1 Answers
উদ্দীপকের 'খ' অঞ্চলের গণঅভ্যুত্থান বলতে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানকে বোঝানো হয়েছে।
১৯৬৯ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে এক দূর্বার আন্দোলন, যা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত। এই গণঅভ্যুত্থান ছিল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরবর্তীকালে সংঘটিত সবচেয়ে বৃহৎ আন্দোলন। দীর্ঘদিন ধরে শাসন-শোষণ ও বিভিন্ন আন্দোলনের সমন্বিত রূপ ছিল এই গণঅভ্যুত্থান। পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য ও নিপীড়নমূলক নীতি অনুসরণ করে। এর প্রতিবাদে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের এক পর্যায়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের যৌথে উদ্যোগে গড়ে ওঠা সংগঠন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি নিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ডাক দেয়। এ কর্মসূচি শুধু ছাত্রদের নয়, আপামর জনগণের আন্দোলনে অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে। ১১ দফা দাবির মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দাবির মধ্যে ছিল- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুখ্যাত অর্ডিন্যান্স বাতিলসহ শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, বাক-স্বাধীনতা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বৃহৎ শিল্পের জাতীয়করণ, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদান, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, জরুরি আইন, নিরাপত্তা আইন ও অন্যান্য নির্যাতনমূলক আইন প্রত্যাহার, নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ, অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি ইত্যাদি। অর্থাৎ যে দাবিগুলো নিয়ে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল তার সবগুলোই ছিল যৌক্তিক।
পরিশেষে তাই বলা যায়, গণ-অভ্যুত্থান ছিল পাকিস্তানি শোষকদের বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি যৌক্তিক আন্দোলন।