1 Answers
উদ্দীপকে সুমনের পঠিত বই ইতিহাসের লিখিত উপাদানকে এবং তার দর্শনকৃত স্থানগুলো অলিখিত উপাদানকে নির্দেশ করে। এ দুই উপাদানের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনা করা সম্ভব।
ইতিহাস রচনায় লিখিত ও অলিখিত উভয় উপাদানই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু লিখিত উপাদান বা অলিখিত উপাদান দ্বারা পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনা করা সম্ভব নয়। কেননা একটি মাত্র উপাদান ইতিহাস সম্পর্কে পূর্ণ তথ্য-উপাত্ত দিতে পারে না। একজন ঐতিহাসিকের দায়িত্ব হলো সমস্ত উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সমন্বয়ে সঠিক ইতিহাস রচনা করা। যা হতে হবে যথার্থ ও বাস্তবধর্মী। আর এক্ষেত্রে ইতিহাসের লিখিত উপাদানের সাথে অলিখিত উপাদানের সমন্বয় সাধন করা প্রয়োজন।
অলিখিত উপাদান যেমন- মুদ্রা, শিলালিপি, স্তম্ভলিপি, তাম্রলিপি, ইমারত, সমরাস্ত্র প্রভৃতির বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেই সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। অপরদিকে লিখিত উপাদানগুলোতে কোনো বিষয় সম্পর্কে সমকালীন বা পরবর্তী সময়ের ঐতিহাসিক, সাহিত্যিক, পর্যটকদের লিখিত বিবরণ পাওয়া যায়। এসব লিখিত বিবরণ ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ইতিহাস রচনার জন্য লিখিত ও অলিখিত উভয় ধরনের উপাদানের আবশ্যকতা রয়েছে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনায় লিখিত ও অলিখিত উভয় উপাদানই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।