1 Answers

"কোনো স্থান বা বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস জানতে সিমার দেখা জিনিসগুলোই যথেষ্ট নয়”- উক্তিটি যথার্থ।

ইতিহাস হলো অতীতের ঘটনাবলির বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ধারাবাহিক বিবরণ। আর এই বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ইতিহাসকে হতে হয় তথ্য-প্রমাণভিত্তিক। অর্থাৎ ইতিহাসের ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নির্ভরযোগ্য উৎস থাকতে হবে। আর যেসব তথ্য প্রমাণ বা উৎসের ওপর ভিত্তি করে ঐতিহাসিক সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা হয় তাকেই ইতিহাসের উপাদান বলা হয়। ইতিহাস রচনার লিখিত উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাহিত্য, জীবনী, বৈদেশিক বিবরণ, দলিলপত্র ইত্যাদি। অপরদিকে অলিখিত উপাদানের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন যেমন- মুদ্রা, শিলালিপি, স্তম্ভলিপি, তাম্রলিপি, ইমারত ইত্যাদি। বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে এসকল লিখিত ও অলিখিত উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে শুধুমাত্র লিখিত বা শুধু অলিখিত উপাদান সঠিক ইতিহাস রচনার জন্য যথেষ্ট নয়। বরং লিখিত ও অলিখিত উভয় ধরনের উপাদানগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই ও সমন্বয়ের মাধ্যমেই বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনা করা সম্ভব হয়।

উদ্দীপকের সিমা তার চাচার সাথে জাতীয় যাদুঘর ও মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে গিয়ে মুদ্রা, শিলালিপি, স্তম্ভলিপি, তাম্রলিপি, ইমারত প্রভৃতি জিনিসপত্র দেখে। সিমার দেখা জিনিসপত্রগুলো শুধুমাত্র ইতিহাসের অলিখিত উপাদানকে নির্দেশ করে। কিন্তু প্রকৃত ইতিহাস জানার জন্য লিখিত এবং অলিখিত উপাদান উভয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, কোনো স্থান বা বিষয়ের ইতিহাস রচনার জন্য অলিখিত উপাদানগুলোই যথেষ্ট নয়। প্রকৃত ইতিহাস জানার জন্য লিখিত ও অলিখিত উপাদানের সমন্বয় সাধন প্রয়োজন।

4 views

Related Questions

মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। সবুজ বনভূমির মাঝে দৃষ্টিনন্দন হ্রদ আর লাল ইটের তৈরি ইমারত ক্যাম্পাসকে আরও নান্দনিক করে তুলেছে। পাশাপাশি এ- ক্যাম্পাস ‘সংস্কৃতির রাজধানী' নামেও পরিচিত। এ ছাড়া প্রতি বছর শীতকাল এলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের জলাশয়গুলো অতিথি পাখিতে পূর্ণ হয়ে যায়। তাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে অতিথি পাখির ক্যাম্পাস হিসেবেও অনেকে চেনেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার গৌরবময় ইতিহাসকে ভিত্তি করে নির্মিত কয়েকটি ভাস্কর্য এ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সবুজের মাঝে কংক্রিট বা ব্রোঞ্জে তৈরি ভাস্কর্যগুলো দাঁড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও ভাষা আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি হয়ে । এসব ভাস্কর্য এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস পৌছে দিচ্ছে। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, ঐতিহ্য ও চেতনাকে স্মরণ রাখতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণ করা হয় ভাস্কর্য ‘সংশপ্তক'। যুদ্ধে জয়লাভ অথবা মৃত্যু – এই শপথে আবদ্ধ থেকে লড়াই করেন। যে অকুতোভয় বীর, তিনিই সংশপ্তক। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে স্থাপিত এই ভাস্কর্যটির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যুদ্ধে শত্রুর আঘাতে এক হাত, এক পা হারিয়েও রাইফেল হাতে লড়ে যাওয়া দেশমাতৃকার এক বীরসন্তানকে। ভাস্কর্যটির নির্মাতা শিল্পী হামিদুজ্জামান খান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্রোঞ্জের অবয়বে প্রতীকী ব্যঞ্জনায় প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন। আজকের প্রজন্মের কাছে ভাস্কর্যটি যে-কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের অনিঃশেষ প্রেরণা। হিসেবে কাজ করে।
1 Answers 6 Views