1 Answers

উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতিটি হলো বন্যা। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে সহজেই বন্যার শিকার হয়।
জলজ উদ্ভিদ ছাড়া অধিকাংশ ফসল বন্যা বা জলাবদ্ধ অবস্থায় বেঁচে থাকতে পারে না। এ অবস্থায় মাটিতে অক্সিজেনের অভাবে উদ্ভিদের মূল শ্বসন কাজ চালাতে পারে না। যত দ্রুত মাটি বা পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন শেষ হয় উদ্ভিদগুলো তত দ্রুত মারা যায়।

দেশের বিস্তৃত বন্যাপ্রবণ এলাকায় প্রধান ফসল ধান। কারণ বন্যা প্রতিরোধের জন্য ধানগাছের কিছু অভিযোজনীয় কলাকৌশল রয়েছে।
ধানগাছে অ্যারেনকাইমা জাতীয় টিস্যু থাকে। এ টিস্যুর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে বায়ুকুঠুরি থাকে। বায়ুকুঠুরিতে অক্সিজেন জমা হয়। ফলে ধানগাছ ডুবে গেলেও বন্যা বা জলাবদ্ধ অবস্থায় বেঁচে থাকে এবং 'ভালো ফলন দেয়- তবে অনেকদিন ডুবে থাকলে মারা যায়। আবার গভীর পানির আমন ধান বন্যার পানি বাড়ার সাথে সাথে উচ্চতায় বাড়তে থাকে। এসব জাতের ধান গাছের মধ্যে এক ধরনের ভাজক কলা থাকে যা বন্যার পানি বাড়ার সাথে সাথে দ্রুত বিভাজিত হয়ে গাছের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটিয়ে বন্যা মোকাবিলা করে। আবার লম্বা জাতের ধান উচ্চতার কারণে বন্যা এড়াতে পারে।

অতএব বলা যায়, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ফসল বন্যার মতো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে উল্লিখিত অভিযোজন কৌশল অবলম্বন করে ফসল উৎপাদন করে।

5 views

Related Questions