1 Answers

হ্যাঁ, আমি মনে করি ঘটনা-১ তথা পলাশি যুদ্ধের পরিণতির ফলেই ঘটনা-২ তথা দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার সৃষ্টি।
ভারতীয় উপমহাদেশে পলাশির যুদ্ধ একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। কেননা, এ যুদ্ধে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়। ফলে এ উপমহাদেশে প্রতিষ্ঠা পায় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন।
পলাশি যুদ্ধে বিজয়ের পর ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসায়- বাণিজ্যের অধিকার লাভের পাশাপাশি শাসন ক্ষমতায়ও তারা আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়। এ যুদ্ধের ফলে ইংরেজরা মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল বরাট ক্লাইভের হাতে। মীরজাফর শাসনকার্যে ব্যর্থ হলে তারা মীর কাশিমকে বাংলার সিংহাসনে বসায়। মীর কাশিম ছিলেন স্বাধীনচেতা নবাব। তিনি ব্রিটিশ আধিপত্য মেনে নিতে চাননি। ফলে কোম্পানির সাথে তার বিরোধ সৃষ্টি হলে ১৭৬৪ সালে বক্সার নামক স্থানে তার সাথে ইংরেজ বাহিনীর যুদ্ধ হয়। কিন্তু এ যুদ্ধে তিনি পরাজিত হন। ফলে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার শেষ চেষ্টাটুকুও ব্যর্থ হয়। এ যুদ্ধের পর ইংরেজরা পুরো ভারতবর্ষে তাদের রাজত্ব কায়েম করে। এ যুদ্ধের ফলে রবার্ট ক্লাইভ দিল্লির সম্রাটের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করেন। প্রকৃতপক্ষে ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের পর থেকেই ইংরেজরা বাংলার সত্যিকার শাসকরূপে আত্মপ্রকাশ করে। দেওয়ানি লাভের ফলে এবং নবাব কর্তৃক প্রদত্ত শর্ত অনুযায়ী শুল্কহীন বাণিজ্যের কারণে কোম্পানির কর্মচারীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তাদের অর্থলোলুপতা দিনদিন বেড়ে যেতে থাকে। মূলত বরাট ক্লাইভ দেওয়ানি সনদের নামে বাংলার সম্পদ লুণ্ঠনের একচেটিয়া ক্ষমতা লাভ করে। দিল্লি কর্তৃক বিদেশি বণিক কোম্পানিকে এই অভাবিত ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈতশাসনের। এই দ্বৈতশাসনের ফলে দেশ এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়।

 উপরের আলোচনা শেষে নিঃসন্দেহে বলা যায়, দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার বীজ রোপিত হয়েছিল পলাশি যুদ্ধের মাধ্যমে এবং এর পূর্ণতা পায় কোম্পানির দেওয়ানি লাভের মাধ্যমে। তাই বলা যায়, পলাশি যুদ্ধের শেষ পরিণতিই হলো দ্বৈত শাসনব্যবস্থার সৃষ্টি।

4 views

Related Questions