1 Answers

উল্লিখিত আন্দোলন অর্থাৎ ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি স্বাধীনতা আন্দোলনে উজ্জীবিত হয়েছিল- উক্তিটি যথার্থ।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্যসাধারণ ঘটনা। এ আন্দোলন ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির প্রথম প্রতিবাদ। মাতৃভাষা বাংলার প্রতি অবমাননা বাঙালির চেতনার মর্মমূলে আঘাত করে এবং ধীরে ধীরে তারা স্বতন্ত্র জাতীয়তাবাদী চেতনায় উজ্জীবিত হয়। ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি নিজেদের বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালি জাতি পশ্চিম পাকিস্তানি অবাঙালি শাসকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবহেলা, বঞ্চনা ও শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছিল। ভাষা আন্দোলনে নেমে তারা বুঝতে পারে, পাকিস্তানের হাতে তাদের ভাষা তথা সংস্কৃতিও নিরাপদ নয়। বায়ান্নতে বাংলা ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করার বিষয়টি বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ঐক্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।
বস্তুত ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির সাংস্কৃতিক স্বাধিকারের আন্দোলন। পরবর্তীকালে এই আন্দোলন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সূত্রপাত করে। ভাষা আন্দোলনের সাফল্যই ষাটের দশকের স্বাধিকার আদায়ের রাজনৈতিক আন্দোলনে প্রেরণা যোগায়। আর স্বায়ত্তশাসনের দাবির পথ ধরে আসে স্বাধীনতার দাবি। তারই ফলে বীর বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটায়।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, ভাষা আন্দোলনের ফলে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য উজ্জীবিত হয়েছিল।

4 views

Related Questions