1 Answers
উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশ ও সংগঠন সদ্য স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশকে তাদের সাধ্যানুযায়ী সাহায্য করেছিল। উদ্দীপকের এ বিষয়টির সাথে আমি একমত।
বঙ্গবন্ধুর সরকার বিশ্বের সকল দেশের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করায় ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়নসহ অন্যান্য সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের আন্তরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তারা তাদের সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য করে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে ভারত সরকার বিমান, জাহাজ থেকে শুরু করে খাদ্যশস্য, পেট্রোলিয়াম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সাহায্য ও অনুদান হিসেবে প্রদান করে। ১৯৭২-এর জুন মাস পর্যন্ত প্রাপ্ত শতকরা ৬৭.০১ ভাগ প্রদান করে ভারত। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ভারতীয় সাহায্য ব্যতীত বাংলাদেশকে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় থেকে বাঁচানো সম্ভব হতো না। তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশ হওয়া সত্ত্বেও - ভারত বাংলাদেশের পুনর্গঠনে বিপুল পরিমাণ সাহায্য প্রদান করেছিল।
অধিকন্তু বঙ্গবন্ধুর সরকার দেশের স্বার্থে পুঁজিবাদী ও মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৩০টি দেশের স্বীকৃতি অর্জন করেছিল। এছাড়াও জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ ও ইসলামি সম্মেলন সংস্থার সদস্যপদসহ ১৪টি আন্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্যপদ লাভ করেছিল।
উপরের আলোচনায় সুস্পষ্ট যে, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনে ভারতসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সংগঠন তাদের সাধ্যানুযায়ী সহযোগিতা করেছিল।