্য মানুষের মনের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে, যা যুগে যুগে বাংলায় কালজয়ী গীতি-কাব্য সাহিত্য সৃষ্টিতে অবদান রেখেছে। বাংলার তুলেছে। আর এজন্যই বাংলাদেশে পৃথিবীর অন্যতম সুরম্য লীলা নিকেতন।

ঈদুল আযহা সম্পর্কে ।

smsoyob
May 25, 2020-এ লিখেছেন

ঈদুল আযহা

ঈদুল আযহা মুসলমানদের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসবের অন্যতম। এটি ঈদ আল-কুরবান বা ঈদ আল-নাহ্র নামেও অভিহিত হয়। বাংলাদেশে এটি কুরবানীর ঈদ, বাকরা ঈদ নামে পরিচিত।

ঈদ ও আযহা দুটিই আরবী শব্দ। ঈদ এর অর্থ উৎসব বা আনন্দ। আযহার অর্থ কুরবানী বা উৎসর্গ করা। হযরত ইবরাহীম (আ.) আল্লাহ তা’লার আদেশ পালনের উদ্দেশ্যে প্রাণপ্রিয় জ্যেষ্ঠ পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-কে তাঁর (হযরত ইসমাঈলের) পূর্ণ সম্মতিতে কুরবানী করতে উদ্যত হন (৩৭ঃ ১০২, ১০৭)। মক্কার নিকটস্থ ‘‘মীনা’’ নামক স্থানে ৩৮০০ (সৌর) বছর পূর্বে এ মহান কুরবানীর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাঁর ঐকান্তিক নিষ্ঠায় সন্তুষ্ট হয়ে আল্লাহ হযরত ইবরাহীম (আ.)-কে তাঁর পুত্রের স্থলে একটি পশু কুরবানী করতে আদেশ দেন। আল্লাহর প্রতি অবিচল আনুগত্য ও নজিরবিহীন নিষ্ঠার এ মহান ঘটনা অনুক্রমে আজও মীনায় এবং মুসলিম জগতের সর্বত্র আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে পশু কুরবানীর রীতি প্রচলিত রয়েছে।

উৎসর্গকৃত পশু, যা’ এক আল্লাহর উদ্দেশ্যে যাব্হ করা হয়, আত্মীয়-স্বজন বিশেষত দুঃস্থ দরিদ্রজনের মধ্যে যা’ বিতরণ করে আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক তাঁর সান্নিধ্য লাভ করার চেষ্টা চালান হয়, সে সার্থক প্রচেষ্টার যে আত্মিক আনন্দ তাই ঈদুল আযহা নামে অভিহিত হয়। এ দিনে মীনায় হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর অনুপম কুরবানীর অনুসরণে কেবল হাজীদের জন্য নয়, বরং মুসলিম জগতের সর্বত্র সকল সক্ষম মুসলমানদের জন্য এ কুরবানী করা ওয়াজিব (মতান্তরে সুন্নাঃ মুআক্কাদা)।

ঈদুল আযহা ১০ই যু’ল-হিজ্জা, যে দিন পবিত্র হজ্জব্রত পালনকালে হাজীরা মীনা প্রান্তরে কুরবানী করেন এবং তৎপরবর্তী দুই দিনে, মতান্তরে তিন দিনও (আয়্যাম-আল-তাশরীকে) অনুষ্ঠিত হয়।

কুরবানীর পশু নির্ধারিত বয়সের হতে হবে ও কতকগুলি দৈহিক ত্রুটি (কানা, খোঁড়া, কান-কাটা, শিং-ভাঙ্গা, ইত্যাদি) থেকে মুক্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়। ঈদের নামাযের পর থেকে কুরবানীর সময় আরম্ভ হয়। পরবর্তী দুই দিন (মতান্তরে তিন দিন) স্থায়ী থাকে এবং শেষ দিনের সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়।

উট, গরু, মহিষ অনধিক সাত জনের পক্ষে এবং মেষ, ছাগল, দুম্বা শুধু একজনের পক্ষে কুরবানী দেওয়া জায়েয। বাংলাদেশে প্রধানত গরু, ছাগল ও মহিষ কুরবানী দেওয়া হয়। কখনও কখনও আমদানীকৃত স্বল্পসংখ্যক উটও কুরবানী দেওয়া হয়।

যে ব্যক্তি কুরবানী করেন তাঁর নিজেই যাবহ করা সুন্নাহ্। তাঁর পক্ষে অন্য কেহও যাব্হ করতে পারে। যাব্হ করার সময় সাধারণত পড়া হয় পবিত্র কুরআনের দুটি আয়াত- সূরা আনআম-এর ৮০ নম্বর এবং ১৬৩ নম্বর আয়াত। প্রথমটির অর্থ হলঃ ‘‘আমি আমার মুখ করিলাম যিনি আকাশমন্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছেন তাঁহার প্রতি একনিষ্ঠভাবে এবং আমি মুশরিক নই।’’ দ্বিতীয়টির অর্থ হলঃ ‘‘অবশ্যই আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মরণ, সবই আল্লাহর জন্য যিনি নিখিল বিশ্বের প্রতিপালক, তাঁহার কোনো শরীক নাই।’’ তারপর সাধারণত বলা হয়, ‘‘হে আল্লাহ এ পশু তুমিই দিয়াছ এবং তোমারই জন্য কুরবানী করিতেছি, সুতরাং তুমি ইহা কবুল কর’’, ইত্যাদি। তারপর ‘‘বিছমিল্লাহি আল্লাহু আকবর’’ বলে যাব্হ করা হয়। পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখিত হয়েছে যে, ‘‘এই কুরবানীর রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, ইহার গোশ্তও না, বরং তাঁহার কাছে পৌঁছায় কেবল তোমাদের তাক্ওয়া’’ (২২ঃ৩৭)। জাহিলিয়্যার যুগে প্রতিমার গায়ে বলির রক্ত-মাখানো হতো এবং গোশ্ত প্রতিমার প্রসাদরূপে বিতরণ করা হতো। ক্ষেত্রবিশেষে নরবলি দেওয়ারও প্রথা ছিল। কুরবানী নরবলির বীভৎস প্রথা চিরতরে বিলুপ্ত করে এবং বলি পশুর রক্ত-মাখানো ও প্রতিমার প্রসাদরূপে বিতরণের প্রথারও মূলোচ্ছেদ করল। একই সঙ্গে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল যে, তাক্ওয়ার চূড়ান্ত অর্থ হলো, প্রয়োজন হলে একজন মু’মিন তাঁর সবকিছু, এমন কি নিজের জীবনটিও, আল্লাহর নামে কুরবানী করতে সর্বদায় প্রস্ত্তত। কারণ ‘‘আল্লাহ মু’মিনের জান-মাল ক্রয় করিয়াছেন জান্নাতের বদলে’’ (৯ঃ১০০)। এ জন্যই কুরআন শরীফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছেঃ ‘‘অনন্তর তোমার প্রতিপালক প্রভুর জন্য নামায পড় এবং কুরবানী কর’’ (১০৮ঃ২)। হাদীস শরীফে এর সুস্পষ্ট বিধান বিদ্যমান।

কুরবানীর পর প্রাপ্ত গোশ্তের তিন ভাগের এক ভাগ মালিক, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজন ও বাকি এক ভাগ দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এতে দরিদ্রদের প্রতি ধনীদের দায়িত্ব পালনের একটি সুযোগ ঘটে এবং একই সঙ্গে ধনী দরিদ্রের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। কুরবানীকৃত পশুর চামড়া নিজে ব্যবহার করার বা অন্যকে দান করার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু চামড়া, গোশ্ত, হাড্ডি, চর্বি অর্থাৎ নিজ কুরবানীর কোনো কিছু বিক্রী করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ ভোগ করার জাইয নয় (হিদায়া, আলমগীরী, শামী)। কুরবানীর পশুর চামড়া বা তার অর্থ দরিদ্রদের কিংবা মাদ্রাসা বা এতীমখানার দরিদ্র ছাত্রদের দান করা হয়।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মুসলমানদের ন্যায় বাংলাদেশের মুসলমানেরাও যথাযথ ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় ঈদুল আযহা পালন করে থাকেন। এ সময় মুসলমানরা নতুন পোশাক পরে পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি যায় এবং কুশল বিনিময় করে। প্রত্যেক বাড়িতেই উন্নতমানের খাবার প্রস্ত্তত হয়। অন্য ধর্মাবলম্বীরাও কোথাও কোথাও নিমন্ত্রিত হয়ে এ উৎসবে যোগদান করে। এ উপলক্ষে কয়েকদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। প্রবাসীদের অধিকাংশই নিজ নিজ গ্রামের বাড়ি গিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হয়ে ঈদ উদযাপন করে। বিভিন্ন মসজিদ-ময়দানে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কয়েকদিন যাবৎ রেডিও-টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হয় এবং পত্র-পত্রিকাসমূহে ঈদুল আযহার তাৎপর্য তুলে ধরে মূল্যবান নিবন্ধাদি প্রকাশিত হয়।

হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ (আ.) ও হযরত ইসমাঈল যবিহুল্লাহ (আ.)-এর অতুলনীয় আত্মত্যাগ ও আল্লাহর নির্দেশের প্রতি অবিচল আনুগত্যের ঘটনাটি বিশ্বসাহিত্যের উপর বিশাল প্রভাব বিস্তার করে। শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্য, স্পেন, তুরস্কের ন্যায় মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলের সাহিত্যই নয়, ইউরোপের অমুসলিম সাহিত্যেও এর সুস্পষ্ট প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। সুদূর গ্রীসেও মহাকবি হোমারকে (Homer) এ অসাধারণ আত্মত্যাগের ঘটনা প্রভাবান্বিত করে। বিশ্ববিখ্যাত মহাকাব্য ইলিয়াড (Illiad)-এ বর্ণিত আউলিসে অবরুদ্ধ আগামেমনন (Agamemnon) দেবী ডায়ানাকে (Diana) সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে নিজ কন্যা ইফিজেনিয়া (Iphigenia)-কে বলিদানের সিদ্ধান্ত, শেষ মুহূর্তে ডায়ানা কর্তৃক ইফিজেনিয়ার পরিবর্তে একটি মেষ স্থাপন ও সে মেষের যাবহ, ডায়ানার সন্তুষ্টি লাভ, ইত্যাদি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, মহাকবি হোমার মীনা প্রান্তরে সংঘটিত, কুরবানীর উপ্যাখ্যান দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়েছিলেন। বাংলা সাহিত্যেও ঈদুল আযহার বিপুল প্রভাব পরিলক্ষিত হয়, যার উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অমর রচনা কোরবানী।

রমযানের ফজিলত ও তাৎপর্য ।

smsoyob
May 25, 2020-এ লিখেছেন

ফারসি শব্দ রোজার আরবি অর্থ হচ্ছে সওম, বহুবচনে সিয়াম। সওম বা সিয়ামের বাংলা অর্থ বিরত থাকা। ইসলামী শরীয়তে সওম হল আল্লাহর নির্দেশ পালনের উদ্দেশে নিয়তসহ সুবহে সাদিকের শুরু থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকা।

২য় হিজরীর শাবান মাসে মদীনায় রোজা ফরজ সংক্রান্ত আয়াত নাজিল হয় “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হলো যেভাবে তা ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা সংযমী হও। (সূরা বাকারা, আয়াত-১৮৩)।

সূরা বাকারার ১৮৫ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা আরও বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সেই মাসকে পায় সে যেন রোজা রাখে”।

পবিত্র রমজানের ফজিলত ও মর্যাদা সম্পর্কে হাদিসের কিতাবগুলোতে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এর ভেতর থেকে কিছু হাদিস এখানে উল্লেখ করা হলো-

প্রিয় নবীজি (সা.) এর প্রিয় সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, যখন রমজান মাস আসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। (বুখারী, মুসলিম)

অপর হাদিসে এসেছে, হযরত শাহ্  ইবনে সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (সা.) এরশাদ করেছেন, বেহেশতের ৮টি দরজা রয়েছে। এর মধ্যে ১টি দরজার নাম রাইয়ান। রোজাদার ব্যতিত আর কেউ ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (বুখারী, মুসলিম)

বিখ্যাত হাদিস বিশারদ সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, হুজুর (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসের রোজা রাখবে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমযান মাসের রাতে এবাদত করে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করে কাটাবে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (বুখারী, মুসলিম)

হাদিসে আরো এসেছে, রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন, রোজা ছাড়া আদম সন্তানের প্রত্যেকটি কাজই তার নিজের জন্য। তবে রোজা আমার জন্য। আমি নিজেই এর পুরস্কার দেব। রোজা (জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচার জন্য) ঢাল স্বরুপ।

তোমাদের কেউ রোজা রেখে অশ্লীল কথাবার্তায় ও ঝগড়া বিবাদে যেন লিপ্ত না হয়।

কেউ তার সঙ্গে গালমন্দ বা ঝগড়া বিবাদ করলে শুধু বলবে, আমি রোজাদার।

সেই মহান সত্তার কসম যার করতলগত মুহাম্মদের জীবন, আল্লাহর কাছে রোজাদারের মুখের গন্ধ কস্তুরীর সুঘ্রানের চেয়েও উওম।

রোজাদারের খুশির বিষয় ২টি- যখন সে ইফতার করে তখন একবার খুশির কারণ হয়। আর একবার যখন সে তার রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রোজার বিনিময় লাভ করবে তখন খুশির কারণ হবে। (বুখারী)।

অপর একটি হাদিস হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন, রাসুলে পাক (সা.) বলেছেন, রোজা এবং কোরআন (কেয়ামতের দিন) আল্লাহর কাছে বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে পরওয়ারদিগার! আমি তাকে (রমজানের) দিনে পানাহার ও প্রবৃত্তি থেকে বাধা দিয়েছি। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। কোরআন বলবে, আমি তাকে রাতের বেলায় নিদ্রা হতে বাধা দিয়েছি।সুতরাং আমার সুপারিশ তার ব্যাপারে কবুল করুন। অতএব, উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে (এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে)। (বায়হাকী)

হাদিস শরীফে আরো এসেছে, হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যখন রমজানের প্রথম রাত আসে শয়তান ও অবাধ্য জিনদের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়। দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। অতপর এর কোনো দরজাই খোলা হয় না। বেহেশতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। অতপর এর কোনো দরজাই বন্ধ করা হয় না।

এ মাসে এক আহ্বানকারী আহ্বান করতে থাকে, হে ভালোর অন্বেষণকারী! অগ্রসর  হও। হে মন্দের অন্বেষণকারী! থামো।

আল্লাহ তায়ালা এ মাসে বহু ব্যক্তিকে দোযখ থেকে মুক্তি দেন। আর এটা এ মাসের প্রতি রাতেই হয়ে থাকে। (তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ)।

হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, যখন রমজান মাস উপস্থিত হতো রাসুল (সা.) সমস্ত কয়েদিকে মুক্তি দিতেন এবং প্রত্যেক প্রার্থনাকারীকে দান করতেন। (বায়হাকী)

হাদিসের বইয়ে আরো পাওয়া যায়, নবী করীম (সা.) বলেছেন, কেউ যদি (রোজা রেখেও) মিথ্যা কথা বলা ও খারাপ কাজ পরিত্যাগ না করে তবে তার শুধু পানাহার ত্যাগ করা (অর্থাৎ উপবাস ও তৃষ্ণার্ত থাকা) আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। (বুখারী)

পবিত্র রমজান মাস মহান আল্লাহর সঙ্গে প্রিয় বান্দার প্রেম বিনিময়ের সবচেয়ে উত্তম সময়। এই মাসে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। তাই এ মাসের ফজিলত ও মর্যাদা বেড়ে গেছে আরো বহুগুণ।

রমজানের ফজিলত নিয়ে আরো অনেক হাদিস বিভিন্ন সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে।

হযরত সালমান ফারসী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, একবার রাসুল (সা.) আমাদের শাবান মাসের শেষ তারিখে ভাষণ দান করলেন এবং বললেন, হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের প্রতি ছায়া বিস্তার করেছে এক মহান মাস, মোবারক মাস। এটি এমন মাস যাতে একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তায়ালা এই মাসের রোজাগুলোকে করেছেন (তোমাদের ওপর) ফরজ আর রাতে নামাজ পড়াকে তোমাদের জন্য করেছেন নফল।

এই মাসে যে ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশে ১টি নফল আমল করল সে ওই ব্যক্তির সমান হলো, যে অন্য মাসে ১টি ফরজ আদায় করলো। আর যে ব্যক্তি এই মাসে ১টি ফরজ আদায় করলো সে ওই ব্যক্তির সমান হলো, যে অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আদায় করলো।

এটা ধৈর্য্যের মাস। আর ধৈর্য্যের সওয়াব হলো বেহেশত। এটা সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস। এটা সেই মাস যে মাসে মুমিন বান্দার রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

এ মাসে যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে তা তার জন্য গুনাহ মাফের এবং দোযখের আগুন থেকে মুক্তির কারণ হবে। এছাড়া তার ছওয়াব হবে রোজাদার ব্যক্তির সমান। অথচ রোজাদার ব্যক্তির সওয়াব কমবে না।

এসব শুনে সাহাবীরা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! আমাদের প্রত্যেক ব্যক্তি তো এমন সামর্থ রাখেনা যে রোজাদারকে (তৃপ্তি সহকারে) ইফতার করাবে? রাসুল (সা.) বললেন, আল্লাহ পাক এই ছওয়াব দান করবেন যে রোজাদারকে ইফতার করায় এক চুমুক দুধ দিয়ে, অথবা একটি খেজুর দিয়ে, অথবা এক চুমুক পানি দিয়ে। আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে তৃপ্তির সঙ্গে খাওয়ায় আল্লাহ তায়ালা তাকে হাউজে কাউছার থেকে পানি পান করাবেন যার পর সে পুনরায় তৃষ্ণার্ত হবে না জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত।

এটা এমন পবিত্র মাসের প্রথম দিক রহমত, মাঝের দিক মাগফিরাত, আর শেষ দিক হচ্ছে দোযখ থেকে মুক্তির। যে ব্যক্তি এই মাসে আপন অধীনস্থ দাস-দাসীদের কাজের বোঝা হালকা করে দেবে মহান আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন এবং তাকে দোযখ থেকে মুক্তি দান করবেন। (বায়হাকী)

প্রিয় নবীর প্রিয় সাহাবী হযরত আবু ওবায়দা (রা.) রমজানের গুরুত্ব সম্পর্কে আরেকটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, হুজুর (সা.) এরশাদ করেছেন, রোজা মানুষের জন্য ঢালস্বরুপ যতক্ষণ পর্যন্ত তা ফেড়ে না ফেলা হয় (অর্থাৎ রোজা মানুষের জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে যতক্ষণ পর্যন্ত তা নিয়ম অনুযায়ী পালন করা হয়)। (ইবনে মাজাহ, নাসাঈ)

সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এ সম্পর্কে আরেকটি বর্ণনা এসেছে। তিনি বলেছেন, হুজুর (সা.) এরশাদ করেছেন, অনেক রোজাদার ব্যক্তি এমন রয়েছে যাদের রোজার বিনিময়ে অনাহারে থাকা ব্যতিত আর কিছুই লাভ হয় না। আবার অনেক রাত জাগরণকারী এমন রয়েছে যাদের রাত জাগার কষ্ট ছাড়া আর কিছুই লাভ হয় না। (নেক আমল যদি এখলাস ও আন্তরিকতার সঙ্গে না হয়ে লোক দেখানোর উদ্দেশে হয় তাহলে এর বিনিময়ে কোনো সওয়াব পাওয়া যায় না)। (ইবনে মাজাহ, নাসাঈ)

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) আরো বলেছেন, নবী করীম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে শরীয়ত সম্মত কোনো কারণ ছাড়া রমজানের একটি রোজাও ভাঙে সে রমজানের বাইরে সারাজীবন রোজা রাখলেও এর বদলা হবে না। (তিরমিযী, আবু দাউদ)

রমজানের ফজিলত সম্পর্কে  বিখ্যাত সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, নবী করীম (সা.) বলেছেন, রমজানের জন্য বেহেশত সাজানো হয় বছরের প্রথম থেকে পরবর্তী বছর পর্যন্ত। তিনি বলেন, যখন রমজান মাসের প্রথম দিন উপস্থিত হয় বেহেশতের গাছের পাতা হতে আরশের নিচে বড় বড় চোখ বিশিষ্ট হুরদের প্রতি বিশেষ হাওয়া প্রবাহিত হয়। তখন তারা বলে, হে পালনকর্তা! আপনার বান্দাদের মধ্য হতে আমাদের জন্য এমন স্বামী নির্দিষ্ট করুন যাদের দেখে আমাদের চোখ জুড়াবে এবং আমাদের দেখে তাদের চোখ জুড়াবে ।

রোযা সম্পর্কে ।

smsoyob
May 25, 2020-এ লিখেছেন

রোযা বা রোজা (ফার্সি  روزہ রুজ়ে), সাউম (আরবি صوم স্বাউম্‌), বা সিয়াম ইসলাম ধর্মের  পাঁচটি মূল ভিত্তিক  তৃতীয়। সুবহে সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার,পাপাচার, কামাচার এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকেও বিরত থাকার নাম রোযা। ইসলামী বিধান অনুসারে, প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য  রমযান মাসের প্রতি দিন রোজা রাখা ফরজ, (فرض ফ়ার্দ্ব্‌) যার অর্থ অবশ্য পালনীয়। 

রোযার উৎপত্তি

রোজা শব্দের অর্থ হচ্ছে 'বিরত থাকা'। আর আরবিতে এর নাম সাওম, বহুবচনে সিয়াম। যার শাব্দিক অর্থ হচ্ছে কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার,কামাচার, পাপাচার এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ-বিলাস ও অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে বিরত থাকার নাম রোজা।

রোজার প্রকারভেদ

রোজা পাঁচ প্রকার।

  • ফরজ রোজা: যা আবার চার প্রকার-
    • রমজান মাসের রোজা।
    • কোন কারণ বশত রমজানের রোজা ভঙ্গ হয়ে গেলে তার কাযা আদায়ে রোজা।
    • শরীয়তে স্বীকৃত কারণ ব্যতিত রমজানের রোজা ছেড়ে দিলে কাফ্ফারা হিসেবে ৬০টি রোজা রাখা।
    • রোজার মান্নত করলে তা আদায় করা।
  • ওয়াজিব রোজা: নফল রোজা রেখে ভঙ্গ করলে পরবর্তীতে তা আদায় করা ওয়াজিব।
  • সুন্নত রোজা: মহরম মাসের নয় এবং দশ তারিখে রোজা রাখা।
  • মোস্তাহাব রোজা: প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪, এবং ১৫ তারিখে, প্রতি সাপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবারে, কোন কোন ইমামের মতে শাওয়াল মাসে পৃথক পৃথক প্রতি সপ্তাহে দুটো করে ছয়টি রোজা রাখা মোস্তাহাব। তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে এক সাথে হোক কিংবা পৃথক পৃথক হোক শাওয়ালের ছয়টি রোজা মুস্তাহাব।
  • নফল রোজা: মোস্তাহাব আর নফল খুব কাছাকাছির ইবাদত। সহজ অর্থে নফল হলো যা ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত নয় এমন ইবাদত পূণ্যের নিয়তে করা। রোজার ক্ষেত্রেও তাই। 

রোযার ইতিহাস

 

সূর্যাস্তের সময় মুসলমানগণ ইফতারির মাধ্যমের রোজা ভঙ্গ করেন

কুরআনে ঘোষণা করা হয়েছে,

"হে যারা ঈমান এনেছ তোমাদের ওপর রোযা ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। যাতে করে তোমরা তাক্ওয়া অবলম্বন করতে পার"। (সূরা বাকারা: ১৮৩)

হযরত আদম যখন নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার পর তাওবাহ করেছিলেন তখন ৩০ দিন পর্যন্ত তার তাওবাহ কবুল হয়নি। ৩০ দিন পর তার তাওবাহ কবুল হয়। তারপর তার সন্তানদের উপরে ৩০টি রোযা ফরয করে দেয়া হয়।।

নূহ (আ.)-এর যুগেও রোজা ছিল। কারণ, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন:

হযরত নূহ (আ.) ১ লা শাওয়াল ও ১০ জিলহজ ছাড়া সারা বছর রোযা রাখতেন।

— ইবনে মাজাহ ১৭১৪ (সনদ দুর্বল)

হযরত ইবরাহীমের যুগে ৩০টি রোজা ছিল বলে কেউ কেউ লিখেছেন।

হযরত দাউদ (আ.) এর যুগেও রোযার প্রচলন ছিল। হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় রোযা হযরত দাউদ (আ.)-এর রোযা। তিনি একদিন রোযা রাখতেন এবং একদিন বিনা রোযায় থাকতেন।

আরববাসীরাও ইসলামের পূর্বে রোযা সম্পর্কে কমবেশী ওয়াকিফহাল ছিল। মক্কার কুরাইশগণ অন্ধকার যুগে আশুরার (অর্থাৎ ১০ মুহররম) দিনে এ জন্য রোযা রাখতো যে, এই দিনে খানা কাবার ওপর নতুন গেলাফ চড়ানো হতো।মদীনায় বসবাসকারী ইহুদীরাও পৃথকভাবে আশুরা উৎসব পালন করতো। অর্থাৎ ইহুদীরা নিজেদের গণনানুসারে সপ্তম মাসের ১০ম দিনে রোযা রাখতো।

বাইবেলে রোযা

ইহুদীদের মাঝেও রোযা ছিল আল্লাহ'র আদেশ। মোশি তুর পাহাড়ে চল্লিশ দিন পর্যন্ত ক্ষুৎ-পিপাসার ভিতর দিয়ে অতিবাহিত করেছেন। (যাত্রাপুস্তক:৩৪:২৮) মোশির অনুসারীদের মাঝে চল্লিশ রোযা রাখাকে উত্তম বলে বিবেচনা করা হতো। ইহুদীদের অন্যান্য ছহীফাসমূহের মাঝে অন্যান্য দিনের রোযার হুকুম-আহকামও বিস্তৃতভাবে পাওয়া যায়। (প্রথম শামুয়েল:৭:৬) এবং (যেরেমিয়া:৩৬:৬)

খৃষ্টান ধর্মে বর্তমান কালেও রোযার প্রভাব বিদ্যমান। যীশুও  চল্লিশ দিন পর্যন্ত রোযা রেখেছেন। (মথি:৪:২)

যোহন যিনি যীশুর সমসাময়িক ছিলেন, তিনিও রোযা রাখতেন এবং তার অনুসারীগণের মাঝেও রোযা রাখার রীতির প্রচলন ছিল। (মার্ক ২:১৮)

বাইবেল অনুসারে, যীশুর স্বীয় সময়কালে কিছু সংখ্যক রোযা রাখার অনুমতি বা অবকাশও ছিল। একবার কতিপয় ইহুদী সমবেত হয়ে হযরত যীশুর নিকট এই আপত্তি উত্থাপন করলো যে, তোমার অনুসারীরা কেন রোযা রাখছে না। যীশু এর জবাবে বলেন,

বর সঙ্গে থাকতে কি বিয়ে বাড়ির অতিথিরা উপোস করতে পারে? যেহেতু বর তাদের সঙ্গে আছে তাই তারা উপোস করে না৷ কিন্তু এমন সময় আসবে যখন বরকে তাদের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হবে; আর সেই দিন তারা উপোস করবে৷

বলা হয় যীশু মোশির সময়ের রোযাসমূহকে নয়; বরং শোক পালনার্থে নব্য প্রচলিত রোযার প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন এবং তিনি স্বীয় অনুসারীদেরকে পূর্ণ আন্তরিকতা ও বিশুদ্ধচিত্ততার সাথে রোযা রাখার উপদেশ প্রদান করতেন। বাইবেলে বলা হয়েছে,

‘যখন তোমরা উপবাস কর, তখন ভণ্ডদের মতো মুখ শুকনো করে রেখো না৷ তারা যে উপবাস করেছে তা লোকেদের দেখাবার জন্য তারা মুখ শুকনো করে ঘুরে বেড়ায়৷ আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তারা তাদের পুরস্কার পেয়ে গেছে৷ কিন্তু তুমি যখন উপবাস করবে, তোমার মাথায় তেল দিও আর মুখ ধুয়ো৷ যেন অন্য লোকে জানতে না পারে যে তুমি উপবাস করছ৷ তাহলে তোমার পিতা ঈশ্বর, যাঁকে তুমি চোখে দেখতে পাচ্ছ না, তিনি দেখবেন৷ তোমার পিতা ঈশ্বর যিনি গোপন বিষয়ও দেখতে পান, তিনি তোমায় পুরস্কার দেবেন৷ (মথি:৬:১৬-১৮)

রোজার উদ্দেশ্য

রোজা রাখার উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা, পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং নিজেদের কামনা-বাসনা নিয়ন্ত্রণের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরহেজগারি বা তাকওয়া বৃদ্ধি করা।

কুরআনে বলা হয়েছে,

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো"।

— সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৩

আরও বলা হয়েছে,

"রমযান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে। আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে তবে অন্যান্য দিবসে সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের সহজ চান এবং কঠিন চান না। আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূরণ কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত দিয়েছেন, তার জন্য আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা শোকর কর।"

— সূরা বাকারা: ১৮৫

‘তাকওয়া’ শব্দটির মূল অর্থ ‘রক্ষা করা।’ এর অনুবাদ করা হয়েছে নানাভাবে। যেমন পরহেজগারি, আল্লাহর ভয়, দ্বীনদারি, সৎ কর্মশীলতা, সতর্কতা প্রভৃতি। রোজা ঢালের মতো কাজ করে, যা গোনাহের হাত থেকে বাঁচায়।

রোজার ফযিলত

রমজানের একটি বিশেষ ফজিলত বা মাহাত্ম হচ্ছে,এই পবিত্র রমজান মাসে আল কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। রমজান মাসের রোজা মানুষকে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্তি দেয়,মানুষের কুপ্রবৃত্তি ধুয়ে মুছে দেয় এবং আত্মাকে দহন করে ঈমানের শাখা প্রশাখা সঞ্জিবীত করে। সর্বোপরি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। এই মর্মে মহানবী ইরশাদ করেছেন,

"রোজাদারের জন্য দুটি খুশি। একটি হলো তার ইফতারের সময়, আর অপরটি হলো আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়।"

— (বুখারী ও মুসলিম)  

রোজার শর্ত

রোজার কিছু মৌলিক আচার আছে। যা ফরজ বলে চিহ্নিত। সুস্থ-সবল প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমকে অবশ্যই রোজা রাখতে হবে। কিন্তু শারীরিক অসমর্থতার কারণে সে এ দায়িত্ব থেকে আপাতভাবে মুক্তি পেতে পারে। এর প্রতিবিধানে রয়েছে কাজা ও কাফফারার বিধান। নিচে রোজার ফরজ ও শর্তগুলো দেওয়া হলো-

রোজার ৩ ফরজ :

  • নিয়ত করা
  • সব ধরনের পানাহার থেকে বিরত থাকা
  • যৌন আচরণ থেকে বিরত থাকা।

রোজা রাখার ৪ শর্ত :

  • মুসলিম হওয়া
  • বালেগ হওয়া
  • অক্ষম না হওয়া
  • ঋতুস্রাব থেকে বিরত থাকা নারী।

রোজা ভঙ্গ হলে

বিনা কারণে রোজা ভঙ্গ করলে তাকে অবশ্যই কাজা-কাফফারা উভয়ই আদায় করা ওয়াজিব। যতটি রোজা ভঙ্গ হবে, ততটি রোজা আদায় করতে হবে। কাজা রোজা একটির পরিবর্তে একটি অর্থাৎ রোজার কাজা হিসেবে শুধু একটি রোজাই যথেষ্ট। কাফফারা আদায় করার তিনটি বিধান রয়েছে।

  • একটি রোজা ভঙ্গের জন্য একাধারে ৬০টি রোজা রাখতে হবে। কাফফারা ধারাবাহিকভাবে ৬০টি রোজার মাঝে কোনো একটি ভঙ্গ হলে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে।
  • যদি কারও জন্য ৬০টি রোজা পালন সম্ভব না হয় তবে ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা খাওয়াতে হবে। কেউ অসুস্থতাজনিত কারণে রোজা রাখার ক্ষমতা না থাকলে ৬০ জন ফকির, মিসকিন, গরিব বা অসহায়কে প্রতিদিন দুই বেলা করে পেটভরে খাওয়াতে হবে।
  • গোলাম বা দাসী আজাদ করে দিতে হবে।

যেসব কারণে রমজান মাসে রোজা ভঙ্গ করা যাবে কিন্তু পরে কাজা করতে হয় তা হচ্ছে

  • মুসাফির অবস্থায়
  • রোগ-ব্যাধি বৃদ্ধির বেশি আশঙ্কা থাকলে
  • মাতৃগর্ভে সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে
  • এমন ক্ষুধা বা তৃষ্ণা হয়, যাতে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকতে পারে
  • শক্তিহীন বৃদ্ধ হলে
  • কোনো রোজাদারকে সাপে দংশন করলে।
  • মহিলাদের মাসিক হায়েজ-নেফাসকালীন রোজা ভঙ্গ করা যায়

যেসব কারণে শুধু কাজা আদায় করতে হয়

  • স্ত্রীকে চুম্বন বা স্পর্শ করার কারণে যদি বীর্যপাত হয়
  • ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে
  • পাথরের কণা, লোহার টুকরা, ফলের বিচি গিলে ফেললে
  • ডুশ গ্রহণ করলে
  • বিন্দু পরিমান কোন খাবার খেলে তবে অনিচ্ছাকৃত ভাবে বা মনের ভুলে খেলেও রোজা ভাংবে না তবে মনে আসা মাত্রই খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে
  • নাকে বা কানে ওষুধ দিলে (যদি তা পেটে পেঁৗছে)
  • মাথার ক্ষতস্থানে ওষুধ দেওয়ার পর তা যদি মস্তিষ্কে বা পেটে পেঁৗছে
  • যোনিপথ ব্যতীত অন্য কোনোভাবে সহবাস করার ফলে বীর্য নির্গত হলে
  • স্ত্রী লোকের যোনিপথে ওষুধ দিলে

আলী হোসেন নামের অর্থ কি?

smsoyob
May 25, 2020-এ উত্তর দিয়েছেন

আলী নামের অর্থ উচ্চ আর হোসেন নামের অর্থ সুন্দর । আলী হোসেন শব্দের অর্থ -উচ্চ সুন্দর।



তোফাজ্জল হোসেন অর্থ কি?

smsoyob
May 25, 2020-এ উত্তর দিয়েছেন

 তোফাজ্জল অর্থ কৃতজ্ঞ। আর হোসেন অর্থ সুন্দর। পুরো নামের অর্থ হল: সুন্দর ও কৃতজ্ঞ ব্যক্তি।


সাবেরা হোসেন সাফরীন, এর অর্থ কী?

smsoyob
May 25, 2020-এ উত্তর দিয়েছেন

 সাবেরা অর্থ ধৈর্যশীল। এটি আরবি শব্দ, মূলত উচ্চারণ সাবিরা৷ হোসেন অর্থ সুন্দর, সুদর্শন। এটিও আরবি শব্দ, মূলত উচ্চারণ হুসাইন। সাফরীন নামের অর্থও সুন্দর, তবে এটি অসম্ভব সুন্দরী বোঝায়। এটিও আরবী শব্দ। সুন্দর অর্থ এবং আরবি শব্দ, নিঃসন্দেহে এটি রাখার মত ইসলামিক একটি নাম ।


 

ঈদের তাৎপর্য ও করণীয় আমল

 

 

ঈদের তাৎপর্য ও করণীয় আমল

ঈদ হলো পাপমুক্তির আনন্দ। সফলতা ও বিজয়ের আনন্দ। এ বিজয় নাফসের ওপর আকলের, এ বিজয় শয়তানের ওপর ইনসানের। মনের সব কালিমা দূর করে, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে, মান-অভিমান বিসর্জন দিয়ে সবাই হাতে হাত মেলানো, বুকে বুক মেলানো, গলায় গলা মেলানো, অর্থাৎ সবার দেহ-মন এক হওয়ার আনন্দ হলো ঈদের আনন্দ। নিজের মনের হিংসা, ঘৃণা, লোভ, অহংকার, অহমিকা, আত্মম্ভরি, আত্মশ্লাঘা, রাগ-ক্রোধ, বিদ্বেষসহ যাবতীয় কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজেকে মুক্ত করার আনন্দ। সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ঐক্য, সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির আনন্দ।

‘ঈদ’ মানে আনন্দ উৎসব; ঈদ মানে যা বারবার ফিরে আসে প্রতিবছর। রমজানের রোজার শেষে এ ঈদ আসে বলে এর নাম ‘ঈদুল ফিতর’। ‘ফিতর’ মানে উপবাস ভঙ্গ করা বা রোজা ভঞ্জন; বাংলায় এটি রোজার ঈদ। রোজার পর যেদিন সকালে প্রথম সুন্নত মিষ্টান্নের মাধ্যমে প্রাতরাশ গ্রহণ করা হয়, তা হচ্ছে ঈদের দিন। মুসলিম মিল্লাতের দুটি ঈদের একটি ঈদুল ফিতর। সুতরাং ঈদুল ফিতর বিশ্ব মুসলিমের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহা উৎসব। এটি আরবি হিজরি সনের দশম মাস তথা শাওয়াল মাসের প্রথম দিন। রমজান মাসের পূর্ণ নাম হলো ‘রমজানুল মোবারক’ মানে বরকতময় রমজান। শাওয়াল মাসের পূর্ণ নাম হলো ‘শাওয়ালুল মুআজ্জম’ অর্থাৎ মহিমাময় শাওয়াল। রমজানের বরকত লাভের জন্য ত্যাগ, কষ্ট-ক্লেশ ও আয়াস সাধ্য-সাধনার পর যে মাসটি সাফল্যের বার্তা নিয়ে আসবে, তা অবশ্যই মহান। সে মাসের প্রথম দিনই ঈদ উৎসব। এই দিনে ‘জাকাতুল ফিতর’ বা ‘সদকাতুল ফিতর’ তথা ফিতরা প্রদান করা হয়; তাই এটি ঈদুল ফিতর।

 

নবী করিম (সা.) বলেছেন: রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে। একটি হলো যখন সে ইফতার করে; দ্বিতীয়টি হবে যখন সে তার মাবুদ আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। (বুখারি)। রোজাদার প্রতিদিন ইফতার করে; আবার পরের দিন রোজা রাখে। এটি হলো ছোট ইফতার; কারণ, এটির পর আবারও রোজা আসে। ইফতার বা ফিতর হলো রোজা পূর্ণ করার পর আহার গ্রহণ করা; পূর্ণ রমজান মাস রোজা পালন শেষে শাওয়াল মাসের প্রথম দিন সকালে যখন রোজাদার মিষ্টিমুখ করে, তখন সে এক বছরের জন্য প্রকৃত অর্থে ইফতার করে বা সিয়াম সাধনা সম্পূর্ণ করে আজ প্রথম সকালের আহার গ্রহণ করে; তাই এটি এক বছরের জন্য বড় ইফতার; সুতরাং ঈদুল ফিতর রোজাদার মোমিন মুসলমানের জন্য পরম আনন্দের দিন। হজরত খাজা মুঈনুদ্দিন চিশতি (র.) বলেছেন, ফিতর বা ইফতার মানে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করা। ঈদুল ফিতর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, রমজান মাসের রোজার মাধ্যমে কুপ্রবৃত্তিগুলোকে ভেঙে চুরমার করে, কলবকে আল্লাহর আসন হিসেবে গড়ে তোলার আনন্দ উপভোগ ও উদ্‌যাপন করা।

প্রতিটি জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায় নির্দিষ্ট দিনে আনন্দ করে থাকে। সাধারণত দেখা যায়, যারা ধনী তারা আনন্দ-ফুর্তি করে, গরিব অসহায়রা তা হতে বঞ্চিত থাকে। ঈদের খুশি শুধু ধনীরা পাবে, তা নয়, বরং গরিব-অসহায়রাও ঈদের খুশি ভোগ করবে। তাই ঈদুল ফিতরের সময় ধনীদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর অত্যাবশ্যক করা হয়েছে। মুসলমানদের সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ ঈদুল ফিতর। রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস মাহে রমজান। যাঁরা মাহে রমজানকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পেরেছেন, তাঁদের জন্য ঈদ খুশির বার্তা নিয়ে আসে।

ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য হলো—আমি আল্লাহ পাকের একটা বড় ইবাদত পালন করার তৌফিক পেয়েছি বলে আমি মহাখুশি; তাই তাঁর শোকর আদায় করার জন্য ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করছি। এ জন্যই ঈদের নামাজকে সালাতুশ শুকর তথা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নামাজ বলা হয়। এতে মোমিন বান্দার জন্য আনন্দও আছে, সেই আনন্দ খুশির বহিঃপ্রকাশ করা হয় আরেকটি হুকুম পালন করার মাধ্যমে। এ হলো আমাদের ঈদের আনন্দ উৎসবের তাৎপর্য; কারণ, আমাদের আনন্দ উৎসব সবই ইবাদত। এতে ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ রয়েছে। ঈদ দিয়েছেন আল্লাহ পাক, তা পালন করতে হবে আল্লাহর বিধান ও রাসুলের নির্দেশিত সুন্নত নিয়মের মাধ্যমে। আমাদের উচিত ঈদে সব ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সব ক্ষেত্রে ইসলামি আদর্শ ও সুন্নত নিশ্চিত করা।

ঈদুল ফিতরের জন্য উনত্রিশে রমজান ঈদের চাঁদ দেখা সুন্নত; এদিন চাঁদ উদিত না হলে ৩০ রমজানও চাঁদ দেখা সুন্নত; যদিও এদিন চাঁদ দেখা না গেলে পরদিন ১ শাওয়াল তথা ঈদুল ফিতর হবে। ঈদের চাঁদ তথা নতুন চাঁদ দেখে দোয়া পড়া সুন্নত। ঈদের রাত হলো ইবাদতের বিশেষ রাতগুলোর অন্যতম; তাই ঈদের রাতে বেশি বেশি নফল ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকা উত্তম। ঈদের আগেই শারীরিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করতে হবে; হাত-পায়ের নখ কাটতে হবে, গোঁফ ছোট করতে হবে। ঈদের রাতে ঘুমানোর আগে চোখে সুরমা ব্যবহার করতে হবে। সকালে গোসল করতে হবে। সকালবেলায় মিষ্টান্ন আহার এবং নতুন পোশাক বা সাধ্যমতো ও সামর্থ্য অনুযায়ী সুন্দর ও উত্তম ইসলামি সুন্নতি পোশাক পরতে হবে। সেই সঙ্গে পুরুষেরা টুপি বা পাগড়ি পরবেন। চাইলে আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারবেন। সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে (আগে আদায় করলেও হবে)। পুরুষদের ঈদের মাঠে যাওয়া ও ঈদের জামাতে শামিল হতে হবে এবং খুতবা শুনতে হবে। সম্ভব হলে ঈদগাহে এক পথে গিয়ে অন্য পথে ফিরে আসা। ঈদের মাঠে যাওয়া-আসার পথে আস্তে আস্তে তাকবির (আল্লাহু আকবার) বলতে হবে। ঈদের দিন আত্মীয়স্বজনের কবর জিয়ারত করা ভালো।

ঈদের তাৎপর্য ও শিক্ষা ।

smsoyob
May 24, 2020-এ লিখেছেন
  

‘ঈদ’ আরবী শব্দ। এর মানে খুশি, আনন্দ। ‘ফিতর’ আরবী শব্দ। এর মানে ভঙ্গ করা, ভেঙ্গে টুকরা টুকরা করা। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখে রোজা ভেঙ্গে যে আনন্দ উৎসব পালন করা হয় তাকে ‘ঈদুল ফিতর’ বলে। আবার কারো কারো মতে ‘ফিতর’ শব্দ ফিতরা থেকে এসেছে। এই দিনে ধনী ব্যক্তিরা গরীবদেরকে ফিতরা দিয়ে তাদেরকে ঈদের আনন্দে শরীক করেন বলে এই দিনকে ‘ঈদুল ফিতর’ বলে, আবার কারো কারো মতে-দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর রোজাদারগণ ঈদগাহে নামাজের জন্য এলে আল্লাহ পাক রোজাদারগণকে একবাক্যে ক্ষমা ঘোষণা করেন। এই ক্ষমা প্রাপ্তিটাই হচ্ছে মহানন্দের। আর এটাই হচ্ছে-রোজাদারদের জন্য বড় প্রাপ্তি। যেহেতু রোজাদারগণ ঈদুল ফিতরের দিন আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা পেয়ে থাকেন। আর এটাই তাদের বড় পুরস্কার, শাওয়ালের পহেলা তারিখে রোজাদারগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে ‘পুরস্কার’ লাভ করেন বলে এই দিনকে ‘ঈদ’ বলা হয়েছে। যেহেতু পুরস্কার পেয়ে রোজাদারগণ আনন্দিত হয় তাই আনন্দের এই দিনকে ‘ঈদ’ বলা হয়েছে। প্রতি বছর ঘুরে আসে এই আনন্দের দিন। ঈদুল ফিতর আনন্দের দিন। ইহা সর্বজনীন উৎসব।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম, হযরত আউস আনসারী (রা:) বলেন, রাসুর (সা:) ইরশাদ করেছেন-ঈদুল ফিতরের দিন সকালে সকল ফেরেস্তা রাস্তায় দাঁড়িয়ে যান এবং মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বলতে থাকেন, হে মুসলিমগণ! তোমরা দয়ালু প্রতিপালকের দিকে এগিয়ে এস। উত্তম প্রতিদান ও বিশাল সওয়াব প্রাপ্তির জন্য এগিয়ে এস। তোমাদের রাত্রিবেলার নামাজের নির্দেশ দেয়া হলে তোমরা সে নির্দেশ মেনে নামাজ পড়েছ। তোমাদের দিনগুলোতে রোজা রাখতে বলা হলে তোমরা সে নির্দেশও পালন করেছ। এক মাস রোজা রেখেছ। গরীব-দুঃখীদের পানাহারের মাধ্যমে নিজ প্রতিপালককে তোমরা পানাহার করিয়েছ। এখন নামাজ পড়ার মাধ্যমে এগুলোর প্রতিদান ও পুরস্কার গ্রহণ কর ঈদের নামাজ পড়ার পর ফেরেস্তাগণের মধ্যে একজন ঘোষণা দেন, শোন নামাজ আদায়কারীরা, তোমাদেরকে মহান আল্লাহপাক ক্ষমা করে দিয়েছেন, সকল গুনাহ থেকে মুক্ত অবস্থায় নিজ নিজ আবাসে ফিরে যাও। আর শোন, এই দিনটি হচ্ছে পুরস্কার প্রদানের দিন। আকাশে এই দিনের (ঈদুল ফিতরের দিনের) নামকরণ করা হয়েছে ‘পুরস্কারের দিন’। (তাবরাণী)। হযরত আবু উমামা (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা:) ইরশাদ করেন-যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে সারারাত ইবাদতে মশগুল থাকবে, তার অন্তর সেদিন জিন্দা থাকবে, যেদিন অন্যদের অন্তর মরে যাবে (আল আযকার-ইমাম নবনী (র:)। এভাবে অগণিত হাদীসে ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য বর্ণনা করা হয়েছে। ঈদুল ফিতরের ফজিলত সম্পর্কে হযরত আনাস (রা.) বর্ণিত একখানা হাদীসে রাসুল (সা:) ইরশাদ করেন-শবে কদরে জিব্রাইল (আ:) একদল ফেরেস্তাসহ অবতরণ করেন। তাঁরা এমন প্রত্যেক বান্দার জন্য রহমতের দোয়া করেন, যে দাঁড়িয়ে ও বসে আল্লাহর জিকির করতে থাকে। এরপর ঈদের দিন আল্লাহতায়ালা ফেরেস্তাদের সামনে গর্ব করে বলেন-ফেরেস্তাগণ! বলো সেই মজুরের কি প্রতিদান হবে, যে তার কাজ পূর্ণ করেছে? তখন ফেরেস্তাগণ আরজ করবে-হে আল্লাহ! তার প্রতিদান হচ্ছে তাকে পুরোপুরি বদলা দেয়া। আল্লাহ বলেন-হে ফেরেস্তাগণ আমার বান্দাগণ তাদের অপরিহার্য কর্তব্য পূর্ণ করেছে। অর্থাৎ রোজা পালন করেছে। এখন কাকুতি-মিনতি সহকারে দোয়া করার জন্য (ঈদের নামাজে) বের হয়েছে। আমার ইজ্জতের কসম! আমি অবশ্যই তাদের দোয়া কবুল করবো। এরপর বান্দাহদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ বলেন-আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করলাম এবং তোমাদের অসৎ কর্মসমূহকে সৎকর্মে রূপান্তরিত করলাম। এরপর বান্দারা ঈদগাহ থেকে ক্ষমাপ্রাপ্ত অবস্থায় গৃহে ফিরে যায় (বায়হাকী)।
ঈদ উৎসব একান্তই সর্বজনীন। এই উৎসব সকলের জন্য বয়ে আনে অনাবিল আনন্দ। গরীব-দুঃখীরা যাতে এই আনন্দ উপভোগ করতে পারে সেজন্য ধনীদেরকে ঈদের নামাজের পূর্বে ফিতরা আদায় করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল (সা.) রোজাকে অনর্থক ও অশালীন কথার গুনাহ থেকে পবিত্র করার জন্য এবং নিঃস্বদের মুখে খাবার দেয়ার জন্য সদকায়ে ফিতর নির্ধারণ করেছেন (মিশকাত)। অন্য হাদীসে রাসুল (সা:) ইরশাদ করেন-তোমাদের মধ্যে যে ধনাঢ্য ব্যক্তি তার (ফিতরার) দ্বারা আল্লাহ তাকে পবিত্র করেন। আর যে কেউ গরীবকে যা কিছু দান করে আল্লাহ তাকে তদপেক্ষা অনেক বেশি দান করেন। (আবু দাউদ)
ঈদ বলতে আমরা আনন্দ ছাড়া আর কিছুই বুঝিনা। তবে সেই আনন্দের নামে আমাদের সমাজে যে বিলাসিতা, অকারণ জৌলুস, অপব্যয়, নগ্নতা ও বেহায়াপনা চলে তা কোনোক্রমেই মেনে নেয়া যায়না। খেল-তামাশা করা, সুন্দর পোশাকে সুসজ্জিত হওয়া, যৌন সুড়সুড়িমূলক গান শোনা, নায়ক-নায়িকাদের উলঙ্গ দেহে নৃত্য দেখতে পারলেই অনেকে তাদের ঈদ সার্থক হয়েছে বলে মনে করেন। আসলে ঈদের নামে শুধু খেল-তামাশা করা, নগ্ন ছবি প্রদর্শন করাই হচ্ছে বিধর্মী জ্ঞান পাপীদের কালচার। এটা প্রকৃত মুসলমানের কালচার হতে পারে না। ঈদ উৎসবের সূচনার ইতিহাস হচ্ছে এই-‘নবী করিম (সা:) হিজরতের পর মদীনায় এসে দেখলেন তারা (নওরোজ ও মেহেরজান নামক) দু’দিন খেল-তামাশার মাধ্যমে উৎসব পালন করছে। নবী করিম জিজ্ঞাসা করলেন-তোমরা এ দুদিনে কি কর? তারা বলল-জাহেলী যুগ থেকে আমরা এ দু’দিন খেল-তামাশা করে উৎসব পালন করি। নবী করিম (সা:) বললেন-এ দু’দিনের পরিবর্তে উত্তম দুটি উৎসব আল্লাহ তোমাদের দান করেছেন। একটি হচ্ছে ‘ঈদুল আজহা’, অপরটি হচ্ছে ‘ঈদুল ফিতর’। উক্ত আলোচনা থেকে দিবালোকের ন্যায় এটাই প্রমাণ হল যে, জাহেলী যুগে তাদের উৎসব উপলক্ষে তারা কেবল খেল-তামাশাই করতো। নবী করিম (সা:)-এর চরম বিরোধীতা করলেন এবং ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা নামের দুটি উত্তম উৎসবের কথা ঘোষণা করলেন। যে উৎসবে কোনো নগ্নতা নেই, বেহায়াপনা নেই, খেল-তামাশাও নেই। মুসলমানের ঈদে-উৎসবে নেই কোনো নগ্নতা, নেই কোনো বেহায়াপনা। মুসলমানদের ঈদ হবে তাদের ইতিহাসের আলোকে ও ঐতিহ্যের আলোকে। মুসলমানদের ঈদ হবে ইবাদত, রিয়াজত ত্যাগের মাধ্যমে। সর্বোপরি আনন্দের মধ্য দিয়েই ঈদ উদযাপন হবে।
ঈদের আগমনই ঘটে শান্তির বার্তা নিয়ে আনন্দের বার্তা নিয়ে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে আমাদের এ আনন্দ উপভোগ ব্যাহত হয়। ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন পত্রিকা বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে থাকে। যাতে শুধু নায়ক-নায়িকার নগ্ন ছবি, অবৈধ প্রেম কাহিনীর বর্ণনা থাকে। এসব শুধু আমাদের মনকে কলুষিত করেনা; বরং চরিত্র ধ্বংস করে আমাদের যুব সমাজের। ইহা মোটেই কাম্য নয়। এসব অশ্লীলতার বিরুদ্ধে আমাদেরকে অবশ্যই রুখে দাঁড়াতে হবে।
ঈদ আমাদের আনন্দের উৎসব। আমাদের সকলকে ঈদের তাৎপর্য বুঝতে হবে। ঈদের নামে অশ্লীলতায় জড়িয়ে পড়া উচিত নয়। শরীয়ত সম্মতভাবে আমাদের সকলকে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে হবে।

এসব কি গিবত হবে?

smsoyob
May 24, 2020-এ উত্তর দিয়েছেন
হ্যাঁ, গীবত হবে ।
হ্যাঁ । শুধু ঈদেই না যে কোন সময় করতে পারবেন ।

মানুষ বিয়ে কেন করে.?

smsoyob
May 24, 2020-এ উত্তর দিয়েছেন
আল্লাহর হুকম বলে ।

সেজদা সম্পর্কে ?

smsoyob
May 24, 2020-এ উত্তর দিয়েছেন
আল্লাহম্মাগফিরলী অরহাম্নি অহদিনি অয়াফিনি অরঝুকনি ।

হিয়া অর্থ কি?

smsoyob
May 24, 2020-এ উত্তর দিয়েছেন

 হিয়া শব্দের অর্থ হলোঃ হৃদয়। 

হুমাইরা হাবিবা হিয়া অর্থ কি ?

smsoyob
May 24, 2020-এ প্রশ্ন করেছেন

জলবায়ু পরিবর্তন ও বাংলাদেশঅথবা, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের জলবায়ুতে এর প্রভাব

ভূমিকা: জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উপনীত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় কারণ বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি— যার ফলে আবহাওয়া পরিবর্তিত হয়েছে, সমুদ্রপষ্ঠের উচ্চতা বেড়েছে এবং বিশ্ব নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হচ্ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার কারণ বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং এ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ গ্রিন হাউস ইফেক্ট। সূর্য থেকে আগত তাপশক্তি পৃথিবীপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে এবং এ বিকিরিত তাপশক্তির অধিকাংশই পুনরায় বায়ুমণ্ডলে ফিরে যায়। কিন্তু মানবসৃষ্ট দূষণ এবং বনভূমি উজাড় করার ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাউস গ্যাসের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে, যা কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের সমন্বয়ে গঠিত। এর ফলে বিকিরিত তাপশক্তি পুনরায় বায়ুমণ্ডলে ফিরে যাওয়ার পথে বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং এভাবেই বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। আধুনিক কালে ব্যাপক হারে জীবাশ্ম জ্বালানি দহন, বনাঞ্চল ধ্বংস, শিল্পায়নের ফলে গ্রিন হাউস ইফেক্টের মাত্রা অনেক বেশি বেড়ে গেছে। এর ফলে ১৮৫০-১৯৬০ সালের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রায় পাচগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বর্তমান বিশ্ব প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পরিবেশগত বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে। পরিবেশ বিপর্যয়ের ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।



 

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণ : পৃথিবী বেষ্টনকারী আবহাওয়ামণ্ডলের কারণে পথিবী প্রাণধারণ ও বসবাস উপযোগী হয়েছে। মহাশূন্যের আবহাওয়ামণ্ডলে ‘ওজোন স্তর’ নামে অদৃশ্য এক বেষ্টনী বিদ্যমান, যা পৃথিবীতে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি প্রবেশ রোধ করে এবং বিকিরণ প্রক্রিয়ায় সূর্য থেকে আসা তাপ মহাশূন্যে পুনরায় ফিরে যেতে সহায়তা করে। কিন্তু মানব সৃষ্ট দূষণ ও বনাঞ্চল ধ্বংসের ফলে প্রকৃতি প্রদত্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী, ওজোন স্তর ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। গহন্তালি পণ্য যেমন ফ্রিজ, এয়ারকন্ডিশনার, বিভিন্ন ধরনের স্প্রে ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয় ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (সিএফসি) গ্যাস, যা শিল্পকারখানাতেও ব্যবহৃত হয়। এ অবমুক্ত সিএফসি মহাশূন্যের ওজোন স্তর ক্ষয়ের অন্যতম কারণ। একদিকে ওজোন স্তরের ক্ষয়জনিত কারণে মাত্রাতিরিক্ত সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে পৌঁছাচ্ছে, অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলে প্রতিনিয়ত তাপ সঞ্চিত হচ্ছে। এভাবে পৃথিবী হয়ে উঠছে উত্তপ্ত। সামগ্রিকভাবে পরিবেশ বিপন্ন হওয়ার ফলে পৃথিবী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে।

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি বাংলাদেশে এর প্রভাব : পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে যেসব বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে সেগুলো মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই দেখা দিচ্ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিই মূলত এ পরিবর্তিত জলবায়ুর জন্য দায়ী। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিণতিসমূহ আলোচনা করা হলো :

১. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি : বিশ্ব উষ্ণায়নের একটি সম্ভাব্য পরিণতি হলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি। বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে সমুদ্রের পানির উত্তাপ বৃদ্ধি পাবে এবং পানি সম্প্রসারিত হয়ে সমুদ্রের আয়তন ও পরিধিকে বাড়িয়ে তুলবে। উষ্ণায়নের ফলে হিমালয়সহ অন্যান্য পর্বতচূড়ায় জমে থাকা বরফ গলে যাবে এবং সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে।

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ, যেখানে অসংখ্য নদ-নদী বয়ে চলেছে। পৃথিবীর তাপমাত্রা ১০ সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের ১১ শতাংশ ভূমি সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এর ফলে ৫৫ মিলিয়ন লোক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশে সমুদ্রপষ্ঠের উচ্চতা প্রতিবছর ৭ মিমি হারে বাড়ছে, যেখানে ভূ-পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হার ৫-৬ মিমি/বছর। এর ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হার ১-২ মিমি/বছর। Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC)-এর এক সমীক্ষায় বলা হয়, বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রতি দশকে ৩.৫ থেকে ১৫ মিমি বৃদ্ধি পেতে পারে। এমনকি ২১০০ সাল নাগাদ তা ৩০ সেমি থেকে ১০০ সেমি এ পৌছাতে পারে। তাই সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।

২. মরুভূমির বৈশিষ্ট্য : বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে একদিকে যেমন পৃথিবীর নিচু এলাকাসমূহ সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে মরুভূমির বৈশিষ্ট্য দেখা দেবে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে ইতোমধ্যে মরুভূমির বৈশিষ্ট্য দেখা দিয়েছে, এর ফলে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহতসহ তা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

৪. জীববৈচিত্র্য ধ্বংস : বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার প্রভাবে বনাঞ্চলসমূহ ধ্বংস হওয়ার আশংকা দেখা দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন প্রজাতি বিলুপ্তির পথে, কারণ এ পরিবর্তিত জলবায়ুর সাথে তারা খাপ খাওয়াতে পারছে না। জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে গেলে তা বিশ্বের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ ফলাফল বয়ে আনবে। পরিবেশ তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলবে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাস্তুসংস্থানের বিপর্যয় ঘটলে তা মানব সভ্যতার জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হবে।

৬. পানির লবণাক্ততা বৃদ্ধি : পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি দেশের কৃষি ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। বর্তমানে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ও দূরবর্তী দ্বীপসমূহের প্রায় ১.৪ মিলিয়ন হেক্টর এলাকায় লোনা পানি প্রবেশ করায় উন্মুক্ত জলাশয় ও ভূগর্ভস্থ পানি লবণাক্ত হয়ে পড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তিত হওয়ার সাথে সাথে এ লবণাক্ততার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষত নদ-নদীর মোহনায় অবস্থিত দ্বীপ ও তৎসংলগ্ন এলাকার অধিক লোনা পানি প্রবেশ করবে। ভূগর্ভস্থ পানি ও মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি উপকূলীয় পরিবেশকে সামগ্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

৭. আকস্মিক বন্যা : পাহাড়ি ঢলের কারণে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিশেষত মেঘনা অববাহিকায় প্রতিবছর আকস্মিক বন্যা দেখা যায়। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ৪ হাজার বর্গ কিলোমিটার এ এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৪০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা আকস্মিক বন্যার শিকার। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাত পাহাড়ি ঢলের পরিমাণ আরো বেড়ে যাচ্ছে।ফলে আকস্মিক বন্যার পৌনঃপুনিকতা, ক্ষতির পরিমাণ ও তীব্রতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।

৮. নদী ভাঙন: বাংলাদেশে মোট সমদ্র তটরেখার পরিমাণ ৬৫০ কিলোমিটার। এর মধ্যে সুন্দরবন উপকূল ঘিরে রয়েছে ১২৫ লোমিটার এবং কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এছাড়া সমদ উপকূল বরাবর রয়েছে গঙ্গা ও মেঘনা অববাহিকায় অহত অসংখ্য প্রশস্ত জোয়ার ভাটা সমভমি এবং নদী মোহনায় রয়েছে ব-দ্বীপ। নদীসঙ্গমে অবস্থিত এসব বদ্বীপ ও সমুদ্র তটরেখা বরাবর ভূখণ্ড প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। কিন্তু এ পরিবর্তনশীল বৈশিষ্টের মাঝে এক বিশেষ ভারসাম্য বজায় থাকে। কিন্তু বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হবে।

৯. খরা: মাটিতে আর্দ্রতার অভাব অর্থাৎ বৃষ্টিপাতের তুলনায় বাষ্পীভবনের মাত্রা বেশি হলে খরা দেখা দেয়। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে জলবায়ু পরিবর্তিত হচ্ছে যার প্রভাব বাংলাদেশেও দেখা দিচ্ছে। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বর্ষাকালে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত ও পানির অভাবে কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং ফসল উৎপাদনও ক্রমাগতভাবে হ্রাস পাচ্ছে।



 

১০. সামুদ্রিক ঝড় জলোস : সাধারণত সামদিক ঝড় সষ্টি হয় উত্তপ্ত বায় ও ঘূর্ণিবায় থেকে। ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির পেছনে অন্যান্য প্রক্রিয়া সাক্রয় থাকলেও পানির উত্তাপ বদ্ধিই মূল কারণ। বাংলাদেশে প্রতিবছর মে-জুন মাসে যে সামুদ্রিক ঝড় হয় তাতে উপকূলীয় জেলাসমূহে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রাও ক্রমবর্ধমান হারে বেড়ে যাবে। স্বাভাবিকভাবেই সামুদ্রিক ঝড় ও জলোচ্ছাসের তীব্রতাও বেড়ে যাবে। ২০০৭ সালে আঘাত হানা সিডর’ বাংলাদেশে যে ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন রেখে গেছে তা বর্ণনাতীত। সিডরে হাজার হাজার মানুষের সলিল সমাধির সাথে সাথে সম্পদেরও ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। মানবসৃষ্ট দূষণের ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের যে ধারা সৃষ্টি হয়েছে, বাংলাদেশের জন্য তা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। দূষণের জন্য বিশ্বের শিল্পায়িত দেশগুলোর দায়ভার সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এখন পর্যন্ত অনেক ধনী রাষ্ট্রই কিয়োটো প্রটোকল, ১৯৯৭’ কার্যকর করেনি।

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি বাংলাদেশে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি : বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে জলবায়ু পরিবর্তন এবং এর প্রভাবে সম্ভাব্য ক্ষয়-ক্ষতি নিয়ে ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ও তার প্রতিবেশী দেশসমূহে ক্ষয়-ক্ষতির মাত্রা অত্যন্ত ব্যাপক হবে বলে পরিবেশ ও ভূ-বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বাংলাদেশের উচ্চতা কম থাকার কারণে বাংলাদেশে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও ভয়াবহ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হচ্ছে যা জলবায়ু পরিবর্তনেরই ফলাফল।

১. বিপন্ন জনগোষ্ঠী : বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থার প্রেক্ষিতে কোনো মাঝারি ধরনের প্লাবনে দেশের ৬৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে এবং প্লাবন এলাকার পরিধি ক্রমেই বাড়তে থাকবে। ফলে বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা বিপন্ন হয়ে পড়বে।

২. অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি : বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে প্লাবনের তীব্রতা বাড়বে এবং অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হবে। IPCC-এর সমীক্ষা অনুযায়ী ২০১০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে প্লাবনজনিত কারণে বস্তুগত সম্পদের ক্ষতির পরিমাণ ২৪২ মিলিয়ন টাকা।

৩. বিপন্ন কৃষি : বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের কৃষি খাত মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হবে। কৃষিখাতের ওপর এ বিপর্যয় দেশের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। IPCC-এর সমীক্ষা অনুযায়ী প্লাবনের কারণে দেশে আমন ধানের উৎপাদন ১৩.৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন হ্রাস পাবে। এমনকি জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দেশের কৃষি উৎপাদন বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শীত মৌসুমে বাংলাদেশে প্রায় ৩৬০০ বর্গ কিমি এলাকা খরার কবলে পড়ে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে সাথে খরার ব্যাপ্তি আরো বেড়ে তা ২২০০ কিমি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে। এছাড়া প্রয়োজনীয় সেচের অভাবে দেশের উত্তর-পশ্চিম ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে চাষাবাদ ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হবে।।

৪. লোনা পানির অনুপ্রবেশ : দেশের মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাস করে। IPCC-এর সমীক্ষা অনুযায়ী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১০০ সেমি বৃদ্ধি পেলে ২৫,০০০ বর্গ কিমি এলাকায় লোনা পানির অনুপ্রবেশ ঘটবে। ফলে দেশের প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ লোকের জীবন ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়া লোনা পানি প্রবেশের ফলে দেশের চিংড়ি শিল্প ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। দেশের নদ-নদীতে লোনা পানির অনুপ্রবেশ ঘটলে স্বাদু পানির মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হবে এবং জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবন বিপন্ন হবে।

৫. পরিবেশ বিপর্যয় : বাংলাদেশের জনসংখ্যার তুলনায় প্রাকৃতিক সম্পদ অত্যন্ত অপ্রতুল। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পেলে জলবায়ুতে যে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে তা বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ পরিণাম ডেকে আনবে। ইতোমধ্যে দেশের বৃহৎ বনভূমি সুন্দরবন ও হাওর অঞ্চলের পরিবেশ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে।

বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে আমাদের করণীয় : বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয় বরং সমগ্র বিশ্ব ও মানবজাতির জন্য চমকিস্বরূপ। ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূ-প্রাকৃতিক অবকাঠামো বাংলাদেশকে যতটা কুফলভোগী করেছে, এ সংকট সৃষ্টিতে আমাদের দেশের ভূমিকা শিল্পোন্নত দেশের তুলনায় খুবই নগণ্য। এখনই সময় এ সংকট মোকাবিলায় এগিয়ে আসার। বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে আমাদের সবচেয়ে যেসব বিষয়ের ওপর জোর দিতে হবে সেগুলো হলো :

১. ব্যাপকভাবে বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। দেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় ও নদী তীরবর্তী এলাকাসমূহে বনায়ন কর্মসূচি শুরু করতে হবে। ফলে নদী ভাঙন ও সামুদ্রিক ঝড়ের তীব্রতা কমে যাবে।

২. বৃক্ষনিধন রোধ করতে হবে। কারণ বৃক্ষই প্রকৃতি থেকে ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষণ করে এবং অক্সিজেন নির্গমন করে।

৩. বায়ুমণ্ডলের উত্তাপ বাড়ায়-এমন ক্ষতিকর গ্যাসের নির্গমন কমাতে হবে।

৪. পরিবেশ সহায়ক জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

৫. শিল্পকারখানার জ্বালানি সাশ্রয় করতে হবে এবং উৎপন্ন বর্জ্য বিশুদ্ধকরণের ব্যবস্থা নিতে হবে।




 

উপসংহার : একবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে মানবজাতি যখন সভ্যতার চরম শিখরে, ঠিক তখনই এ মানবজাতি তার পরিবেশকে ঠেলে। দিচ্ছে চরম বিপর্যয়ের দিকে। মানুষ তার প্রয়োজনে একদিকে যেমন পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদকে ব্যবহার করছে অপরদিকে পরিবেশকে করে তুলছে বিষাক্ত। পরিবেশ দূষিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত এবং পরিবেশের ভারসাম্য দ্রুত বিনষ্ট হচ্ছে। এ বিশ্ব আমাদেরই। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এ ভয়াবহ বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচাতে আমাদেরই এগিয়ে আসতে হবে। এখন থেকেই সবাই সচেতন হলে। সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলা অনেক সহজ হয়ে যাবে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমে আসবে। আমাদের সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখেই কৌশলগতভাবে অগ্রসর হতে হবে। যাতে দীর্ঘকালীন প্রতিক্রিয়ার হাত থেকে জাতিকে রক্ষা করা যায়

ঈদের নামায কি একা পড়া যাবে?

smsoyob
May 24, 2020-এ উত্তর দিয়েছেন

ঈদের সালাত একা পড়া যাবে কি না তার মতভেদ রয়েছে-
১। হানাফি মাযহাবের মতে ঈদের সালাত ওয়াজিব । যদি কেউ ঈদের সালাতের জামাত না ধরতে পারে তাহলে সালাত আদায়ের প্রয়োজন নেয় । ঈদের সালাত জুমার সালাতের মতো সামাজিক ইবাদত । যেহেতু এটা ওয়াজিব তাই ইচ্ছাকৃত ছেড়ে দিলে গুনাহ হবে।
২। মালেকি ও শাফেয়ী মাযহাবের মতে ঈদের সালাত সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ । ইচ্ছাকৃত ছাড়া যাবে না ।
৩। হাম্বালি মাযহাবের মতে ঈদের সালাত ফরজে কেফায়া । এলাকার কিছু লোক আদায় করলেই হবে ।
আপনি আপনার মাযহাবকে প্রাধান্য দেবেন । কিন্তু আপনার উচিত ঈদের সালাত একত্রে আদায় করা । কোরআন মাজিদের সুরা
কাওসারের ২নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা সালাতের আদেশ দেন এবং কুরবানি করতে বলেন । যদিও কুরবানি ঈদের কথা বলা হয়েছে । দুই ঈদের হুকম এক । আল্লাহ তায়ালা বলেন- হে নবি, আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানি করুন । (সুরা কাওসার ,আয়াত ২) । ঈদের সালাতে যাওয়ার জন্য রাসুল(সঃ) আদেশ
করেছেন । উম্মে আতিয়া (রা) হতে বর্ণিত, রাসুল (সঃ) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন নারীদের যেন ঈদের সালাতে নিয়ে যাওয়া হয় তা আদেশ করেছেন । (সহিহ বুখারি) । রাসুল (সঃ) কখনো ঈদের সালাত ছেড়ে দেননি । 

তবে এই করোনা পরিস্থিতিতে মসজিদ ও ঈদগায় যেতে না পারলে মাযহাব অনুযায়ি সালাত আদায় করবেন । মাযহাব অনুসারে বাসায় একাকি ঈদের সালাত আদায় করতে পারবেন ।

***  দৈনন্দিন জীবনে বিদ্যুৎ

** অথবা, বিদ্যুৎ ও আধুনিক জীবন

** অথবা, বিদ্যুৎ ও বর্তমান সভ্যতা

ভূমিকাঃ আধুনিক যুগ বিজ্ঞানের যুগ । আর এ যুগের এক বিস্ময়কর আবিষ্কার হচ্ছে বিদ্যুৎ। বিদ্যুতের আবিষ্কার মানব সভ্যতার ইতিহাস সূচিত হয়েছে এক কালজয়ী অধ্যায়। এর অবদানে মানবজীবন ও সভ্যতার আমুল পরিবর্তন ঘটেছে। এর ঐন্দ্রজালিক শক্তি গোটা বিশ্বকে এনে দিয়েছে মানুষের হাতের মুঠোয়, আধুনিক জীবনকে করেছে আরও আধুনিক। এর অভাব মানুষের কর্মচঞ্চল দিনকে করে দেয় স্থবির, প্রাত্যহিক জীবনকে করে তোলে দুর্বিষহ।
বিদ্যুৎ আবিষ্কাররের পূর্বে পৃথিবীর অবস্থাঃ বিদ্যুৎ আবিষ্কারের পূর্বে পৃথিবীর ছিল অন্ধকার ও তমসাচ্ছন্ন। মানুষের চিন্তা-চেতনা এবং জীবনধারণের উপায় ও পদ্ধতি ছিল খুবই জটিল। নানা কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও বৈচিত্র্যময়। প্রকৃতি মানুষকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছিল। তখন মানুষের কৃষি, যোগাযোগ এবঙ দৈনন্দিন জীবনব্যবস্থা ছিল দুর্বিষহ। বিদ্যুৎ আবিষ্কারের পূর্বে পৃথিবীতে সভ্যতার লেশমাত্র ছিল না। তখন মানুষ ছিল প্রকৃতিন দাস।



বিদ্যুতের আবিষ্কারঃ বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিষ্কারের ধারাবাহিকতায় বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে ( ১৭৯১-১৮৬৭) বিদ্যুৎ শক্তি আবিষ্কার করেন। আর এ বিদ্যুৎ শক্তির প্রয়োগ কৌশল কার্যকর করেন বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন। বর্তমান সভ্যতার বিকাশ ও অগ্রগতি সাধনে ফ্যারাডে ও এডিসনের এ আবিষ্কার এ অনন্য অবদান।
বিদ্যুৎ আবিষ্কারের পরবর্তী অবস্থাঃ বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কারের চমকে আধুনিক সভ্যতা বরাবরই উদ্ভাসিত হয়েছে। মানব-বুদ্ধি যে দিন প্রতিদিনের প্রয়োজনে আকাশের ক্ষণ বিদ্যুৎকে আবদ্ধ করল মর্ত্যসীমায়, সে দিনই শুরু হলো মানব সভ্যতার এক স্মরণীয় অধ্যায়ের জয়যাত্রা। সভ্যতার নবদিগন্তের উন্মোচন ঘটল। অবসান ঘটল বহু শতাব্দিয় জড়ত্বের। দিকে দিকে আলোর বন্যা বয়ে গেল। বিদ্যুতের জীয়নকাঠিন স্পর্শ পেয়ে বর্তমান যন্ত্রসভ্যতা হলো আরও বেগবান। দিগ¦জয়ের নেশায় মানুষ হলো দিশেহারা। গড়ে উঠল নগর-বন্দর, কল-কারখানা। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো হলো স্ফীত। প্রকৃতির খামখেয়ালিপনাকে বশে আনার সাথে সাথে কায়িক শ্রমের করা হয় বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে। যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি মানুষের সময়কে বাচিঁয়ে দিয়ে এবং দূরত¦ কমানো মধ্য দিয়ে তাদের মাঝে সম্প্রীতিভাব বাড়িয়ে দিয়েছে।
সভ্যতার অগ্রযাত্রার বিদ্যুৎ
ক. গৃহস্থালি প্রয়োজনে বিদ্যুৎ/দৈনন্দিন জীবনে বিদ্যুতের গুরুত্বঃ বর্তমান সভ্যতার সমৃদ্ধির চাবিকাঠি হলো বিদ্যুৎ। পৃথিবীকে সম্পূর্ণরূপে করায়ত্ত করার জন্য মানুষ বিদ্যুৎকে বিভিন্নমুখী কাজে লাগাছে। বিদ্যুৎ ছাড়া আধুনিক জীবন অর্থহীন। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বিদ্যুতের ব্যবহার অরিসীম। এটি ছাড়া আধুনিক জীবন কল্পনাও করা যায় না। আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাত, যেমন-বৈদুতিক বাতি রাতে অন্ধকারকে আলোকিত করছে, তাপদগ্ধ নিদারুপ অস্বস্তির অবসান ঘটাতে ঘুরছে পাখা, চলছে এয়ারকুলার, বাসগৃহকে করছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। রান্নাবান্নায়ও বিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিদ্যুতের সাহায্য খাদ্য সংরক্ষণে রেফ্রিজারেটর, কাপড় ধোয়ায় ওয়াশিং মেশিন, রান্নায় ওভেন, পানি গরম করতে হিটারের ব্যবহার এখন খুবই জনপ্রিয় ও সুপরিচিত। বিদ্যুৎ বিনোদনের ক্ষেত্রে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। টেলিভিশন , ভিসিআর, ভিসিডি, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, কম্পিউটার, ভিডিও গেম ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত মানুষের প্রতিটি মুহুর্তের সর্বাধুনিক উদ্ভাবন ই-মেইল; যা মুহুর্তের মধ্যে পৃথিবীর অপর প্রান্তের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটিয়ে দিচ্ছে। রোগ-ব্যাধি নিরাপত্তা কাজেও বিদ্যুৎ লাগিয়েছে তার নিরাময়কারী হাত।
খ. কৃষিতে বিদ্যুতের অবদানঃ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের কৃষিকাজে বিদ্যুতের ব্যাপক ব্যবহার এখনও সম্ভব হয়নি। তবে ইতোমধ্যে বিদ্যুতের প্রভাব আমাদের কৃষি ক্ষেত্রেও পড়েছে। সীমিত আকারে হলেও কোনো কোনো দিক দিয়ে বিদ্যুতের অবদানে দেশে কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। প্রকৃতির উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না হয়ে বিদ্যুতের সাহায্যে গভীর ও অগভীর নলকূপ চালিয়ে পানি সেচ দেওয়া হচ্ছে। শস্য মাড়াই এবং শস্য ভাঙানোর কাজ হচ্ছে বিদ্যুতের সাহায্যে চালিত কলের মাধ্যমে। ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত উন্নতমানের বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ বিদ্যুতে সহায়তা নেয়া হচ্ছে।
গ. কৃষিতে বিদ্যুতের অবদানঃ একটি দেশ ও জাতির উন্নয়নের জন্য যে সকল শর্ত অপরিহার্য, শিল্পোন্নয়ন তার মধ্যে একটি। আর বিজ্ঞানের যে অসীম শক্তির বদৌলতে শিল্পকারখানার চাকা সচল রয়েছে, তা হচ্ছে বিদ্যুৎশক্তি বিদ্যুৎ কলকারখানার স্থবিরতা দূর করে শিল্পোৎপাদনের গতিকে ত্বরান্বিত করে। বিভিন্ন প্রকার শিল্প আজ তাদের সৃষ্টি কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মেরুদন্ডকে সুদৃড় করে বহির্বিশে^ আমদের অবস্থান উজ্জ্বল করছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে যে, আমাদের দেশের মোট জাতীয় আয়ের সিংহভাগই আসে গার্মেন্টস বা পোশাক শিল্প থেকে। আর বিদ্যুতের ব্যবহার ছাড়া পোশাক শিল্প অচল।
ঘ. মুদ্রণশিল্পে বিদ্যুতের ব্যবহারঃ জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশের জন্য মুদ্রণযন্ত্রের আবিষ্কার বিজ্ঞানের একটি বিস্ময়কর সাফল্য। এই মুদ্রণযন্ত্রের সাহায্যে আজ হাজারো জ্ঞান-বিজ্ঞানের বই প্রকাশিত হচ্ছে, যা আমাদের সভ্যতার অগ্রগতির অবদান রাখছে। তা ছাড়া মানুষ সংবাদপত্রের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের তরতাজা, চাঞ্চর‌্যকর ও আনন্দদায়ক সংবাদ পাঠ করার দুর্লভ সুযোগ লাভ করছে। এগুলো ছাপার জন্য মুদ্রণযন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু বিদ্যুৎ আবিষ্কারের পূর্বে এ মুদ্রণযন্ত্রের মাধ্যমে প্রকাশনার কাজ চলত শম্বুক গতিতে। একটি ছোট আকারের প্রকাশনার জন্য মাসের পর মাস সময় লেগে যেত। বর্তমানে বিদ্যুৎ চালিত মুদ্যণযন্ত্রে হাজার হাজার ফর্মার মুদ্রণ কাজও অল্প সময়ের মধ্যে করা সম্ভব হয়।
ঙ. যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিদ্যুৎঃ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজতর ও দ্রুত করা লক্ষ্যে প্রগতিশীল দেশগুলো তৈরি করেছে রেলগাড়ি ও আধুনিক কনকর্ড বিমান, যেগুলো, তৈরির, মূলে রয়েছে বিদ্যুতের অবদান। এ ছাড়া ভূ-গর্ভে স্থাপিত পাতাল রেল লাইনে দ্রুততম টিউব রেল চালু, করা হয়েছে, যা বিদ্যুতের সাহায্যেই চলে। অন্যদিকে আধুনিক তথ্য যোগযোগের অন্যতম মাধ্যম টেলিফোন, টেলিগ্রাম, ই-মেইল, ইন্টারনেট প্রভৃতির কার্যক্রম বিদ্যুতের ব্যবহার ছাড়া কল্পনাও করা যায় না। এ ছাড়া আধুনিক ই-গভর্নেন্স, ই-ব্যাংকিং ও ফাইবার অপটিক যোগাযোগের মূলেও রয়েছে বিদ্যুৎ।
চ. চিকিৎসাক্ষেত্রে বিদ্যুৎঃ সভ্যতার উন্নতির সাথে সাথে চিকিৎসাক্ষেত্রে যে উন্নতি সাধিত হয়েছে তাতে বিদ্যুতের ভূমিকা অপরিসীম। কারণ মানবদেহের জটিল রোগ-ব্যাধি, যেমন-যক্ষ্মা, আলসার, ক্যান্সার, নিরসনে এবং কিডনি অপসারণ ও সংযোজন ইত্যাদি ক্ষেত্রে যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয় সেগুলো বিদ্যুতের সাহায্যে চালিত হয়ে থাকে। তা ছাড়া রঞ্জন-রশ্মি ও আলট্রাসনোগ্রাফির সাহায্যে মানবদেহের অদৃশ্য বস্তুকে দৃশ্যমান করে তোলার জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সর্বোপরি আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ শাখা শল্যচিকিৎসার কথা বিদ্যুৎ ছাড়া কল্পনাও করা যায় না। আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসায় বিভিন্ন থেরাপি প্রয়োগের ক্ষেত্রেও আবশ্যকভাবে বিদ্যুতের ব্যবহার হয়।
বিদ্যুতের ক্ষতিকর দিকঃ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিদ্যুতের অসংখ্য উপকারিতার পাশাপাশি এর কিছু ক্ষতিকর দিকও রয়েছে। অনাকাক্সিক্ষত বৈদ্যুতিক শক কেড়ে নেয় মানুষের মূল্যবান জীবন। তা ছাড়া অনেক সময় বৈদ্যুতিক তার থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ডের ফলে নষ্ট হয় কোটি টাকা মূল্যের ধন-সম্পদ, শিল্প কারখানা ও উৎপাদিত শিল্পদ্রব্য। বিশেষজ্ঞদের নিবিড় পর্যবেক্ষণেও দেখা গেছে যে, উচ্চরোধের বিদ্যুবাহী তার থেকে বিকিরিত বিদ্যুতরঙ্গ প্রাণিদেহে ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগের সৃষ্টি করতে পারে।



উপসংহারঃ বিদ্যুৎ আধুনিক জীবন ও সভ্যতার মূল চালিকাশক্তি। এটি ছাড়া উন্নত ও অভিলাষী কল্পনা করা যায় না। মাইকেল ফ্যারাডে বলেন, “Electricity is the soul of civilization” অর্থাৎ বিদ্যুৎ হচ্ছে সভ্যতার প্রাণ। আমাদের দেশে প্রয়োজনের তুলনায় বিদ্যুতের উৎপাদন খুবই কম। তদুপরি আমাদের অসচেতনতার কারণে যথেষ্ট বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে। সরকার ও জনসাধারণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জাতীয় জীবনে উন্নতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিদ্যুতের স্বাভাবিক উৎপাদন ও এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

সুন্দরবন

ভূমিকা : বাংলাদেশের দক্ষিণে রয়েছে প্রকৃতির অপার সম্ভার সুন্দর বন। সমুদ্রের কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে এই বিশাল বন। এখানে রয়েছে যেমন প্রচুর গাছপালা, কেওড়া ও সুন্দরী গাছের বন, তেমনি রয়েছে নানা প্রাণী, জীবজন্তু। এটি পৃথিবীর একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন।

 

আয়তন ও অবস্থান : সুন্দরবনের আয়তন ৬০১৭ বর্গকিলোমিটার। এর ৬২ শতাংশ বাংলাদেশের খুলনা জেলায় এবং ৩৮ শতাংশ পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলায় অবস্থিত।

সুন্দরবনের প্রাণী : বিচিত্র সব প্রাণীর বাস সুন্দরবনে। এ বনে প্রায় ৫০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৫০ প্রজাতীর সরীসৃপ, ৩২০ প্রজাতির পাখি, ৮ প্রজাতির উভচর প্রাণী এবং ৪০০ প্রজাতির মাছ রয়েছে।

(ক) বাঘ : এ বনের প্রাণীদের মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার পৃথিবীর বিখ্যাত। বাংলাদেশের নামের সঙ্গে এ বাঘের নাম জড়িয়ে আছে। সুন্দরবনের বাঘ দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি আবার ভয়ংকর। এর চালচলনও রাজার মতো। সুন্দরবনের ভেজা স্যাঁতসেঁতে গোলপাতার বনে এ বাঘ ঘুরে বেড়ায়; শিকার করে জীবজন্তু, সুযোগ পেলে মানুষও খায়। এ সময় সুন্দরবনে ছিল চিতাবাঘ ও ওলবাঘ। এখন আর এসব বাঘ দেখা যায় না। প্রাণীবিদরা বলেছেন, সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের অমূল্য সম্পদ। এ বাঘকে বিলুপ্তির হাত থেকে আমাদের বাঁচাতে হবে।

(খ) সুন্দরবনের অন্যান্য প্রাণী : সুন্দরবনে বাঘ ছাড়াও আছে নানা রকমের হরিণ। কোনোটার বড় বড় শিং, কোনোটার গায়ে ফোঁটা ফোঁটা সাদা দাগ। এদের বলে চিত্রা হরিণ। একসময় সুন্দরবনে প্রচুর গণ্ডার ছিল, ছিল হাতি, বুনো শুয়োর। এখন এসব প্রাণী আর নেই। তবে দেশের রাঙামাটি আর বান্দরবানের জঙ্গলে হাতি দেখতে পাওয়া যায়। এ ছাড়া রয়েছে বানর, বনবিড়াল ও শজারু।

(গ) সুন্দরবনের পাখি : এ বনের পাখির মধ্যে রয়েছে বক, সারস, হাড়গিলা, কাদাখোঁচা, লেনজা ও হট্টিটি। সমুদ্র উপকূলে দেখা যায় গাঙচিল, জল কবুতর, টার্ন, চিল, মাছরাঙা, কাঠঠোকরা, ভগীরথ, পেঁচা, মধুপায়ী, হাড়িচাঁচা, ইগল ও শকুন। একসময় এ বনে প্রচুর শকুন দেখা যেত। কিন্তু এখন এটি বিলুপ্তপ্রায় পাখি।

সুন্দরবনের গাছপালা : সুন্দরবনের গাছপালা বৈচিত্র্যময়। এখানে রয়েছে সুন্দরী, গরান, গেওয়া, কেওড়া, ওড়া, পশুর, ধুন্দল, বাইন প্রভৃতি গাছ। এ ছাড়া এই বনের প্রায় সবখানেই জন্মে গোলপাতা।

উপসংহার : যেকোনো দেশের জন্যই জীবজন্তু, পশুপাখি এক অমূল্য সম্পদ। দেশের জলবায়ু, আবহাওয়া, গাছপালা ইত্যাদি প্রাকৃতিক পরিমণ্ডলেই সে দেশের প্রাণীকূল জীবন ধারণ করে। এই পরিবেশ ধ্বংস করলে প্রকৃতিতে নেমে আসে খরা, বন্যা, ঝড় ইত্যাদির মতো নানা বিপর্যয়। প্রকৃতিতে যদি বিপর্যয় ঘটে তবে প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে মিলেমিশে থাকা পশুপাখির জীবন বিপন্ন হয়। এমনিতেই এ বনের অনেক প্রাণী প্রাকৃতিক পরিবর্তন ও বিপর্যয়ের ফলে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যেসব প্রাণী বর্তমানে আছে, তাদের বিলুপ্তির হাত থেকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। কারণ সুন্দরবনের সব প্রাণী আমাদের জাতীয় সম্পদ।

          
♦ যদি আপনি একটি নতুন স্মার্টফোনের পেছনে হাজার হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন তবে এটি দীর্ঘ সময় স্থায়ী হবে বলে আশা করতেই পারেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত, অতি ক্ষুদ্র কারণের আপনার ফো্নের গতি কমে যাওয়ার মতো অনেক কারণ আছে যা হয়তো আপনি জানেনও না। আপনি যদি মনে করেন আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি স্লো এবং কাজ করতে অসুবিধা হয় তবে নিচের প্রক্রিয়া চেষ্টা করতে পারেন। ♦ যদি আপনি একটি নতুন স্মার্টফোনের পেছনে হাজার হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন তবে এটি দীর্ঘ সময় স্থায়ী হবে বলে আশা করতেই পারেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত, অতি ক্ষুদ্র কারণের আপনার ফো্নের গতি কমে যাওয়ার মতো অনেক কারণ আছে যা হয়তো আপনি জানেনও না। আপনি যদি মনে করেন আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি স্লো এবং কাজ করতে অসুবিধা হয় তবে নিচের প্রক্রিয়া চেষ্টা করতে পারেন।

♦ যদি আপনি একটি নতুন স্মার্টফোনের পেছনে হাজার হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন তবে এটি দীর্ঘ সময় স্থায়ী হবে বলে আশা করতেই পারেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত, অতি ক্ষুদ্র কারণের আপনার ফো্নের গতি কমে যাওয়ার মতো অনেক কারণ আছে যা হয়তো আপনি জানেনও না। আপনি যদি মনে করেন আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি স্লো এবং কাজ করতে অসুবিধা হয় তবে নিচের প্রক্রিয়া চেষ্টা করতে পারেন।
♦ প্রথমত, আপনার ফোন রিস্টার্ট করুন-প্রথমেই আপনার ফোনে অন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করার আগে, শাট ডাউন করুন অথবা আপনার ফোন পুনরায় আরম্ভ করার চেষ্টা করুন। ♦ প্রথমত, আপনার ফোন রিস্টার্ট করুন-প্রথমেই আপনার ফোনে অন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করার আগে, শাট ডাউন করুন অথবা আপনার ফোন পুনরায় আরম্ভ করার চেষ্টা করুন।

♦ প্রথমত, আপনার ফোন রিস্টার্ট করুন-প্রথমেই আপনার ফোনে অন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করার আগে, শাট ডাউন করুন অথবা আপনার ফোন পুনরায় আরম্ভ করার চেষ্টা করুন।
♦ আপনার সিস্টেমের আপডেট নিশ্চিত করুন-ফোন যদি স্লো হয়ে যায় তবে সম্ভবত আপনার ফোনে আপনি সর্বশেষ আপডেট অ্যানড্রয়েড সফ্টওয়্যার ইনস্টল করতে ভুলে গেছেন। কোনো আপডেট আছে কিনা দেখতে আপনার ডিভাইসের Settings >About device >Software update এ যেয়ে দেখে নিন। ♦ আপনার সিস্টেমের আপডেট নিশ্চিত করুন-ফোন যদি স্লো হয়ে যায় তবে সম্ভবত আপনার ফোনে আপনি সর্বশেষ আপডেট অ্যানড্রয়েড সফ্টওয়্যার ইনস্টল করতে ভুলে গেছেন। কোনো আপডেট আছে কিনা দেখতে আপনার ডিভাইসের Settings >About device >Software update এ যেয়ে দেখে নিন।

♦ আপনার সিস্টেমের আপডেট নিশ্চিত করুন-ফোন যদি স্লো হয়ে যায় তবে সম্ভবত আপনার ফোনে আপনি সর্বশেষ আপডেট অ্যানড্রয়েড সফ্টওয়্যার ইনস্টল করতে ভুলে গেছেন। কোনো আপডেট আছে কিনা দেখতে আপনার ডিভাইসের Settings >About device >Software update এ যেয়ে দেখে নিন।
♦ প্রয়োজন হবে না এমন পুরাতন ফটো, অ্যাপ এবং অন্য সবকিছু মুছে দিন-এরপরও যদি আপনার ফোন ধীরগতির হয় তাহলে প্রয়োজন হবে না এমন ফাইল মুছে ফেলুন। পুরানো ছবি এবং মিউজিক ফাইল মুছে ফেলতে ভুলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক তবে আপনার ফোনের আবার চলমান গতি ফিরে পেতে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এছাড়া বিভিন্ন অ্যাপসের কারণে কমে যেতে পারে আপনার ফোনের গতি কেননা অনেক অ্যাপস অনেক সময় আপনার ফোনের বেকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে যা স্লো করে দিতে পারে আপনার ফোনের গতি। এছাড়াও অনেক অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আপনার ফোনের অনেকটুকু জায়গা দখল করে তাই এসব অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস মুছে ফেলাই ভালো। ♦ প্রয়োজন হবে না এমন পুরাতন ফটো, অ্যাপ এবং অন্য সবকিছু মুছে দিন-এরপরও যদি আপনার ফোন ধীরগতির হয় তাহলে প্রয়োজন হবে না এমন ফাইল মুছে ফেলুন। পুরানো ছবি এবং মিউজিক ফাইল মুছে ফেলতে ভুলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক তবে আপনার ফোনের আবার চলমান গতি ফিরে পেতে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এছাড়া বিভিন্ন অ্যাপসের কারণে কমে যেতে পারে আপনার ফোনের গতি কেননা অনেক অ্যাপস অনেক সময় আপনার ফোনের বেকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে যা স্লো করে দিতে পারে আপনার ফোনের গতি। এছাড়াও অনেক অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আপনার ফোনের অনেকটুকু জায়গা দখল করে তাই এসব অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস মুছে ফেলাই ভালো।

♦ প্রয়োজন হবে না এমন পুরাতন ফটো, অ্যাপ এবং অন্য সবকিছু মুছে দিন-এরপরও যদি আপনার ফোন ধীরগতির হয় তাহলে প্রয়োজন হবে না এমন ফাইল মুছে ফেলুন। পুরানো ছবি এবং মিউজিক ফাইল মুছে ফেলতে ভুলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক তবে আপনার ফোনের আবার চলমান গতি ফিরে পেতে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এছাড়া বিভিন্ন অ্যাপসের কারণে কমে যেতে পারে আপনার ফোনের গতি কেননা অনেক অ্যাপস অনেক সময় আপনার ফোনের বেকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে যা স্লো করে দিতে পারে আপনার ফোনের গতি। এছাড়াও অনেক অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আপনার ফোনের অনেকটুকু জায়গা দখল করে তাই এসব অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস মুছে ফেলাই ভালো।
♦ অ্যাপ্লিকেশন ক্যাশে সাফ করুন আপনার ফোন কখনও কখনও একটি অ্যাপ্লিকেশনের সাথে যুক্ত ছবি ও টুকরো তথ্য সংরক্ষণ করে রাখে যাতে এটা আপনাকে ঐ অ্যাপ্লিকেশন ওপেন করার সময় বার বার ডাউনলোড করতে না হয়। এটা সাধারণত একটা ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য কিন্তু এতেও আপনার ফোন স্লো হয়ে যায়। তাই আপনার যদি মনে হয় আপনার ফোন ধীরগতির হয়ে গিয়েছে তবে এসব ছবি ও টুকরো তথ্য ডিলিট করে দিন। Settings > Storage > Cached data তে যেয়ে ক্লিয়ার করুন আপনার অ্যাপ্লিকেশন ক্যাশে। ♦ অ্যাপ্লিকেশন ক্যাশে সাফ করুন আপনার ফোন কখনও কখনও একটি অ্যাপ্লিকেশনের সাথে যুক্ত ছবি ও টুকরো তথ্য সংরক্ষণ করে রাখে যাতে এটা আপনাকে ঐ অ্যাপ্লিকেশন ওপেন করার সময় বার বার ডাউনলোড করতে না হয়। এটা সাধারণত একটা ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য কিন্তু এতেও আপনার ফোন স্লো হয়ে যায়। তাই আপনার যদি মনে হয় আপনার ফোন ধীরগতির হয়ে গিয়েছে তবে এসব ছবি ও টুকরো তথ্য ডিলিট করে দিন। Settings > Storage > Cached data তে যেয়ে ক্লিয়ার করুন আপনার অ্যাপ্লিকেশন ক্যাশে।

♦ অ্যাপ্লিকেশন ক্যাশে সাফ করুন আপনার ফোন কখনও কখনও একটি অ্যাপ্লিকেশনের সাথে যুক্ত ছবি ও টুকরো তথ্য সংরক্ষণ করে রাখে যাতে এটা আপনাকে ঐ অ্যাপ্লিকেশন ওপেন করার সময় বার বার ডাউনলোড করতে না হয়। এটা সাধারণত একটা ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য কিন্তু এতেও আপনার ফোন স্লো হয়ে যায়। তাই আপনার যদি মনে হয় আপনার ফোন ধীরগতির হয়ে গিয়েছে তবে এসব ছবি ও টুকরো তথ্য ডিলিট করে দিন। Settings > Storage > Cached data তে যেয়ে ক্লিয়ার করুন আপনার অ্যাপ্লিকেশন ক্যাশে।
♦ কাস্টম রম ইনস্টল করার চেষ্টা করুন-আপনার ফোনটি যদি একটি পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোন হয় যা নতুন আপডেট নেওয়ার উপযোগী নয় তবে আপনার ফোনে একটি কাস্টম রম ইনস্টল করুন যা সাম্প্রতিক সফ্টওয়্যার চালানোর অনুমতি দিবে এবং সেই সাথে এটি আপনার ফোনের বর্তমান পারফরম্যান্স মন্দ হলে তা দ্রুত রান করতেও সহায়তা করবে। ♦ কাস্টম রম ইনস্টল করার চেষ্টা করুন-আপনার ফোনটি যদি একটি পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোন হয় যা নতুন আপডেট নেওয়ার উপযোগী নয় তবে আপনার ফোনে একটি কাস্টম রম ইনস্টল করুন যা সাম্প্রতিক সফ্টওয়্যার চালানোর অনুমতি দিবে এবং সেই সাথে এটি আপনার ফোনের বর্তমান পারফরম্যান্স মন্দ হলে তা দ্রুত রান করতেও সহায়তা করবে।

♦ কাস্টম রম ইনস্টল করার চেষ্টা করুন-আপনার ফোনটি যদি একটি পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোন হয় যা নতুন আপডেট নেওয়ার উপযোগী নয় তবে আপনার ফোনে একটি কাস্টম রম ইনস্টল করুন যা সাম্প্রতিক সফ্টওয়্যার চালানোর অনুমতি দিবে এবং সেই সাথে এটি আপনার ফোনের বর্তমান পারফরম্যান্স মন্দ হলে তা দ্রুত রান করতেও সহায়তা করবে।
♦ ক্রোম ব্রাউজার সমস্যার সমাধান-আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ক্রোম ব্রাউজার যদি স্লো হয়ে থাকে তবে এই সমস্যা ঠিক করার জন্য একটি উপায় অবশ্য আছে। আপনার ফোনের ক্রোম ব্রাউজার দ্রুত করতে আপনার ফোনের বেশী মেমরি ব্যবহার করার অনুমতি দিতে পারেন। এর জন্য শুধু ক্রোম খুলুন একটি নতুন ট্যাব আরম্ভ করুন এবং URL বারে নিম্নলিখিত কমান্ড টাইপ করুন: chrome://flags/#max-tiles-for-interest-area এখন একটি মেন্যু আসবে যাতে আপনি কতটুকু মেমোরি ব্যবহার করতে চান তা পরিবর্তন করতে পারেবন এখন ডিফল্ট ♦ ক্রোম ব্রাউজার সমস্যার সমাধান-আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ক্রোম ব্রাউজার যদি স্লো হয়ে থাকে তবে এই সমস্যা ঠিক করার জন্য একটি উপায় অবশ্য আছে। আপনার ফোনের ক্রোম ব্রাউজার দ্রুত করতে আপনার ফোনের বেশী মেমরি ব্যবহার করার অনুমতি দিতে পারেন। এর জন্য শুধু ক্রোম খুলুন একটি নতুন ট্যাব আরম্ভ করুন এবং URL বারে নিম্নলিখিত কমান্ড টাইপ করুন: chrome://flags/#max-tiles-for-interest-area এখন একটি মেন্যু আসবে যাতে আপনি কতটুকু মেমোরি ব্যবহার করতে চান তা পরিবর্তন করতে পারেবন এখন ডিফল্ট

♦ ক্রোম ব্রাউজার সমস্যার সমাধান-আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ক্রোম ব্রাউজার যদি স্লো হয়ে থাকে তবে এই সমস্যা ঠিক করার জন্য একটি উপায় অবশ্য আছে। আপনার ফোনের ক্রোম ব্রাউজার দ্রুত করতে আপনার ফোনের বেশী মেমরি ব্যবহার করার অনুমতি দিতে পারেন। এর জন্য শুধু ক্রোম খুলুন একটি নতুন ট্যাব আরম্ভ করুন এবং URL বারে নিম্নলিখিত কমান্ড টাইপ করুন: chrome://flags/#max-tiles-for-interest-area এখন একটি মেন্যু আসবে যাতে আপনি কতটুকু মেমোরি ব্যবহার করতে চান তা পরিবর্তন করতে পারেবন এখন ডিফল্ট "128" এর জায়গায় "512" নির্বাচন করুন।
♦ প্রসেসিং ক্ষমতা বেশী ব্যবহার করে এমন অ্যাপ্লিকেশনের ব্যাপারে খেয়াল রাখুন প্রায় সময়, আপনার ফোনে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন থেকে পাওয়া অদ্ভুত বাগ বা বিষয় দেখতে পারেন। আসলে কোন অ্যাপ্লিকেশনের কারণে এমনটা হয় তা বলা কঠিন। যদি মনে হয় আপনার ডিভাইসে এমনটা ঘটছে তবে Watchdog Task Manager অ্যাপটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এই অ্যাপ আপনার ফোনের প্রতিটি অ্যাপ কি পরিমাণ কম্পিউটার শক্তি ও রিসোর্স ব্যবহার করে তা মনিটর করে জানাতে সাহায্য করে। ♦ প্রসেসিং ক্ষমতা বেশী ব্যবহার করে এমন অ্যাপ্লিকেশনের ব্যাপারে খেয়াল রাখুন প্রায় সময়, আপনার ফোনে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন থেকে পাওয়া অদ্ভুত বাগ বা বিষয় দেখতে পারেন। আসলে কোন অ্যাপ্লিকেশনের কারণে এমনটা হয় তা বলা কঠিন। যদি মনে হয় আপনার ডিভাইসে এমনটা ঘটছে তবে Watchdog Task Manager অ্যাপটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এই অ্যাপ আপনার ফোনের প্রতিটি অ্যাপ কি পরিমাণ কম্পিউটার শক্তি ও রিসোর্স ব্যবহার করে তা মনিটর করে জানাতে সাহায্য করে।

♦ প্রসেসিং ক্ষমতা বেশী ব্যবহার করে এমন অ্যাপ্লিকেশনের ব্যাপারে খেয়াল রাখুন প্রায় সময়, আপনার ফোনে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন থেকে পাওয়া অদ্ভুত বাগ বা বিষয় দেখতে পারেন। আসলে কোন অ্যাপ্লিকেশনের কারণে এমনটা হয় তা বলা কঠিন। যদি মনে হয় আপনার ডিভাইসে এমনটা ঘটছে তবে Watchdog Task Manager অ্যাপটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এই অ্যাপ আপনার ফোনের প্রতিটি অ্যাপ কি পরিমাণ কম্পিউটার শক্তি ও রিসোর্স ব্যবহার করে তা মনিটর করে জানাতে সাহায্য করে।
♦ অ্যানিমেশন বন্ধ করুন আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোন দ্রুতগতির করতে অ্যানিমেশন ব্যবহার বন্ধ করুন। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম অ্যানিমেশন থেকে পরিত্রাণ পেতে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে একটি সম্পূর্ণ নতুন সেটিংস মেনু আনলক করতে পারেন। Settings > About phone এ যেয়ে নিচে স্ক্রোল করে Build Number এ ঠিক সাত বার ট্যাপ করুন এই কাজ করার পরে, আপনি ফোনের সিস্টেম সেটিংসে একটি ♦ অ্যানিমেশন বন্ধ করুন আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোন দ্রুতগতির করতে অ্যানিমেশন ব্যবহার বন্ধ করুন। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম অ্যানিমেশন থেকে পরিত্রাণ পেতে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে একটি সম্পূর্ণ নতুন সেটিংস মেনু আনলক করতে পারেন। Settings > About phone এ যেয়ে নিচে স্ক্রোল করে Build Number এ ঠিক সাত বার ট্যাপ করুন এই কাজ করার পরে, আপনি ফোনের সিস্টেম সেটিংসে একটি

♦ অ্যানিমেশন বন্ধ করুন আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোন দ্রুতগতির করতে অ্যানিমেশন ব্যবহার বন্ধ করুন। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম অ্যানিমেশন থেকে পরিত্রাণ পেতে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে একটি সম্পূর্ণ নতুন সেটিংস মেনু আনলক করতে পারেন। Settings > About phone এ যেয়ে নিচে স্ক্রোল করে Build Number এ ঠিক সাত বার ট্যাপ করুন এই কাজ করার পরে, আপনি ফোনের সিস্টেম সেটিংসে একটি "ডেভেলপার অপশন" মেনুর অ্যাক্সেস পাবেন। এই মেনুতে আপনি উইন্ডো অ্যানিমেশন স্কেল, অ্যানিমেশন পরিবর্তন স্কেল, এবং অ্যানিমেশন সময়কাল স্কেল পাবেন প্রতিটি ট্যাপ করে .5x এ সেট করুন বা বন্ধ করে দিন।
♦ ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা নিষ্ক্রিয় করুন ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা ব্যবহার করা আপনার ফোন ধীরে চলার একটি অন্যতম কারণ হতে পারে। এটি ব্যবহার সীমিত বা বন্ধ করলে আপনার ফোনের গতি শুধু বাড়াবেই না বরং এটি আপনার প্রতি মাসে ডেটা ব্যবহার কমাতে সাহায্য করতে পারে। কোন অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা ব্যবহার করে তা দেখতে Settings থেকে Data Usage এ গিয়ে দেখতে পারবেন। ♦ ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা নিষ্ক্রিয় করুন ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা ব্যবহার করা আপনার ফোন ধীরে চলার একটি অন্যতম কারণ হতে পারে। এটি ব্যবহার সীমিত বা বন্ধ করলে আপনার ফোনের গতি শুধু বাড়াবেই না বরং এটি আপনার প্রতি মাসে ডেটা ব্যবহার কমাতে সাহায্য করতে পারে। কোন অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা ব্যবহার করে তা দেখতে Settings থেকে Data Usage এ গিয়ে দেখতে পারবেন।

♦ ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা নিষ্ক্রিয় করুন ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা ব্যবহার করা আপনার ফোন ধীরে চলার একটি অন্যতম কারণ হতে পারে। এটি ব্যবহার সীমিত বা বন্ধ করলে আপনার ফোনের গতি শুধু বাড়াবেই না বরং এটি আপনার প্রতি মাসে ডেটা ব্যবহার কমাতে সাহায্য করতে পারে। কোন অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা ব্যবহার করে তা দেখতে Settings থেকে Data Usage এ গিয়ে দেখতে পারবেন।
♦ অন্য সব ব্যর্থ হলে, একটি ফ্যাক্টরি রিসেটের চেষ্টা করুন আপনার ফোন অসহনীয়রূপে ধীরগতির হয়ে গেলে, একটি ফ্যাক্টরি রিসেটের চেষ্টা করুন। এটি আপনার তথ্য, অ্যাপ্লিকেশন, ফটো, মিউজিক সব নিশ্চিহ্ন করে ফেলবে তাই সবকিছুর ব্যাকআপ রাখুন। একটি ফ্যাক্টরি রিসেট মূলত আপনার ফোনটিকে সেই অবস্থায় নিয়ে যাবে যা ফোনটি কেনার সময় ছিল। এর জন্য Settings >Backup থেকে reset>Factory reset এ গিয়ে রিসেট করুন। ♦ অন্য সব ব্যর্থ হলে, একটি ফ্যাক্টরি রিসেটের চেষ্টা করুন আপনার ফোন অসহনীয়রূপে ধীরগতির হয়ে গেলে, একটি ফ্যাক্টরি রিসেটের চেষ্টা করুন। এটি আপনার তথ্য, অ্যাপ্লিকেশন, ফটো, মিউজিক সব নিশ্চিহ্ন করে ফেলবে তাই সবকিছুর ব্যাকআপ রাখুন। একটি ফ্যাক্টরি রিসেট মূলত আপনার ফোনটিকে সেই অবস্থায় নিয়ে যাবে যা ফোনটি কেনার সময় ছিল। এর জন্য Settings >Backup থেকে reset>Factory reset এ গিয়ে রিসেট করুন।

♦ অন্য সব ব্যর্থ হলে, একটি ফ্যাক্টরি রিসেটের চেষ্টা করুন আপনার ফোন অসহনীয়রূপে ধীরগতির হয়ে গেলে, একটি ফ্যাক্টরি রিসেটের চেষ্টা করুন। এটি আপনার তথ্য, অ্যাপ্লিকেশন, ফটো, মিউজিক সব নিশ্চিহ্ন করে ফেলবে তাই সবকিছুর ব্যাকআপ রাখুন। একটি ফ্যাক্টরি রিসেট মূলত আপনার ফোনটিকে সেই অবস্থায় নিয়ে যাবে যা ফোনটি কেনার সময় ছিল। এর জন্য Settings >Backup থেকে reset>Factory reset এ গিয়ে রিসেট করুন।

আপনার কথাটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমানিত নয়। তবুও ছেলেরা মা ভক্ত ও মেয়েরা বাবা ভক্ত হবার দুটি কারণ আছে ।
১। আমাদের আদি পিতা ও মাতাকে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন । তারা পরস্পর ভিন্ন লিঙ্গের । আল্লাহ তায়ালা তাদের থেকে বংশানুক্রমে আমাদের সৃষ্টি । তাদের মায়া-মমতা ছিল বিপরীত লিঙ্গের প্রতি । আমাদের আদি পিতা অর্থাৎ আদম (আঃ) কে হাওয়া (আঃ) এর প্রতি মায়া-মমতা তৈরি করেছেন । আদম (আঃ) জান্নাতে ভুল করেছিলেন বলেই আমরা ভুল করি । আল্লাহ তায়ালা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আদম (আঃ) ও হাওয়া (আঃ) আকৃষ্ট করেছিলেন বলেই আমরা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হই ।
২। হরমোনের কারণে বয়ঃসন্ধির কারণে আমরা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হই । তা মা , বোন ইত্যাদি সব ক্ষেত্রে হয়। মেয়েরা বাবা, ভাই ইত্যাদির প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয় ।

ঈদের নামাজের পদ্ধতি ।

smsoyob
May 23, 2020-এ লিখেছেন

ঈদের  নামাজের নিয়ত ও নিয়মঃ 

এভাবে নিয়ত করা যে, "আমি ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করছি''। নিয়তের সাথে অতিরিক্ত ছয় তাকবিরের সাথে  দুই  রাকাত  ওয়াজিব নামাজ আদায় করছি-এভাবে না বললেও  চলে । এত লম্বা করে নিয়ত করা জরুরি নয়। নিয়ত করার পর অন্যান্য নামাজের মতোই তাকবিরে তাহরিমা বেঁধে সানা পড়বে। সানার পর অতিরিক্ত তিন তাকবির বলবে।

প্রথম তাকবির বলার সময় উভয় হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠাবে এবং তাকির শেষে হাত না বেঁধে ছেড়ে দিবে । তিন বার সুবহানাল্লাহ  বলা যায় এ পরিমান সময় বিলম্ব করে উভইয় হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠিয়ে দ্বিতীয় তাকবির বলবে। অতপর হাত ছেড়ে দিবে। এবারও ঐ পরিমান বিলম্ব করে তাকবির দিবে অতঃপর হাত না ছেড়ে বেঁধে নেবে।

এবার ইমাম যথানিয়মে আউযুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ পড়ে সুরা ফাতিহা পড়বেন এবং অন্য একটি সুরা পড়বেন । মুক্তাদি চুপ থাকবে । তাকবির দিয়ে রুকুতে যাবেন এবং রুকু সেজদা শেষ করে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াবেন । দ্বিতীয় রাকাতে ইমাম  সুরা ফাতিহা পড়বেন এবং অন্য একটি সুরা পড়বেন । রুকুতে যাওয়ার আগে ইমামের সাথে তিনটি তাকবির দিতে হবে । প্রতিবার হাত ছেড়ে দেবেন । এরপর চতুর্থ তাকবির দিয়ে রুকুতে যাবেন । তাকবির ইমাম ও মুক্তাদি উভয়ে দেবেন । এরপর যথানিয়মে নামাজ শেষ করবেন । তারপর ইমাম দুটি খুতবা দেবেন । ঈদের সব সম্পন্ন হয়ে যাবে । খুতবা শোনা ওয়াজিব ।

                               (সবাইকে ঈদ মুবারক)

 

ঈদের দিন এর ফজিলত কী?

smsoyob
May 23, 2020-এ উত্তর দিয়েছেন

 

ঈদের তাৎপর্য ও করণীয় আমল

ঈদ হলো পাপমুক্তির আনন্দ। সফলতা ও বিজয়ের আনন্দ। এ বিজয় নাফসের ওপর আকলের, এ বিজয় শয়তানের ওপর ইনসানের। মনের সব কালিমা দূর করে, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে, মান-অভিমান বিসর্জন দিয়ে সবাই হাতে হাত মেলানো, বুকে বুক মেলানো, গলায় গলা মেলানো, অর্থাৎ সবার দেহ-মন এক হওয়ার আনন্দ হলো ঈদের আনন্দ। নিজের মনের হিংসা, ঘৃণা, লোভ, অহংকার, অহমিকা, আত্মম্ভরি, আত্মশ্লাঘা, রাগ-ক্রোধ, বিদ্বেষসহ যাবতীয় কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজেকে মুক্ত করার আনন্দ। সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ঐক্য, সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির আনন্দ।

‘ঈদ’ মানে আনন্দ উৎসব; ঈদ মানে যা বারবার ফিরে আসে প্রতিবছর। রমজানের রোজার শেষে এ ঈদ আসে বলে এর নাম ‘ঈদুল ফিতর’। ‘ফিতর’ মানে উপবাস ভঙ্গ করা বা রোজা ভঞ্জন; বাংলায় এটি রোজার ঈদ। রোজার পর যেদিন সকালে প্রথম সুন্নত মিষ্টান্নের মাধ্যমে প্রাতরাশ গ্রহণ করা হয়, তা হচ্ছে ঈদের দিন। মুসলিম মিল্লাতের দুটি ঈদের একটি ঈদুল ফিতর। সুতরাং ঈদুল ফিতর বিশ্ব মুসলিমের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহা উৎসব। এটি আরবি হিজরি সনের দশম মাস তথা শাওয়াল মাসের প্রথম দিন। রমজান মাসের পূর্ণ নাম হলো ‘রমজানুল মোবারক’ মানে বরকতময় রমজান। শাওয়াল মাসের পূর্ণ নাম হলো ‘শাওয়ালুল মুআজ্জম’ অর্থাৎ মহিমাময় শাওয়াল। রমজানের বরকত লাভের জন্য ত্যাগ, কষ্ট-ক্লেশ ও আয়াস সাধ্য-সাধনার পর যে মাসটি সাফল্যের বার্তা নিয়ে আসবে, তা অবশ্যই মহান। সে মাসের প্রথম দিনই ঈদ উৎসব। এই দিনে ‘জাকাতুল ফিতর’ বা ‘সদকাতুল ফিতর’ তথা ফিতরা প্রদান করা হয়; তাই এটি ঈদুল ফিতর।

নবী করিম (সা.) বলেছেন: রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে। একটি হলো যখন সে ইফতার করে; দ্বিতীয়টি হবে যখন সে তার মাবুদ আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। (বুখারি)। রোজাদার প্রতিদিন ইফতার করে; আবার পরের দিন রোজা রাখে। এটি হলো ছোট ইফতার; কারণ, এটির পর আবারও রোজা আসে। ইফতার বা ফিতর হলো রোজা পূর্ণ করার পর আহার গ্রহণ করা; পূর্ণ রমজান মাস রোজা পালন শেষে শাওয়াল মাসের প্রথম দিন সকালে যখন রোজাদার মিষ্টিমুখ করে, তখন সে এক বছরের জন্য প্রকৃত অর্থে ইফতার করে বা সিয়াম সাধনা সম্পূর্ণ করে আজ প্রথম সকালের আহার গ্রহণ করে; তাই এটি এক বছরের জন্য বড় ইফতার; সুতরাং ঈদুল ফিতর রোজাদার মোমিন মুসলমানের জন্য পরম আনন্দের দিন। হজরত খাজা মুঈনুদ্দিন চিশতি (র.) বলেছেন, ফিতর বা ইফতার মানে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করা। ঈদুল ফিতর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, রমজান মাসের রোজার মাধ্যমে কুপ্রবৃত্তিগুলোকে ভেঙে চুরমার করে, কলবকে আল্লাহর আসন হিসেবে গড়ে তোলার আনন্দ উপভোগ ও উদ্‌যাপন করা।

প্রতিটি জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায় নির্দিষ্ট দিনে আনন্দ করে থাকে। সাধারণত দেখা যায়, যারা ধনী তারা আনন্দ-ফুর্তি করে, গরিব অসহায়রা তা হতে বঞ্চিত থাকে। ঈদের খুশি শুধু ধনীরা পাবে, তা নয়, বরং গরিব-অসহায়রাও ঈদের খুশি ভোগ করবে। তাই ঈদুল ফিতরের সময় ধনীদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর অত্যাবশ্যক করা হয়েছে। মুসলমানদের সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ ঈদুল ফিতর। রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস মাহে রমজান। যাঁরা মাহে রমজানকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পেরেছেন, তাঁদের জন্য ঈদ খুশির বার্তা নিয়ে আসে।

ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য হলো—আমি আল্লাহ পাকের একটা বড় ইবাদত পালন করার তৌফিক পেয়েছি বলে আমি মহাখুশি; তাই তাঁর শোকর আদায় করার জন্য ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করছি। এ জন্যই ঈদের নামাজকে সালাতুশ শুকর তথা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নামাজ বলা হয়। এতে মোমিন বান্দার জন্য আনন্দও আছে, সেই আনন্দ খুশির বহিঃপ্রকাশ করা হয় আরেকটি হুকুম পালন করার মাধ্যমে। এ হলো আমাদের ঈদের আনন্দ উৎসবের তাৎপর্য; কারণ, আমাদের আনন্দ উৎসব সবই ইবাদত। এতে ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ রয়েছে। ঈদ দিয়েছেন আল্লাহ পাক, তা পালন করতে হবে আল্লাহর বিধান ও রাসুলের নির্দেশিত সুন্নত নিয়মের মাধ্যমে। আমাদের উচিত ঈদে সব ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সব ক্ষেত্রে ইসলামি আদর্শ ও সুন্নত নিশ্চিত করা।

ঈদুল ফিতরের জন্য উনত্রিশে রমজান ঈদের চাঁদ দেখা সুন্নত; এদিন চাঁদ উদিত না হলে ৩০ রমজানও চাঁদ দেখা সুন্নত; যদিও এদিন চাঁদ দেখা না গেলে পরদিন ১ শাওয়াল তথা ঈদুল ফিতর হবে। ঈদের চাঁদ তথা নতুন চাঁদ দেখে দোয়া পড়া সুন্নত। ঈদের রাত হলো ইবাদতের বিশেষ রাতগুলোর অন্যতম; তাই ঈদের রাতে বেশি বেশি নফল ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকা উত্তম। ঈদের আগেই শারীরিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করতে হবে; হাত-পায়ের নখ কাটতে হবে, গোঁফ ছোট করতে হবে। ঈদের রাতে ঘুমানোর আগে চোখে সুরমা ব্যবহার করতে হবে। সকালে গোসল করতে হবে। সকালবেলায় মিষ্টান্ন আহার এবং নতুন পোশাক বা সাধ্যমতো ও সামর্থ্য অনুযায়ী সুন্দর ও উত্তম ইসলামি সুন্নতি পোশাক পরতে হবে। সেই সঙ্গে পুরুষেরা টুপি বা পাগড়ি পরবেন। চাইলে আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারবেন। সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে (আগে আদায় করলেও হবে)। পুরুষদের ঈদের মাঠে যাওয়া ও ঈদের জামাতে শামিল হতে হবে এবং খুতবা শুনতে হবে। সম্ভব হলে ঈদগাহে এক পথে গিয়ে অন্য পথে ফিরে আসা। ঈদের মাঠে যাওয়া-আসার পথে আস্তে আস্তে তাকবির (আল্লাহু আকবার) বলতে হবে। ঈদের দিন আত্মীয়স্বজনের কবর জিয়ারত করা ভালো।

জয়নাল আবেদীন নামের অর্থ কি?

smsoyob
May 23, 2020-এ উত্তর দিয়েছেন
জয়নাল আবিদীন- (আরবিতে زين العابدين )নামটির অর্থ হল- ইবাদতকারী তথা আল্লাহওয়ালাদের সৌন্দর্য; ইবাদতকারীদের শোভা।

Loading...