উপর্যুক্ত খনার বচনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে ভূমি কর্ষণের গুরুত্ব মূল্যায়ন করো। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
খনার বচনটি হলো "ষোল চাষে মুলা, তার অর্ধেক তুলা, তার অর্ধেক ধান, বিনা চাষে পান" যা থেকে আমরা ভূমি কর্ষণের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারি।
যে প্রক্রিয়ায় মাটিকে ঝুরঝুরা করে বীজের অঙ্কুরোদগমের অবস্থায় আনা ও ফসল জন্মানোর উপযোগী করা হয় সেটাই ভূমি কর্ষণ। উপরের খনার বচন থেকে বলা যায় যে, ফসলভেদে ভূমি কর্ষণের সংখ্যার তারতম্য হতে পারে। অর্থাৎ, মুলা চাষের জন্য ষোলটি চাষ দিতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না মাটি ঝুরঝুরা বা আলগা হয়। তুলা চাষের জন্য আট চাষ দিতে হবে। আর ধান চাষের জন্য চারটি চাষই যথেষ্ট। অপরদিকে পান উৎপাদনে কোনো চাষই লাগে না।
ভূমি কর্ষণ হলো জমি প্রস্তুতির প্রথম ধাপ। ভূমি কর্ষণের ফলে বীজকে অঙ্কুরোদগমের জন্য উপযুক্ত স্থানে ও সঠিক গভীরতায় স্থাপন করা যায়। মাটিতে বায়ু চলাচলের সুবিধা সৃষ্টি করা যায়। ভূমি ভালোভাবে কর্ষণ করলে উঁচু-নিচু জমি সমতল ও আঁটসাঁট হয়। এর ফলে বৃষ্টি বা সেচের পানি গড়িয়ে অন্যত্র যেতে পারে না বলে পানির অপচয় ও ভূমিক্ষয় রোধ হয়। ভূমি কর্ষণের মাধ্যমে উপরের মাটি নিচে এবং নিচের মাটি উপরে নিয়ে আসা যায়। ফলে ফসলের জন্য ক্ষতিকর পোকা যেমন: উই, উড়চুঙ্গা, পিপীলিকা প্রভৃতি চাষের সাথে মাটির উপরে উঠে আসে এবং পাখিরা এগুলো খেয়ে দমন করে। তাছাড়া সূর্যালোকের তাপে সেগুলো ধ্বংস হয়। এছাড়া ভূমি কর্ষণের ফলে মাটিতে অণুজীবের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায়।
অতএব বলা যায়, ফসলভেদে ভূমি কর্ষণের সংখ্যা কম-বেশি হতে পারে।
তাছাড়া মাটির গঠন উন্নত করে উর্বরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বীজ গজানোর অত্যন্ত উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ভূমি কর্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।