1 Answers
উদ্দীপকটি প্রাচীন গৌড় জনপদের ইঙ্গিতবহ।
প্রাচীন গৌড় জনপদটি আধুনিক মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও বর্ধমানের কিছু অংশ নিয়ে গড়ে উঠেছিল। তবে গৌড় নামটি সুপরিচিত হলেও প্রাচীনকালে গৌড় বলতে ঠিক কোন অঞ্চলকে বোঝাত এ নিয়ে প্রচুর মতভেদ আছে। আর যে এলাকা গৌড় বলে অভিহিত হতো তা কেনইবা সে নামে অভিহিত হতো, আজ পর্যন্ত সেটাও সঠিকভাবে জানা যায়নি। পাণিনির গ্রন্থে সর্বপ্রথম গৌড়ের উল্লেখ দেখা যায়। পাল রাজাদের আমলে গৌড়ের নামডাক ছিল সবচেয়ে বেশি। উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল তখন গৌড়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং সাম্রাজ্যের কেন্দ্রস্থল হওয়ায় এর প্রতাপ ছিল অপ্রতিহত। কৌটিল্যের 'অর্থশাস্ত্র' গ্রন্থে গৌড়ের অনেক শিল্প ও কৃষিজাত দ্রব্যের উল্লেখ পাওয়া যায়। ব্যাৎসায়নের গ্রন্থে জানা যায়, তৃতীয় ও চতুর্থ শতকে গৌড়রাজ শশাংকের রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদ জেলার কর্ণসুবর্ণ। পরবর্তী সময়ে গৌড় বলতে সমগ্র বাংলাকে বোঝাত। ভবিষ্যৎ পুরাণ-এ গৌড়কে পদ্মা নদীর দক্ষিণে এবং বর্ধমানের উত্তরে অবস্থিত অঞ্চল বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
উদ্দীপকের জনাব 'ক' গুপ্ত রাজা মহাসেন গুপ্তের একজন মহাসামন্ত। তিনি ছিলেন স্বাধীন গৌড় রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। উদ্দীপকের ঘটনায় প্রাচীন গৌড় জনপদের ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে।