1 Answers

উক্ত ব্যবস্থা অর্থাৎ চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলাফল ছিল সুধুভাসারী।
বাংলার আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ব্যাপক প্রভাব ছিল। এর ফলে জমিদাররা জমির স্থায়ী মালিকে পরিণত হয়। তবে তাদের প্রশাসনিক ক্ষমতা বিলুপ্ত হওয়ায় সরকার স্বয়ং শান্তি রক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব লাভ করে। আয়ের পরিমাণ নির্দিষ্ট যওয়ায় সরকারের পক্ষে বাজেট প্রণয়ন ও বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজতর হয়। এ ব্যবস্থার ফলে জমিদাররা কোম্পানির একনিষ্ঠ সমর্থকে পরিণত হয়। এভাবে ব্রিটিশ শাসন দৃঢ় ও দীর্ঘমেয়াদি হয়। এ ব্যবস্থায় পতিত জমি ও জকালাকীর্ণ জমি চাষের আওতায় আসায় উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। তবে এ ব্যবস্থায় জমির সঠিক জরিপের ব্যবস্থা না থাকায় বিবাদ দেখা দেয়। এছাড়া সূর্যাস্ত আইনের কারণে শুধু বর্ধমানের জমিদারি ছাড়া চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের সাত বছরের মধ্যে অন্যান্য জমিদারি ধ্বংস হয়ে যায়। এ ব্যবস্থার ফলে কৃষকরা সরাসরি জমিদার কর্তৃক শোষিত হলেও জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে গ্রামীণ সমাজে একটি শিক্ষিত শ্রেণি গড়ে ওঠে। এরাই পরবর্তীতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এমনকি এই জমিদার শ্রেণির পরবর্তী প্রজন্ম পাশ্চাত্য শিক্ষা লাভ করে স্বাধীনতা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

পরিশেষে বলা যায়, বাংলার ইতিহাসে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মতো অন্য কোনো আইন সমাজজীবনে এতো বেশি প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। বস্তুত ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন অবসানের পূর্ব পর্যন্ত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রভাব বাংলার সমাজব্যবস্থায় পরিলক্ষিত হয়।

5 views

Related Questions