1 Answers

উদ্দীপকে বাংলার প্রাচীন যুগের গ্রামীণ জীবনযাত্রার একটি প্রাণবন্ত চিত্র ফুটে উঠেছে। এতে দেখা যায়, প্রাচীন বাংলার উৎসব-আয়োজন, পোশাক-পরিচ্ছদ, সাজসজ্জা এবং খাওয়া-দাওয়ার সঙ্গে বর্তমান গ্রামীণ জীবনেরও কিছু মিল রয়েছে।

প্রাচীন বাংলার গ্রামীণ মানুষের জীবন ব্যবস্থার সঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশের গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রার যথেষ্ট মিল লক্ষ করা যায়। বিয়েসহ বিভিন্ন আনন্দ-উৎসব, পোশাক-পরিচ্ছদ, সাজসজ্জা ও বিশেষ খাবারদাবারের মধ্যে এ মিলের প্রতিফলন রয়েছে। গ্রামবাংলার মানুষেরা এখনও প্রাচীন যুগের মতোই বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যতটা সম্ভব জাকজমকপূর্ণ পোশাক পরে। গ্রামের মেয়েদের এখনও দুল, চুড়ি, হার, নুপূর ইত্যাদি অলঙ্কার ব্যবহার করতে দেখা যায়। আধুনিকতার প্রভাবে আলতা, কুমকুম ইত্যাদির ব্যবহার কমে গেলেও প্রচলিত আছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিবাহিত মেয়েরা এখনো সিঁদুর পরেন। তবে বর্তমান গ্রামীণ সমাজে পুরুষদের মধ্যে অলংকার ব্যবহারের রীতি দেখা যায় না বললেই চলে।

খাদ্যাভ্যাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রাচীনকালের মতো এখনও বাঙালির প্রধান খাদ্য ভাত, মাছ, মাংস, শাক-সবজি। দুধ, ঘি, ক্ষীর, পায়েস, চালের তৈরি নানা ধরনের পিঠা এ যুগেও অতীতের মতোই জনপ্রিয়। প্রাচীনকালে পূর্ববঙ্গে ইলিশ ও শুঁটকি মাছ খুব প্রিয় খাবার ছিল। এখনো এ দুটি খাদ্য জনপ্রিয়। প্রাচীন বাংলায় খাওয়া দাওয়া শেষে মসলাযুক্ত পান খাওয়ার রীতি ছিল। বাঙালির এ অভ্যাস এখনো প্রচলিত।

উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, পোশাক-পরিচ্ছদ, সাজসজ্জা ও খাওয়া দাওয়ার দিক থেকে দেখলে বাংলার প্রাচীন যুগের গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে বর্তমান গ্রামীণ জীবনের উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে।

5 views

Related Questions