উয়ারী-বটেশ্বর সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস জানতে উক্ত উপাদানই কি যথেষ্ট? মতামত দাও। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
উক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানসমূহ শুধুমাত্র ইতিহাসের অলিখিত উপাদান হওয়ায় উয়ারী-বটেশ্বর সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস জানার জন্য সেগুলো যথেষ্ট নয়।
আমরা জানি, ইতিহাসের উপাদানকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। যথা- লিখিত ও অলিখিত উপাদান। সঠিক ইতিহাস জানার ক্ষেত্রে এ দু'ধরনের উপাদানের গুরুত্বই অপরিসীম। লিখিত উপাদানের মাধ্যমে আমরা প্রাচীন সময়ের রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, প্রশাসনিকসহ প্রায় সব বিষয়ের বস্তুনিষ্ঠ বর্ণনা পেয়ে থাকি, যে বর্ণনা অলিখিত উপাদানের মাধ্যমে জানা যায় না। এছাড়া অলিখিত উপাদানের তুলনায় লিখিত উপাদান ইতিহাস রচনায় সবসময়ই বেশি নির্ভরযোগ্য। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মধ্যযুগের উপমহাদেশের ইতিহাস রচনায় সে সময়ের স্থাপত্যকর্মগুলো আমাদেরকে যতটুকু না. সাহায্য করে তার চেয়ে সমকালীন ইতিহাসবিদদের রচনা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের আত্মজীবনী অনেকগুণ বেশি সহায়ক হয়। বস্তুত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে কোনো বিশেষ সময় ও অঞ্চলের মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে ধারণা করা যায় মাত্র, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস জানা সম্ভব হয় না। তবে এটাও সত্যি যে, এসব উপাদান থেকে মানুষের অতীত সভ্যতা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে মৌলিক ও অকাট্য তথ্য পাওয়া যায়।
উপরের আলোচনা শেষে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, উয়ারী-বটেশ্বর সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস জানার ক্ষেত্রে কেবল অলিখিত উপাদানসমূহ যথেষ্ট নয়।