1 Answers
উদ্দীপকের নিশিতা তার মামার পরামর্শ অনুযায়ী শুধু কয়েকটি বই পড়লেই মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস জানতে পারবে না।
কোনো বিষয় সম্পর্কে ভালো ধারণা পেতে চাইলে তার পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস, জানা খুবই প্রয়োজন। আর পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস জানতে শুধু বই তথা লিখিত উপাদান যথেষ্ট নয়। লিখিত উপাদানের পাশাপাশি অলিখিত উপাদানগুলো বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস জানা সম্ভব।
মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস জানার ক্ষেত্রে লিখিত উপাদান ও অলিখিত উপাদান দুটিই খুব গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাসের লিখিত উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাহিত্য, বৈদেশিক বিবরণ, দলিলপত্র, ইত্যাদি। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি নথি, চিঠিপত্র ইত্যাদি থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব। লিখিত উপাদানের পাশাপাশি অলিখিত উপাদান যেমন মুদ্রা, পুরনো ইমারত, অস্ত্র, দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রী, গহনা, শিলালিপি, তাম্রলিপি ইত্যাদি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা- নিরীক্ষা এবং বিচার বিশ্লেষণের ফলে ঐতিহাসিক সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব। যেমন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের দলিল, সরকারি নথি, চিঠিপত্র, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি যুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র-শস্ত্র, যানবাহন, আলোকচিত্র, যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত নানা ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্থান ইত্যাদি অলিখিত উপাদানও সমান গুরুত্ব বহন করে। শুধুমাত্র লিখিত উপাদানের ওপর নির্ভর করে মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস জানা সম্ভব নয়।
পরিশেষে তাই বলা যায়, একটিমাত্র উপাদান ইতিহাসের কোনো বিষয়ে পূর্ণ তথ্য দিতে পারে না। সঠিক ইতিহাস জানার জন্য ইতিহাসের লিখিত উপাদানের সঙ্গে অলিখিত উপাদানের সমন্বয় করা প্রয়োজন।