1 Answers

উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' আইনটি হলো পাচার প্রতিরোধ মানব আইন ২০১১, 'খ' আইনটি হলো এসিড অপরাধ দমন আইন ২০০২ এবং 'গ' আইনটি হলো নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০। এ আইনগুলো নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে। তবে শুধু এ আইনগুলোর মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে এ আইনগুলোর পাশাপাশি আরও কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যেমন- ১. নারী শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ, বিধবা ভাতা প্রদান এবং নারীর জন্য ঋণদান কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করা। ২. নির্যাতন সহিংসতার ধরন ও প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে আইন প্রণয়ন বা সংস্কার করা এবং এর যথাযথ প্রয়োগ। ৩. পরিবারে ছেলেমেয়ে উভয়কেই পারিবারিক জীবনে নৈতিক মূল্যবোধ গঠন সম্পর্কিত শিক্ষা প্রদান। ৪. নারী অধিকার এবং অধিকার সংশ্লিষ্ট আইন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি। ৫. নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মতৎপরতার সম্প্রসারণ। ৬. নারী নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা। ৭. নারী নির্যাতন প্রতিরোধে প্রবর্তিত আইন; যেমন- এসিড অপরাধ দমন আইন, এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন, যৌতুক প্রতিরোধ আইন, পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, বাল্যবিবাহ অধ্যাদেশ, সন্ত্রাস দমন অধ্যাদেশ-এর যথাযথ প্রয়োগ। ৮. সামাজিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমেও নারীর প্রতি' সহিংসতা রোধ করা যেতে পারে। সামাজিক চাপ প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- গ্রাম আদালত, ইউনিয়ন পরিষদ প্রভৃতি। নারীর সহিংস ঘটনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপরাধী কিংবা অপরাধীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখা প্রভৃতি সমাজের মানুষের ঐক্যবদ্ধ চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে সহিংস ঘটনা প্রতিরোধ করা যেতে পারে। কিংবা অপরাধীকে খুঁজে বের করার ক্ষেত্রেও সামাজিক চাপ প্রয়োগ করা যেতে পারে। ৯. নারীর বিরুদ্ধে সহিংস ঘটনার প্রভাব প্রচার মাধ্যমে প্রকাশ করে জনমনে সচেতনতা সৃষ্টি করে সহিংসতা প্রতিরোধ করা যেতে পারে। নারীর প্রতি সহিংসতা সংশ্লিষ্ট আইনের বিষয়বস্তু সহজভাবে উপস্থাপন করে প্রচার করা যেতে পারে। পরিশেষে আমি মনে করি আইনি ব্যবস্থা ও উপরে উল্লিখিত প্রতিরোধ ব্যবস্থার সমন্বিত চেষ্টার মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। 

5 views

Related Questions

যুদ্ধ, নিপীড়ন, সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে বাঁচতে আজ সারা বিশ্বে ৮ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত। বাস্তুচ্যুত মানুষের এ সংখ্যাা বাংলাদেশের জনসংখ্যা র প্রায় অর্ধেক । সারা বিশ্বের বাস্তুচ্যুতির প্রধান পাঁচটি উৎসদেশের একটি হচে।ছ মায়নমার। সেখান থেকে ২০১৭ সালে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় দেয়। এই শরণার্থীরা তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়: কিনুত তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং মায়ানমারের নাগরিক হিসেবে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা – এসব কিছুই সম্ভব নয় আন্তর্জাতিক মহলের একট সার্বিক উদ্যোগ ছাড়া। তার পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশ তাদের সুরক্সা, সহায়তা ও নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে নোয়াখালীর ভাসানচরে তাদের জন্য আধুনিক সুযোগ সুবিধা একটি স্বতন্ত্র আবাসস্থল নির্মাণ করা হয়েছে। সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের একটি অংশ সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রত্যেক শরণার্থীর রয়েছে ব্যক্তিগত দুঃখ –কষ্ট , বঞ্চনা ও যন্ত্রণার ইতিহাস। বাংলাদেশে আশ্রিত এসব রোহিঙ্গা নিয়মিত সংগ্রাম করে যাচ্ছে মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকতে। তারা আশাবাদী, একদিন তারা নিজ দেশ মায়ানমারে ফিরে যেতে পারবে। (Translate to English)
1 Answers 8 Views