1 Answers
উদ্দীপকের সেনাপতির মতো ব্যক্তিরা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে কিছু জনগোষ্ঠী এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তারা পাকিস্তানিদের সহায়তায় অনেকগুলো দল গঠন করে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটি। তারা নির্যাতন, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন ইত্যাদি অপরাধকর্মে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করে মুক্তিযুদ্ধের গতিকে শ্লথ করে দিয়েছিল।
উদ্দীপকে ইঙ্গিত করা মীরজাফর ও তার দল ব্রিটিশদের সমর্থন দিয়ে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। একইভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীরা পাকিস্তানিদের সর্বাত্মক সাহায্য-সহযোগিতা করে। পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষাও ধর্মের দোহাই দিয়ে স্বাধীনতা বিরোধীরা পাকিস্তানি সৈন্যদের সাথে মিলে হত্যা, লুট, অগ্নিকাণ্ড, নারী নির্যাতনসহ সারা দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। মুক্তিযুদ্ধকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে পাকিস্তানিদের গঠিত আল বদর, আল শামস ও রাজাকার বাহিনী যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের ধরিয়ে দিত; পাকিস্তানিদেরকে পথঘাট চিনিয়ে দিত। পাকিস্তানি সেনাদের জন্য বিভিন্ন রসদ সংগ্রহ করত এবং বিভিন্ন হাট-বাজার, ঘরবাড়িতে আগুন লাগাতে সহযোগিতা করত। এরা যদি পাকিস্তানিদের সাহায্য-সহযোগিতা না করত তাহলে দীর্ঘ নয় মাস বাঙালিকে যুদ্ধ করতে হতো না। আরও অল্প সময়েই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করত।
পরিশেষে বলা যায়, ১৭৫৭ সালে বাংলার সেনাপতি মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল। একইভাবে ১৯৭১ সালে এদেশের কিছু বিশ্বাসঘাতক স্বার্থান্বেষী জনগোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনকে বিলম্বিত করেছিল।