অধিকার ও কর্তব্যের পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ'- উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
"অধিকার ও কর্তব্য শব্দ দুটি ভিন্ন হলেও এদের পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ”- উক্তিটি যথার্থ।
অধিকার ভোগ করলে কর্তব্য পালন করতে হয়। যেমন- ভোটদান নাগরিকের অধিকার আর ভোটাধিকার প্রয়োগ নাগরিকের কর্তব্য। একটি ভোগ করলে অন্যটি পালন করতে হয়। সুতরাং বলা যায়, অধিকার ভোগের মধ্যে কর্তব্য নিহিত থাকে। একজনের অধিকার বলতে অন্যজনের কর্তব্য নির্দেশ করে। যেমন- আমার পথ চলার অধিকার আছে- এর অর্থ আমি পথ চলব এবং অন্যকেও পথ চলতে দেব। আবার আমি যখন পথ চলব অন্যজনও আমার পথ চলার সুযোগ করে দেবে। কাজেই অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
আমরা রাষ্ট্র প্রদত্ত সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ভোগ করি। তার বিনিময়ে আমাদের কর্তব্য পালন করতে হয়। রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকা, আইন মান্য করা, কর প্রদান করা ইত্যাদি কর্তব্য পালনের মাধ্যমেই আমরা রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকার ভোগ করি। সমাজের সদস্য হিসেবে আমরা শিক্ষালাভের অধিকার ভোগ করি এবং সমাজের কল্যাণে আমাদের অর্জিত শিক্ষাকে প্রয়োগ করে সমাজের উন্নয়ন করি। শিক্ষালাভ আমাদের অধিকার, অর্জিত শিক্ষা প্রয়োগ করা কর্তব্য। তাই বলা যায়, অধিকার ও কর্তব্যের পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বিপাশা ও তুয়াশা রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগের পাশাপাশি কর্তব্যও পালন করে। মূলত, অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। একটিকে বাদ দিয়ে অপরটি ভোগ করা সম্ভব নয়। তাই বলা যায়, অধিকার কর্তব্যের মধ্যেই নিহিত।