1 Answers

হ্যাঁ, আমি মনে করি, এ ধরনের নদীর মতো অন্যান্য নদনদীর সাথে জনবসতির সম্পর্ক নিবিড়।

প্রাচীন যুগ থেকে মানুষ নদনদীর তীরবর্তী সমতল ভূমিতে বসবাস শুরু করে। নদনদীকে কেন্দ্র করে মানুষ খাদ্যোৎপাদন, মাছ শিকার, পণ্য পরিবহন, ব্যবসায় বাণিজ্য ইত্যাদি গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থায়ী বসতি হিসেবে গ্রাম ও শহরে গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশে জনসংখ্যার বিস্তার সর্বাধিক ঘটেছে নদীগুলোর তীরে। ফলে অধিকাংশ শহর, গঞ্জে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন নদীর তীরে। যেমন বুড়িগঙ্গার তীরে ঢাকা, কর্ণফুলীর তীরে চট্টগ্রাম, শীতলক্ষ্যার তীরে নারায়ণগঞ্জ, সুরমার তীরে সিলেট, গোমতীর তীরে কুমিল্লা ইত্যাদি। গঙ্গা-কপোতাক্ষ পরিকল্পনা থেকে দেশের কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কৃষিজ জমিতে পানি সেচ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে ঐ অঞ্চলের মানুষ কৃষি উৎপাদনে লাভবান হচ্ছে। কর্ণফুলী বহুমুখী পরিকল্পনা থেকে ৬৪৪ কি.মি. নৌ চলাচল করছে, ১০ লক্ষ একর জমিতে কৃষিজ ফলন হচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের কাপ্তাই নামক স্থানে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। তিস্তা বাঁধ থেকে রংপুর, বগুড়া ও দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষ এখন সুবিধা ভোগ করছে। মেঘনা নদী থেকে পানি নিয়ে বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম জেলার চাষাবাদ উন্নত করা সম্ভব হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক জীবনব্যবস্থা উন্নত করা সুস্বাস্থ্য রক্ষা করা, নির্মল বায়ু ও শহরগুলোর পানির ব্যবস্থা করাসহ জনজীবন গতিশীল রাখার ক্ষেত্রে নদনদীর ভূমিকা দিন দিন বেড়েই চলছে। সে কারণেই দেশে এখন পরিবেশবাদীগণ 'নদী বাঁচাও' জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করছে।

4 views

Related Questions