1 Answers
উদ্দীপকের ঘটনাটির মতো বাংলাদেশে সংঘটিত আন্দোলনটি হচ্ছে ভাষা আন্দোলন; যা বাঙালি জাতির মুক্তির প্রথম আন্দোলন হিসেবে বিবেচিত।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালি জাতিকে সুনজরে দেখেনি। বাঙালি জাতির ওপর আধিপত্য বিস্তারের বিশেষ পাঁয়তারা চলছিল। তারা চেয়েছিল বাঙালি জাতির ভাষা ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিতে। ফলে পূর্ব বাংলায় সুসংগঠিত আন্দোলন শুরু হয়। এমতাবস্থায় ১৯৪৮ সালে ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেন। পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এক পর্যায়ে শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জোর প্রচেষ্টা চালায়। কিন্তু গণবিস্ফোরণের কাছে শাসকগোষ্ঠী মাথানত করতে বাধ্য হয়। তারা বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষারূপে মেনে নিতে বাধ্য হয়। অবশেষে ১৯৫৬ সালের পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানে বাংলাকে উর্দুর পাশাপাশি রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
ভাষা আন্দোলন মূলত সাংস্কৃতিক আন্দোলন হলেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর গুরুত্ব অপরিসীম ও সুদূরপ্রসারী। এ আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতির প্রথম সফল আন্দোলন, যা বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক স্বাধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়। বাঙালি জাতির মনে রাজনৈতিক সচেতনতা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে। এ আন্দোলন পরবর্তী আন্দোলনকে আরও জোরদার করে তোলে। জাতীয়তাবাদ বিকাশের পথ সুগম হয়।
উপরিউক্ত আলোচনার আলোকে পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনাটির মতো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতির প্রথম মুক্তি আন্দোলন। কারণ এ আন্দোলনের পথ ধরে পরবর্তী রাজনৈতিক আন্দোলনগুলো সংঘটিত হয় এবং বাঙালি জাতি স্বাধীনতা যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়।