1 Answers

দৃশ্য-২-এ বিজয়ী সেনাপতির যুদ্ধকৌশলের মধ্যে মধ্যযুগের সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির যুদ্ধ কৌশল প্রতিফলিত হয়েছে। তার প্রচেষ্টার ফলেই এদেশে প্রথম মুসলমানদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

বখতিয়ার খলজি বিহার বিজয় করার পর নদীয়া আক্রমণ করার মনোস্থির করেন। রাজা লক্ষণ সেন তখন নদীয়ায় অবস্থান করছিলেন। বিহার হতে বাংলায় প্রবেশ করতে হলে তেলিয়াগড় ও শিকড়িগড় এই দুই গিরিপথ দিয়ে আসতে হতো। কিন্তু এ গিরিপথ দুটি সুরক্ষিত থাকায় বখতিয়ার খলজি এ পথে না এসে ঝাড়খণ্ডের অরণ্যময় অঞ্চলের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হওয়াতে তার সৈন্যদল খন্ড খন্ড ভাবে অগ্রসর হয়। মাত্র ১৭/১৮ জন সৈনিক নিয়ে বখতিয়ার খলজি মধ্যাহ্নভোজে ব্যস্ত রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে নদীয়া বিজয় করেন। ফলে বিনা বাধায় নদীয়া ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল মুসলমানদের অধিকারে আসে। এরপর তিনি নদীয়া ত্যাগ করে লক্ষণাবতীর (গৌড়) দিকে অগ্রসর হন। লক্ষণাবতি অধিকার করে সেখানেই রাজধানী স্থাপন করেন। গৌড় জয়ের পর তিনি বরেন্দ্র বা উত্তর বাংলায়ও নিজ অধিকার বিস্তার করেন। বাংলায় মুসলমান শাসনের ইতিহাসে তাই ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তার এ শাসন প্রায় সাড়ে পাঁচশ বছরের অধিক স্থায়ী হয়েছিল।

উদ্দীপকের দৃশ্য-২-এ টেলিভিশনে সুমি প্রাচীন যোদ্ধাদের ছবি দেখছিল। যুদ্ধে সেনাপতি তার যোদ্ধাদের বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত করে জঙ্গলপথ দিয়ে রাজ্য আক্রমণের পরিকল্পনা করেন। তার পরিকল্পনা সফল হয় এবং তিনি রাজ্য দখল করে নেন। উক্ত সেনাপতির যুদ্ধ কৌশলের সাথে উপরে আলোচিত সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির যুদ্ধ কৌশলের মিল রয়েছে।

4 views

Related Questions