1 Answers
উদ্দীপকটি 'প্রাচীন বাংলারই সামাজিক প্রতিচ্ছবি'- বক্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকের নিলয়ের বাবা একজন শিক্ষক। তিনি গ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠান যেমন- বিয়ে, পূজা ইত্যাদি পরিচালনা করেন। অন্যদিকে নিলয়ের বন্ধু ধীরেনের বাবা একজন কৃষক। নিলয় ও ধীরেনের বাবার পেশার ভিত্তিতে মর্যাদাগত পার্থক্য বর্ণপ্রথা দ্বারা সৃষ্ট। প্রাচীনকালে বাংলায় ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র এ চার প্রকার বর্ণ ছিল। অধ্যয়ন, অধ্যাপনা ও পূজা পার্বণ করা- এগুলো ছিল ব্রাহ্মণদের নির্দিষ্ট কাজ। তারা সমাজে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা লাভ করতেন। ক্ষত্রিয়দের পেশা ছিল যুদ্ধ করা। ব্যবসা-বাণিজ্য করা ছিল বৈশ্যদের কাজ। আর শূদ্ররা সাধারণত কৃষিকাজ, মাছ শিকার ও অন্যান্য ছোটখাটো কাজ করত। ব্রাহ্মণ ছাড়া বাকি সব বর্ণের মানুষ একে অন্যের সাথে মেলামেশা করত।
উদ্দীপকে ধীরেনের ঠাকুরমা তার স্বামী মারা যাওয়ার পর সবসময় নিরামিষ আহার করেন, যা প্রাচীন বাংলার সমাজব্যবস্থায় বিধবাদের করুণ চিত্র তুলে ধরে। প্রাচীন বাংলার সামাজিক রীতি অনুযায়ী কোনো মহিলার স্বামী মারা গেলে, তাকে সব ধরনের বিলাসিতা পরিহার করতে হতো। উদ্দীপকের এ দিকটিও প্রাচীন বাংলার সমাজব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি প্রাচীন বাংলার সামাজিক প্রতিচ্ছবি।