1 Answers
কৃষি গবেষকগণ খরা, লবণাক্ততা, বন্যা ইত্যাদি বিরূপ পরিবেশে ফসলের অভিযোজন কৌশল খুঁজে বের করেছেন।
খরায় অভিযোজন কৌশল: খরা অবস্থায় ফসলের জন্য মাটিতে প্রয়োজনীয় রসের ঘাটতি থাকে। এ অবস্থায় ফসল খরা এড়ানো ও খরা প্রতিরোধ করার মাধ্যমে টিকে থাকে। খরা প্রতিরোধ কৌশলকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
(i) খরা সহ্যকরণ: কোষের পানিশূন্যতা রোধকরণ, মোটা কোষ প্রাচীর, উপোসকরণ, কোষগহ্বর শূন্যতা, সুপ্তাবস্থা ইত্যাদি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদ খরা সহ্য করে।
(ii) খরা পরিহারকরণ: পত্ররন্দ্র নিয়ন্ত্রণ, প্রস্বেদন নিয়ন্ত্রণ, পাতার আকার হ্রাসকরণ, পাতা ঝরানো, সালোকসংশ্লেষণ দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ, দক্ষ মূলতন্ত্র, পাতা মোড়ানো ও পাতা কুঞ্চিতকরণ, পাতার দিক পরিবর্তন ইত্যাদি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদ খরা প্রতিরোধ করে।
লবণাক্ততায় অভিযোজন কৌশল: কোষের রসস্ফীতি বজায় রাখার জন্য
উদ্ভিদ মাটি হতে বিভিন্ন প্রকার আয়ন (Na+, K+) আহরণ করে লবণাক্ততার বাধা অতিক্রম করে। আবার কিছু প্রজাতির পাতায় এক ধরনের লবণ জালিকা থাকে যার মাধ্যমে অতিরিক্ত আয়ন বের করে দিতে পারে। আবার কিছু প্রজাতির উদ্ভিদ পাতার আয়ন বাড়িয়ে শরীরে লবণের ঘনত্ব কমিয়ে নেয়। কোনো কোনো প্রজাতির উদ্ভিদ কোষগহ্বরে বিভিন্ন জৈব দ্রাব জমা রাখে যার মাধ্যমে কোষের রসস্ফীতি বজায় থাকে।
জলাবদ্ধ অবস্থায় অভিযোজন কৌশল: কিছু উদ্ভিদে (যেমন- ধান গাছে)এ্যারেনকাইমা টিস্যু থাকে। এই টিস্যুতে প্রচুর বায়ু কুঠুরি থাকে যাতে অক্সিজেন জমা থাকে। ফলে বন্যা বা জলাবদ্ধ অবস্থাতেও ধান গাছ বেঁচে থেকে ভালো ফলন দিতে পারে। গভীর পানির আমন ধান গাছে এক ধরনের ভাজক কলা থাকে যা দ্রুত বিভাজনে সক্ষম। ফলে বন্যার পানি বাড়ার সাথে সাথে এসব ধান গাছ দৈহিক বৃদ্ধি ঘটিয়ে উচ্চতায় বাড়তে থাকে। আবার লম্বা জাতের ধান উচ্চতার কারণে বন্যা এড়াতে পারে।
অতএব বলা যায়, অভিযোজনের উল্লিখিত কৌশল কাজে লাগিয়ে বিরূপ পরিবেশে ফসল টিকে থাকে।