1 Answers

উদ্দীপকের 'ক' অঞ্চলের পরিণতি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা একসূত্রে গাঁথা- উক্তিটি যথার্থ।

পূর্ব বাংলার জনগণের প্রতি পাকিস্তান রাষ্ট্রের চরম বৈষম্যমূলক আচরণ ও অবহেলার বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম সুস্পষ্ট রূপ লাভ করে ৬ দফার স্বায়ত্তশাসনের দাবিনামায়। পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আন্দোলনের পটভূমিতে ছয় দফার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। ছয় দফা কর্মসূচি নিরাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত বাঙালি জাতিকে সংগ্রামের শক্তি যুগিয়েছিল। প্রেরণা যুগিয়েছিল স্বৈরাচারী ও গণবিরোধী শাসকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে। সরকার এ আন্দোলন দমনে যতই নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে ততই আন্দোলন দ্রুত দানা বাঁধতে থাকে। বাঙালি জাতীয়তাবাদ ততোই সুসংহত রূপ লাভ করে। পুলিশ নিরস্ত্র জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করলে ছয় দফা কর্মসূচিভিত্তিক আন্দোলন এদেশে সর্বপ্রথম গণমুখী আন্দোলন গড়ে তোলে। ছয় দফাভিত্তিক স্বাধিকার আন্দোলনের সিঁড়ি বেয়ে ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান হয়। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক শাসন প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়। এর ফলে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ভিত কেঁপে ওঠে। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এতদসত্ত্বেও পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্র করা শুরু করে। ফলে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য পূর্ব বাংলার জনগণ লাগাতার অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে সশস্ত্র সংগ্রামের দিক নির্দেশনা দেন। কিন্তু পাকিস্তানি সরকার ২৫ মার্চে গণহত্যা শুরু করলে বাঙালিরা স্বাধীনতার চূড়ান্ত সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বহু প্রাণের বিনিময়ে ও সংগ্রামের ফলস্বরূপ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

একইভাবে উদ্দীপকে 'খ' অঞ্চলের নেতাদের বৈষম্যমূলক আচরণের ফলে 'ক' অঞ্চলের নেতার দাবিসমূহ ঐ অঞ্চলের স্বাধীনতার পথ সুগম করে যা এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, 'ক' অঞ্চলের পরিণতি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা একসূত্রে গাঁথা।

5 views

Related Questions