উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্র ও 'খ' রাষ্ট্রে উল্লেখিত বিষয়ের মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' রাষ্ট্রে উল্লেখিত বিষয়গুলো হলো স্বাধীনতা ও সাম্য।
স্বাধীনতা হলো অন্যের কাজে হস্তক্ষেপ না করে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কাজ করা। অপরদিকে, সাম্য বলতে সমাজে সবার সমান মর্যাদাকে বোঝায়। সাম্যের মাধ্যমে সমাজে সবাই সমানভাবে কাজ করার সুযোগ পায়। কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণির জন্য বিশেষ সুযোগ থাকে না।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের জনগণ স্বাধীনতা এবং 'খ' রাষ্ট্রের জনগণ সাম্য উপভোগ করে। স্বাধীনতা এবং সাম্যের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর নির্ভরশীল। সাম্য ছাড়া স্বাধীনতার কথা যেমন কল্পনা করা যায় না, ঠিক তেমনি স্বাধীনতা ছাড়া সাম্যের কথা ভাবা যায় না। একটি রাষ্ট্র যত সাম্যভিত্তিক হবে সেখানে স্বাধীনতা তত নিশ্চিত হবে। আবার সাম্য ও স্বাধীনতা গণতন্ত্রের ভিত্তিরূপে কাজ করে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সাম্যের যেমন দরকার হয়, তেমনি স্বাধীনতার প্রয়োজন হয়। সাম্য ও স্বাধীনতা একই সাথে বিরাজমান না থাকলে গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করা সম্ভব হবে না। সাম্য বিভিন্ন ভেদাভেদ দূর করে, আর স্বাধীনতা সকলের সুযোগ-সুবিধাগুলো ভোগ করার অধিকার দান করে। রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া সাম্যভিত্তিক সমাজ গঠন করা সম্ভব হয় না। আর সমাজের সুবিধাগুলো সবাই মিলে সমানভাবে ভোগ করতে হলে স্বাধীনতার প্রয়োজন।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয় দু'টি অর্থাৎ স্বাধীনতা ও সাম্যের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।