1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি হলো নিষেক প্রক্রিয়া। ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলনের ফলে সৃষ্ট জাইগোট, জাইগোট হতে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। নিম্নে নিষেক প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো-
মানব শিশুর ক্ষেত্রে প্রবাহচিত্র অনুযায়ী শুক্রাণু (n) ও ডিম্বাণু (n) মিলনের ফলে নিষেক ঘটে। নিষেকের ফলে শুক্রাণুর একপ্রস্থ ক্রোমোসোম (n) ও ডিম্বাণুর একপ্রস্থ ক্রোমোসোমে (n) মিলন ঘটে, ফলে দুই প্রস্থ ক্রোমোসোমের (2n) সমন্বয়ে জাইগোট উৎপন্ন হয়। ফলশ্রুতিতে নিষিক্ত ডিম্বাণুর, তথা জাইগোটের কোষ বিভাজন চলতে থাকে এবং মানব জরায়ুতে ভ্রূণ গঠিত হয়। জরায়ুর প্রাচীরে ভূণ সংযুক্ত হলে, এ সংযুক্তিকে ভূণ সংস্থাপন বা গর্ভধারণ বলে। জরায়ুর অন্তঃগাত্রে সংলগ্ন অবস্থায় ভ্রূণটি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে। নিষেকের প্রায় ৮ সপ্তাহ পর ভ্রূণকে ফিটাস বলা হয়। এ সময় ভূণের অঙ্গগুলো ছোট আকারে থাকে। নিষেকের ১২ সপ্তাহের মধ্যে অমরা গঠিত হয়। অমরার মাধ্যমে মাতৃ জরায়ুতে ক্রমবর্ধমান ভ্রূণ এবং মাতৃ জরায়ু টিস্যুর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়। এরপর থেকে অমরার মাধ্যমেই ভ্রূণ মাতৃদেহ হতে পুষ্টি লাভ করে এবং বিভিন্ন পদার্থের আদান-প্রদান ঘটে। ফলে ভূণ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয় এবং প্রায় ৩৮ সপ্তাহ পর ভ্রূণ পূর্ণাঙ্গ মানব শিশুতে পরিণত হয় ও ভূমিষ্ট প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি চলতে থাকে। এভাবেই মানব শিশুর সৃষ্টি হয়।