1 Answers
হ্যাঁ, আমি মনে করি দ্বিতীয় দৃশ্যের মিশরীয় জনগণের মতোই বাংলাদেশের জনগণও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন তথা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিল।
১৯৮২ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে ১৯৯০ সালে ক্ষমতা ত্যাগের পূর্ব পর্যন্ত দীর্ঘ নয় বছরের প্রায় পুরোটা সময় জনগণ এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট, বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট, ২২ টি ছাত্র সংগঠন মিলে গঠিত সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ প্রভৃতি সংগঠন স্বৈরাচার বিরোধী চেতনাকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়। হরতাল, অবরোধে প্রশাসনে দেখা দেয় স্থবিরতা। আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর পুলিশের গুলিতে নূর হোসেন নিহত হলে আন্দোলন আরো গতি লাভ করে। ১৯৮৭ সালের ১২ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। ২৭ নভেম্বর জারি করা হয় জরুরি অবস্থা। ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার সমাবেশে নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। এতে সমগ্র দেশ প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ডা. শামসুল আলম খান মিলন নিহত হলে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানের রূপ লাভ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা সম্মিলিতভাবে কারফিউ ও জরুরি আইন অমান্য করে মিছিল বের করে। ঢাকা পরিণত হয় মিছিলের নগরীতে। অবশেষে এ গণঅভ্যুত্থানের মুখে টিকতে না পেরে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নিকট এরশাদ ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। এভাবে অবসান ঘটে এরশাদের দীর্ঘ স্বৈরশাসনের।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, মিশরীয় জনগণের মতো স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেই বাংলাদেশের এরশাদ সরকারের পতন হয়েছিল।