1 Answers
উক্ত যুগে অর্থাৎ মধ্যযুগে বাংলায় বস্ত্র শিল্পের অভাবনীয় উন্নতি ঘটেছিল- উক্তিটি যথার্থ।
মধ্যযুগে বস্ত্রশিল্পে বাংলার অগ্রগতি ছিল উল্লেখযোগ্য। এখানে তৈরি বস্তুগুলো গুণ ও মানের বিচারে যথেষ্ট উন্নত ছিল। তাই বিদেশে এগুলো রপ্তানি হতো এবং চাহিদাও ছিল প্রচুর। বাংলায় উৎপাদিত বস্ত্র বিশ্বজুড়ে সুনাম অর্জন করেছিল। এ যুগে বাংলায় যেমন কৃষিপণ্যের প্রাচুর্য ছিল, তেমনি বস্ত্রসহ কিছু শিল্পেরও সুখ্যাতি ছিল। ঢাকা ছিল মসলিন নামের বিশ্বখ্যাত সূক্ষ্ম বস্ত্র শিল্পের প্রাণকেন্দ্র। মসলিন এত সূক্ষ্ম ছিল যে, ২০ গজ কাপড় একটি নস্যির কৌটায় ভরে রাখা সম্ভব ছিল। ইউরোপে মসলিনের প্রচুর চাহিদা ছিল। তৎকালীন বাংলা মসলিনের কল্যাণে বিশেষ সুখ্যাতি অর্জন করেছিল। মসলিনের পাশাপাশি নিজেদের ব্যবহারের জন্য রঙিন কাপড় এবং বিদেশে রপ্তানির জন্য সাদা কাপড় তৈরি করা হতো এখানে। এছাড়া পাটের ও রেশমের তৈরি বস্ত্রের ক্ষেত্রেও বঙ্গের উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব ছিল।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, মধ্যযুগে বাংলার বস্ত্রশিল্পের অভাবনীয় উন্নতির জন্যই জগৎজোড়া এই শিল্পের সুনাম এবং সুখ্যাতি ছিল।