1 Answers
সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ প্রতি বছরই মে মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাসে ঢল বন্যার শিকার হয়।
প্রতি বছর দেশের প্রায় ২৫% জমি বন্যার কারণে বিভিন্ন মাত্রায় প্লাবিত হয়। দেশের মোট উৎপাদিত দানা শস্যের ৬০ ভাগের বেশি এ সময় উৎপাদন হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যার তীব্রতা, স্থায়িত্ব ও ঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘন ঘন বন্যার কারণে কৃষকেরা স্থানীয় জাতের আমন ধান চাষে বাধ্য হয়ে পড়ে। কারণ এসব জাত গভীর পানিতে জন্মাতে পারে, এতে করে উৎপাদন কম পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে বন্যার কারণে প্রচলিত জাতের ফসল চাষ করা সম্ভব হয় না। এমনকি বীজতলা তৈরির জন্য জমি অপ্রতুল থাকে ফলে দাপোগ পদ্ধতির বীজতলা তৈরি করতে হয়। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত পানির জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। ফলে মাটি জলাবদ্ধতা ও লবণাক্তার কারণে ফসল চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, নীলফামারী ইত্যাদি জেলা ঢল বন্যার শিকার হয়। প্রায় প্রতিবছর এসব অঞ্চলের হাজার হাজার একর জমির পাকা বোরো ধান কর্তনের আগেই ঢল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার পানি নিয়ন্ত্রণ ও সমুদ্রের লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ ঠেকাতেও আরও বেশি বাঁধ, ফ্লুইস গেট নির্মাণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বন্যা বাংলাদেশের ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বিস্তার করছে।