1 Answers
উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২-এর স্মৃতিস্তম্ভের সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনাটি ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশের প্রথম ভিত্তিমূল হলো ভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে রাঙালি জাতিসত্তার পরিচয়ের সূত্রটি নিশ্চিত হয়। বাঙালিরা তাদের অধিকার আদায় করতে সমর্থ হয়। আন্দোলনে যৌক্তিক দাবি তুলে ধরা হয়। প্রতিষ্ঠিত হয় নতুন জাতিসত্তার পরিচয় যা থেকে পরবর্তীকালে জন্ম হয় একটি স্বাধীন দেশের। উদ্দীপকে ঢাকা মেডিকেলের ছাত্রী মহাময়া নিজ ক্যাম্পাসে যে স্তম্ভটি দেখেছিল সেটি ছিল ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত প্রথম শহিদ মিনার। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পরও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের স্বতন্ত্র জাতিসত্তার স্বীকৃতি দিতে রাজি ছিল না। এজন্য প্রথমে তারা আঘাত করার চেষ্টা করে আমাদের মাতৃভাষা বাংলার ওপর। সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বাংলার পরিবর্তে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার প্রতিবাদে বাঙালিরা রাস্তায় নেমে আসে। আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালিরা দাবি আদায় করে নেয়। এর মাধ্যমে যে শিক্ষা অর্জিত হয়, তাকে কাজে লাগিয়ে ৫৪'র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বাঙালিরা সফল হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, সামরিক শাসক বিরোধী আন্দোলন, ৬৪-এর আন্দোলন ৬৬-এর ছয় দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন এবং ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বাঙালিদের বিজয় আসে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এসব আন্দোলন সংগ্রামের ভিত্তিমূল, রচনা করে দেয়। এ ভিত্তির ওপরই প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। তাই বলা যায়, বাঙালির জাতীয়তাবাদ বিকাশে ভাষা আন্দোলন অসামান্য অবদান রেখেছে।