1 Answers

উক্ত ঘটনা অর্থাৎ নীল বিদ্রোহের পরিপ্রেক্ষিতেই বাংলায় চিরতরে নীল চাষ বন্ধ হওয়ার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়।
নীলকর সাহেবরা বাংলার গ্রামাঞ্চলে শুধু ব্যবসায়ী রূপে নয়, দোর্দন্ড প্রতাপশালী এক অভিনব অত্যাচারী জমিদার রূপেও আত্মপ্রকাশ করে। তারা এতটাই নিষ্ঠুর আর বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল যে, অবাধ্য নীল চাষিদের হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করেনি। শেষ পর্যন্ত দেয়ালে পিঠ-ঠেকে যাওয়ায় নীল চাষিরা ১৮৫৯ সালে প্রচন্ড বিদ্রোহে ফেটে পড়ে। গ্রামে গ্রামে কৃষকরা সংগঠিত এবং ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে। এসব বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন নীল চাষিরাই। যশোরের নীল বিদ্রোহের নেতা ছিলেন নবীন মাধব ও বেণী মাধব নামে দুই ভাই। হুগলীতে নেতৃত্ব দেন বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার। নদীয়ায় ছিলেন মেঘনা সর্দার এবং নদীয়ার চৌগাছায় বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস নামে দুই ভাই। স্থানীয় পর্যায়ের এই নেতৃত্বে বাংলায় কৃষক বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠে। কৃষকরা নীল চাষ না করার পক্ষে অবস্থান নেন। এমনকি তারা ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেটের উপদেশও অগ্রাহ্য করে। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি নীল চাষিদের প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব পোষণ করতে থাকে। বিভিন্ন পত্রিকায় নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনি ছাপা হতে থাকে।
দীনবন্ধু মিত্রের লেখা 'নীলদর্পণ' নাটকের কাহিনি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত বাংলার সংগ্রামী কৃষকদের জয় হয়। ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার ইন্ডিগো কমিশন বা নীল কমিশন গঠন করে এবং নীল চাষকে কৃষকদের ইচ্ছাধীন বলে ঘোষণা করা হয়। তা ছাড়া ইন্ডিগো কন্ট্রাক্ট বাতিল করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নীল বিদ্রোহের অবসান হয়। পরবর্তীকালে নীলের বিকল্প কৃত্রিম নীল আবিষ্কৃত হওয়ায় ১৮৯২ সালে এ দেশে নীল চাষ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
উপরের আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, নীল বিদ্রোহের পরিপ্রেক্ষিতেই নীল চাষ বন্ধ হওয়ার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়।

4 views

Related Questions