1 Answers
উদ্দীপকে পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির কথা আলোকপাত করা হয়েছে। তার বঙ্গ বিজয় একটি চমকপ্রদ ঘটনা।
বখতিয়ার খলজি বিহার বিজয়ের পরের বছর অধিক সংখ্যক সৈন্য সংগ্রহ করে নবদ্বীপ বা নদীয়া আক্রমণ করেন। এ সময় বাংলার রাজা লক্ষণ সেন নদীয়ায় অবস্থান করছিলেন। গৌড় ছিল তার রাজধানী, আর নদীয়া ছিল তার দ্বিতীয় রাজধানী। বিহার হতে বাংলায় প্রবেশ করতে হলে তেলিয়াগড় ও শিকড়িগড় এই দুই গিরিপথ দিয়ে আসতে হতো। এ গিরিপথ দু'টো ছিল বেশ সুরক্ষিত। তিনি প্রচলিত পথে অগ্রসর না হয়ে অরণ্যময় অঞ্চলের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হওয়াতে তার সৈন্যদল খণ্ড খণ্ড ভাবে অগ্রসর হয়। তিনি এত ক্ষিপ্রগতিতে পথ অতিক্রম করেছিলেন যে, মাত্র ১৭/১৮ জন সৈনিক তাকে অনুসরণ করতে পেরেছিল। আর মূল সেনাবাহিনীর বাকি অংশ তার পশ্চাতে ছিল। মধ্যাহ্নভোজের সময় খলজি বণিকের ছদ্মবেশে নগরীর দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছান। রাজা লক্ষণ সেন তাদেরকে অশ্ব ব্যবসায়ী মনে করে নগরীর অভ্যন্তরে প্রবেশের অনুমতি দেন। কিন্তু এ ক্ষুদ্র দল রাজপ্রাসাদের সম্মুখে এসে হঠাৎ তরবারি উন্মুক্ত করে প্রাসাদ রক্ষীদের হত্যা করে। এতে ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে প্রাসাদ অরক্ষিত রেখে সবাই প্রাণ ভয়ে পালিয়ে যায়। এমতাবস্থায় শত্রুর আক্রমণ হতে আত্মরক্ষার কোনো উপায় না দেখে রাজা লক্ষণ সেন পেছনের দরজা দিয়ে সপরিবারে পূর্ববঙ্গের মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে আশ্রয়গ্রহণ করেন। এর ফলে বিনা বাধায় নদীয়া ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল মুসলমানদের অধিকারে আসে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, একজন ভাগ্যান্বেষী সৈনিকের বাংলা ও বিহার বিজয়ের কাহিনি ইতিহাসে আজও সমাদৃত, যা উপরে আলোচিত ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির বাংলা ও বিহার বিজয়ের কাহিনির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উল্লিখিত আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয় ছিল এক অনন্যসাধারণ ঘটনা। তার চেয়েও বেশি গুরুত্ব বহন করে তার বঙ্গ বিজয়ের কৌশল পদ্ধতি এবং এর দ্বারা প্রমাণিত হয়, যুদ্ধ ক্ষেত্রে শক্তির পাশাপাশি প্রয়োজন উত্তম বুদ্ধিমত্তা বা কৌশল।