1 Answers

উদ্দীপকের বর্ণিত বিষয় অর্থাৎ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ফলে বাঙালির মাঝে জাতীয়তাবাদের বীজ বপিত হয় বলে আমি মনে করি।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ফলে বাঙালি জাতি তার সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে ঐক্যবদ্ধ হয়। ফলে তারা তাদের অধিকার ও চেতনাবোধ সম্পর্কে আরো সচেতন হতে থাকে। এর ফলে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। এটা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকচক্রের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির ব্যালট বিপ্লব। এছাড়াও ১৯৫৬ সালে জেনারেল আইয়ুব খান পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করে শাসন ক্ষমতা কুক্ষিগত করলে বাঙালি জাতি তাদের অধিকার আদায়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। ১৯৬১ সালের শেষের দিকে পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৫২ সালে সোহরাওয়াদীকে গ্রেফতার ও শরীফ শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে বাংলার ছাত্র সমাজ ব্যাপক আন্দোলন সংঘটন করেন। লাহোরে বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিখ্যাত ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন। তিনি এ ছয়দফায় বাঙালি জাতির মুক্তির পথ নির্দেশনা প্রদান করেন। শুরু হয় ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান। আর এ অভ্যুত্থানে আইয়ুব খান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেও ক্ষমতায় বসতে না পারায় বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আর দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ভাষা আন্দোলনের ফলে বাঙালিদের মাঝে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে। তার চূড়ান্ত রূপ হলো মুক্তিযুদ্ধ।

6 views

Related Questions