1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত রবিনের দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। যে অর্থব্যবস্থায় সম্পদ ও উৎপাদনের উপাদানসমূহের উপর সরকারি মালিকানা বজায় থাকে বা কোনো ব্যক্তিমালিকানার অস্তিত্ব থাকে না, তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। এ অর্থব্যবস্থায় উৎপাদন, বিনিময়, বণ্টন ও ভোগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় প্রাধান্য লক্ষ করা যায়। ফলে বৈষম্য বা শোষণের অবকাশ থাকে না। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা অনুপস্থিত থাকায় কোনো ব্যক্তি বা দলের প্রভাবে বৈষম্যের সুযোগ নেই। ফলে উৎপাদনের উপকরণসমূহের মধ্যে লভ্যাংশের সুষম বণ্টন করা হয়। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও জীবিকার দায়িত্ব রাষ্ট্র নিয়ে থাকে। যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী রাষ্ট্র কাজের ব্যবস্থা করে দেয়। সেই কাজের বিনিময়ে সে তার প্রাপ্য মজুরি পেয়ে থাকে। তবে মজুরি প্রদানের ক্ষেত্রে কোনোরূপ বৈষম্য বিরাজ করে না। উৎপাদনের ক্ষেত্রে যার অবদান যতটুকু তাকে ততটুকু মজুরিই প্রদান করা হয়ে থাকে। এর ফলে আয় বৈষম্যের অনুপস্থিতি লক্ষ করা যায় এবং অর্জিত সম্পদের সুষম বণ্টন হয়। এই অর্থব্যবস্থায় জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী উৎপাদন, বণ্টন ও ভোগের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। সকল অর্থনৈতিক কার্যক্রম একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার আওতায় রাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত হয়। ফলে সম্পদের অপচয়ও কম হয় এবং মোট জাতীয় উৎপাদনও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে সম্পদের সুষম বণ্টন হয়। এভাবেই সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনকারী, ভোক্তা বা কোনো ব্যক্তিবিশেষ স্বেচ্ছাচারিতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে না। পরিশেষে বলা যায়, রবিনের যোগ্যতা অনুযায়ী রাষ্ট্র কর্তৃক কাজ পাওয়া তার দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে প্রতিফলিত করে।