1 Answers
হ্যা, আমি মনে করি, উদ্দীপক দ্বারা নির্দেশকৃত নৃগোষ্ঠী তথা রাখাইন এবং আধুনিক সমাজ বা বাঙালিদের বিবাহ ব্যবস্থার মধ্যে সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাদৃশ্য বিদ্যমান। রাখাইনদের মতে, বিয়ে হচ্ছে ধর্ম পালনের অনিবার্য শর্ত। রাখাইনদের মধ্যে চাচাতো, ফুফাতো, খালাতো ভাই-বোনের বিয়ে নিষিদ্ধ হলেও মামাতো ভাই-বোনের বিয়ে বৈধ। তবে সাধারণত এ ধরনের বিয়ে করার বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা হয়। অতীতে রাখাইন ছেলে-মেয়েরা পরিবারের পছন্দের পাত্রী বা পাত্রকেই বিবাহ করত। কিন্তু ইদানিং শিক্ষার প্রসার এবং যুগের দাবির প্রেক্ষিতে বয়ঃপ্রাপ্ত রাখাইন ছেলে-মেয়েরা অভিভাবকদের সম্মতি নিয়ে নিজেদের পছন্দমতো পাত্র বা পাত্রীকে বিয়ে করছে। রাখাইন সমাজে সাধারণত মেয়ের বাড়িতে বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। বিয়ের আগে বর ও কনের বাড়িতে বিয়েকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় পিঠা ও মজাদার খাবার। বর আসার পথে সুন্দর করে গেট সাজানো হয়।
বসার জন্য প্যান্ডেল নির্মিত হয়ে থাকে। দূর থেকে আত্মীয়- পরিজনের আগমনে আনন্দঘন হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ। বর আসার পর বরের কাছ থেকে দক্ষিণা আদায়সহ বিভিন্ন রীতি- রেওয়াজ পালন করা হয়। আহার পর্ব শেষে কনেকে সাজিয়ে আনা হয়। এরপর একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু বা ঠাকুর বর-কনের সুখী জীবন কামনা করে 'মঙ্গলসূত্র' পাঠ করেন। সবশেষে একজন বয়স্ক মহিলা বর ও কনের হাতে হাত মিলিয়ে দেন। অন্যদিকে বাঙালি মুসলিম বা হিন্দু সমাজে পিতৃসূত্রীয় কিংবা মাতৃসূত্রীয় কাজিনদের সাথে বিবাহে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, যেমনটা রাখাইন সমাজে দেখা যায়। বর্তমানে আধুনিক বা বাঙালি সমাজেও ছেলে-মেয়েরা অভিভাবকদের সম্মতিক্রমে নিজেদের পছন্দমতো পাত্রী বা পাত্রের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বাঙালিদের বিবাহ অনুষ্ঠানও কনের বাড়িতেই সম্পন্ন হয়ে থাকে। তবে বাঙালিদের মতো রাখাইন সমাজে বিবাহ পরবর্তী ভোজের আয়োজন করা হয় না। এ ধরনের দু'একটি ব্যতিক্রম ছাড়া বিবাহের প্রস্তাব, বিয়ের বাড়ি সজ্জিতকরণ, বরের আগমন প্রভৃতি ক্ষেত্রে আধুনিক সমাজে যে ধরনের আচার- অনুষ্ঠান পালিত হয়, তার সাথে রাখাইনদের বিবাহব্যবস্থার অনেকাংশেই মিল পাওয়া যায়।