1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত রাহুময় চাকমা নৃগোষ্ঠীর এবং সুজাত চিয়ান গারো নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছে।
চাকমা ও গারো সমাজের পরিবার, বিবাহ ও ধর্মের তুলনা করা যায়। গারোদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মের নাম সাংসারেক। বর্তমানে বাংলাদেশের ৯০ ভাগ গারোই ধর্মান্তরিত খ্রিষ্টান, ২ ভাগ মুসলমান ও হিন্দু, বাকি ৮ ভাগ ঐতিহ্যবাহী ধর্মের লোক। গারোদের প্রধান পূজার নাম হচ্ছে ওয়াংলা বা ওয়ানগালা, গারোদের মধ্যেও জীবহত্যা, নৃত্যানুষ্ঠান এবং আনুষ্ঠানিকভাবে মদ্যপান ধর্মের সাথে যুক্ত। অন্যদিকে, চাকমারা প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। 'কঠিন চীবর দান' অনুষ্ঠান হচ্ছে তাদের বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান, তারা গোজন নামের ঐশ্বরকে খুবই ভক্তি শ্রদ্ধা করে।
আবার গারো সমাজে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার বিদ্যমান। তাই সম্পত্তি ও বংশ নাম মাতৃসূত্রীয় ধারায় বর্তায়। বিবাহের পর দম্পতি স্ত্রীর বাবার গৃহে বসবাস করে। অন্যদিকে, চাকমা পরিবার পিতৃতান্ত্রিক। চাকমা পরিবারের ক্ষমতা স্বামীর বা বয়স্ক পুরুষের হাতে ন্যস্ত। সম্পতি বা বংশ পরিচয় পিতা থেকে পুত্রে বর্তায়। বিয়ের পর চাকমা দম্পতি স্বামীর পিতৃগৃহে বা পিতার গৃহে বসবাস করে।
গারোরা একই গোত্রে বিবাহ করতে পারে না এবং 'প্যারালাল কাজিন' বিবাহ নিষিদ্ধ। গারোদের মধ্যে একক বিবাহ বেশি দেখা যায় এবং বহু বিবাহ বা বিবাহ বিচ্ছেদ খুবই কম হয়। অন্যদিকে, চাকমা সমাজে অর্ন্ত বিবাহ ও বহির্বিবাহ উভয়ই প্রচলিত আছে। চাকমা সমাজে 'ক্রস কাজিন' ও 'প্যারালাল কাজিন' বিবাহ প্রচলিত থাকলেও আপন চাচাতো ভাই বোনের মধ্যে বিয়ে অনুষ্ঠানে সামাজিক বিধি-নিষেধও রয়েছে। চাকমা সমাজে বহুস্ত্রী বিবাহ প্রচলিত।
সুতরাং উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, চাকমা ও গারো সমাজের পরিবার, বিবাহ ও ধর্ম সম্পূর্ণ আলাদা।